ঝালকাঠিতে গ্রেফতার আতংকে হরতাল অবরোধে মাঠে নাই জেলা বিএনপি। বিএনপি জামাতের ডাকা গত ৩ দিনের অবরোধ কর্মসুচীতে ঝালকাঠি শহরে কোন পিকেটিং করতে দেখা যায় নাই। দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত খোলা রয়েছে।কর্মসূচীতে ঝালকাঠি শহরে বিএনপি ও জামায়াতের কোন নেতাকর্মীদের তৎপরতা ছিল না। গ্রেফতারের ভয়ে গাঢাকা দিয়েছে বেশীরভাগ নেতাকর্মী। এমনকি ঝালকাঠি শহরের নিজ বাসাবাড়ি ছেড়ে গ্রামগঞ্জে আত্মীয় স্বজনের বাসা বাড়িতে রাত্রিযাপন করছেন অনেক নেতা। দিনের বেলাও রাস্তাঘাটে দেখা মেলে না জেলা বিএনপি’র নেতাদের। বৃহস্পতিবার নলসিটি উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি হেলাল খানকে গভীর রাতে নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে নলসিটি থানা পুলিশ। তবে ঝালকাঠি আদালতে নিয়মিত কোর্ট করছেন জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক এডভোকেট সৈয়দ হোসেন। দলীয় কর্মীরা প্রশ্ন তুলেছে অবরোধের মদ্যে তিনি কিভাবে নিয়মিত কোর্ট করছেন?
এদিকে জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব এডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন তার বাসায় তালা মেরে আত্ম গোপনে রয়েছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইলে ফোন কল দিলে বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। মিডিয়া ও দলীয় কর্মীরা কেহ তার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছেন না। ফলে হতাশায় মনোবল ভেঙ্গে পড়েছে দলীয় কর্মীদের। তার বিরদ্ধে প্রশ্ন ও অভিযোগ তুলে সাবেক বিএনপি’র দায়িত্বশীল কয়েকজন বলেন, আহ্বায়ক কমিটির দায়িত্ব পাওয়ার পর এডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন দলের ত্যাগী নেতাদের বঞ্চিত করে তার পছন্দের লোকদের উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটিতে পদপদবী দেয়ায় বিএনপিকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, আওয়ামীলীগ ও যুবলীগ নেতাদের সাথে লিয়াঁজো ও সমন্বয় করে কতিপয় সুবিধাবাদী বিএনপি নেতা ঝালকাঠিতে ঘোরাফেরা করছে নির্বিঘেœ। তারা দলীয় কোন কর্মসূচীতে যোগদান করছে না।
রুট লেভেলের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছে দলীয় এমপি প্রার্থী এবং পদপদবীধারী নেতাদের উপর। কর্মীদের মধ্যে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পোষ্ট দিয়ে নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের কথা জানাচ্ছেন।
অবরোধের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে ঝালকাঠি – পিরোজপুর, ঝালকাঠি -বরিশাল এবং বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কের নলছিটি অংশের কিছু স্থানে বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এবং ইট ফেলে রাস্তায় ব্যারিকেট দিয়ে অবরোধ করার চেষ্টা চালায়। নেতাকর্মীরা অবরোধের সমর্থনে এবং সরকারের পদত্যাগের দাবীতে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। পরবর্তীতে নলছিটি অবরোধ এলাকায় পুলিশ গিয়ে নেতাকর্মীদের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
নাশকতা এড়াতে শক্ত অবস্তানে রয়েছে ঝালকাঠি জেলা পুলিশ। অপরদিকে জ্বালাও, পোড়াও, অগ্নিসংযোগ, গাড়ী ভাংচুর এবং হরতাল অবরোধ প্রতিরোধে জেলার ও শহরের বিভিন্ন স্পটে মোটর সাইকেল মোহড়া দিয়েছে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ। ঝালকাঠি মহিলা কলেজের সামনে, ফায়ার মোড়, বাস ষ্ট্যান্ড, সাধনার মোড়সহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সরকারী দল ও অঙ্গ সংগঠনের তৎপরতা লক্ষ করা গেছে।
ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বে) এ্যাড. মিজানুর রহমান মুবিন জানান, আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশের নামে মহড়া দিচ্ছে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাচ্ছে এবং হুমকি ধমকি দিচ্ছে, অপরদিকে পুলিশ নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে। ২৯ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ২৬ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুরাতন গায়েবী মামলায় আসামী করেছে।তিনি আরো বলেন, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মামলা-হামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করছে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শণ করছে। সকল প্রতিকুলতার মধ্যেও আমরা অবরোধ করছি। গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে আছি থাকবো বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত।’
ঝালকাঠি জেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে নেতৃবৃন্দ জানান, ‘আমরা নাশকতারোধে এবং শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাঠে সজাগ রয়েছি। বিএনপি জামায়াত কর্তৃক যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা শক্ত হাতে প্রতিরোধ করা হবে।”