বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

শিরোনাম :
শিরোনাম :
লামায় ফাঁসিয়াখালীতে বন্য হাতির আক্রমণে একজন নিহত পাবনা-৪ নবনির্বাচিত এমপি’র সাথে আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা ঈশ্বরদীতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে: আরিফুর রহমান আটঘরিয়ায় বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে পেঁয়াজ বীজ কন্দ ফসলের উৎপাদনের উপকরণ বিতরণ আটোয়ারীতে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা চৌহালীতে বালুবাহী বল্কহেড চলাচলে যমুনা নদীর পুর্ব তীর রক্ষা বাধ হুমকিতে পড়েছে চাটমোহরে মানবিক ছোঁয়া: অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে নবনির্বাচিত এমপি ও উপজেলা প্রশাসন আটোয়ারীতে তিন দিনব্যাপি কৃষক-কৃষাণী ও উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ

কুলিয়া এলাহী বক্স দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার কে চুক্তির তিন লক্ষ টাকা দিয়েও মিলল না চাকুরী

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: রবিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৩, ৪:৪০ অপরাহ্ণ

সাতক্ষীরা দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া এলাহী বক্স দাখিল মাদ্রাসা শূন্য পদে  প্রার্থী নিয়োগে ব্যাপক নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে    ভারপ্রাপ্ত সুপার আনারুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে। আনারুল ইসলাম এলাহী বক্স দাখিল মাদ্রাসার বর্তমান  সভাপতি আসাদুল ইসলাম মনোনীত   ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব নিয়ে চালাচ্ছে ব্যাপক নিয়োগ বানিজ্য।
গত শুক্রবার ২৭ শে অক্টোবর বেলা ১১ টায় দক্ষিণ কুলিয়াস্থ এলাহি বক্স দাখিল মাদ্রাসার নিজশ্ব ভবনে নিয়োগ পরিক্ষার বোর্ড বসানো হয়। নিয়োগ বোর্ডে ঢাকা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে নিয়োগ প্রাপ্ত  ডিজি প্রতিনিধি ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অনুমোদিত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ২ টি পদে নিয়োগ হওয়ার কথা থাকলেও আয়া পদটিতপ নানা অনিয়ম ও আবেদন কারিদের উপস্থিতি না থাকায় উক্ত পদটি সাময়িক বন্ধ রাখা হয়।  নিরাপত্তা প্রহরী পদের ১০ জন আবেদন কারীর উপস্থিতিতে ১ টি পদে নিয়োগ বোর্ড পরিচালনা করা হয়। নিরাপত্তা কর্মি পদে ১০ জন নিয়োগ পরিক্ষা দিলেও বর্তমান সভাপতি আসাদুল ইসলাম একনিষ্ঠ সহচর শিবির নেতা  ইমদাদুল ইসলামের ছেলে ইয়াকুব আলীকে উত্তীর্ণ দেখিয়ে পরিক্ষার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, পরিক্ষার আগে থেকেই আমরা শুনছি ইমদাদুল শেখের ছেলে ইয়াকুব আলীকে সভাপতি চাকুরী  নিবেম।
বিপুল অর্থের বিনিময়ে নিরাপত্তা কর্মি পদে তাকে নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানান অনেকে। এদিকে নিয়োগ বোর্ড শেষ হওয়ার পরে ঘটে বিপত্তি,  মাদ্রাসার পাশে বসবাস কারী আশরাফুল ইসলাম এর সাথে মাদ্রাসা ভারপ্রাপ্ত সুপার আনারুল ইসলামের সাথে নিয়োগ সংক্রান্ত কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা।
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারের সাথে হাতাহাতির ঘটনায় জানা যায়, আশরাফুল ইসলামের  জামাতা আলিপুর তালবেড়ি গ্রামের শোয়েব আলীকে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিরাপত্তা কর্মি পদে নিয়োগ দেওয়ার  কথা। মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আনারুল ইসলামের সাথে তাদের ১০ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়েছে।  গত সোমবার ২৩ শে অক্টোবর মাগরিবের সময় মটর সাইকেল যোগে তালবেড়ি তার জামাতা শোয়েব আলীর বাড়ি থেকে ৩ লক্ষ পরিক্ষায় খরচ হবে বলে আগাম নিয়ে আসছে।পরিক্ষার পরপরই বাকি ৭ লক্ষ  টাকা দেওয়ার কথা।  এছাড়া আগে আমাদের কাছ থেকে নানা খরচ বাবদ ১০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে শোয়েব আলীর ভাই বলেন, আমার সাথে সব কথা হয়েছে। আমরা চাকরি নিশ্চিত ভেবে আমাদের ফসলি জমি কম দামে বিক্রি করে তড়িঘড়ি করে টাকা যোগাড় করেছি।ভারপ্রাপ্ত সুপার আমার ভাইয়ের চাকুরী নিশ্চিত হবে বলে আমার কাছ নগত তিন লক্ষ টাকা নিয়ে গেলো। আমরা ও নিশ্চিত ছিলাম আমার ভাই শোয়েব আলীর চাকরি হবে। অন্যদিকে মাদ্রাসা  সভাপতির মনোনীত লোক আছে সুপার আনারুল ইসলাম আমাদের সেটা জানাইনি।  এখন আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই। এদিকে  ভারপ্রাপ্ত সুপার আনারুল ইসলামের কাছে টাকা ফেরত চান শোয়েব আলীর শশুর আশরাফুল। টাকা  ফেরত চাইলে ভারপ্রাপ্ত  সুপার আনারুল বলেন, কিসের টাকা তখন তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আশরাফুল ইসলাম বলেন, সুপার আনারুল ইসলাম তার গ্রহনকৃত ঘুষের টাকা যাতে ফেরত দিতে না হয়  সেই জন্য আমার সাথে খারাপ ব্যাবহার করে  হাতাহাতির করে। এই ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে সখিপুরের দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে পুলিশ কেস ব্যাবস্হা পত্র গ্রহন করেন বলে শুনেছি। হাতাহাতির ঘটনায়  উভয় পক্ষ দেবহাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দিবেন বলে জানা যায়।
এদিকে ভারপ্রাপ্ত সুপার আনারুল ইসলামের  নিয়োগে ঘুষ বানিজ্যে কথা বর্তমান সভাপতি আসাদুল ইসলাম কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সুপারের বিষয়ে কিছু জানিনা, সুপার নিয়োগ দেওয়ার কেউ নয়, বোর্ডে পরিক্ষায় যে কৃতকার্য হয়েছে সেই চাকুরী পেয়েছে। ভারপ্রাপ্ত  সুপার আনারুল ইসলাম এমন কাজ যদি করে তার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত সুপার আনারুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি সম্মুখে আসেনি। তার ব্যবহৃত  মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ফোনটি রিসিভ করেন নি। এদিকে এলাকার সুশীল সমাজ বলছেন এই নিয়োগ কে কেন্দ্র করে, ভারপ্রাপ্ত সুপার প্রয়অর্ধকোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে।  মাদ্রাসা এলাকার একাধিক বাসিন্দারা এই অর্থলোভী আনারুল হুজুরের বিচারের দাবিতে ফুসে উঠেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর