রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ন

ই-পেপার

শিরোনাম :
শিরোনাম :

পৌর সদরের হালচাল- ৩ ; সুন্দরগঞ্জে অপরিকল্পিত ড্রেন, কাজে আসবে তো

এম এ মাসুদ, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২২, ৭:৪১ অপরাহ্ণ

টেকসই উন্নয়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের পূর্ব শর্ত হলো সঠিক কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন। আর পরিকল্পনা প্রণয়নে একটুখানি ভুলে সরকারি অর্থের অপচয় হলেও কাজে আসে না সেই প্রকল্প, অবসান ঘটে না ভোগান্তির। ৮১ লাখ ৯৫৬ টাকা ব্যয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌর সদরের মীরগঞ্জ বাজারে নির্মাণাধীন ৩৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের পয়োনিষ্কাশন ড্রেনটিও ঠিক এমনই একটি অপরিকল্পিত প্রকল্প। যার বাস্তবায়নের কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। পয়োনিষ্কাশনে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে পুরোনো ড্রেনের স্থলে পুনরায় ড্রেনটি নির্মাণ হওয়ায় পৌরবাসীর সেই ভোগান্তির অবসান ঘটবে না।
জানা গেছে,  পৌরসভায় রূপান্তরিত হওয়ার বেশ কয়েক বছর আগে পয়োনিষ্কাশনের জন্য  খানিকটা আবাসিক এবং খানিকটা অনাবাসিক এলাকা দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে প্রায় ওই ৩৬০ মিটার ড্রেন নির্মাণ করে দহবন্দ ইউনিয়ন পরিষদ। দীর্ঘদিনেও ড্রেনটির কোনো সংস্কার না হওয়ায় পয়োনিষ্কাশনের অযোগ্য হয়ে পড়ে তা। এ নিয়ে প্রতিদিনের সংবাদে খবরও প্রকাশিত হয় বছর দুয়েক আগে। বিষয়টি নজরে এলে সুন্দরগঞ্জ ও মীরগঞ্জ বাজারে আধুনিক ড্রেন নির্মাণের জন্য নকশাও করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু নকশা অনুযায়ী সুন্দরগঞ্জে ড্রেনের কাজ সম্পন্ন হলেও ভোটের রাজনীতিতে মার খায় মীরগঞ্জ বাজার। নাগরিকরা বঞ্চিত হয় আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা থেকে। পরে গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প- ২ (আই ইউ আই ডি পি)  ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ওই ৩৬০ মিটার ড্রেন নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহবান করে এবং প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ৮১ লাখ ৯৫৬ টাকা। আর ঠিকাদারি কাজ পান আজহারুল ইসলাম নামের এক ঠিকাদার।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাসিম মিয়ার বাসা থেকে পশ্চিমে বটতলা পর্যন্ত ১০০ মিটার আবাসিক এলাকা দিয়ে এবং বাকি ২৬০ মিটার (কম-বেশি) বাজারের পশ্চিম ও উত্তর পাশে আবাসিক এলাকা দিয়ে না করে (অনাবাসিক) অপর পাশে করা হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে ড্রেনটি নির্মাণ করায় পয়োনিষ্কাশন যে বাধাগ্রস্ত হবে তা সহজেই অনুমেয়। আর নাগরিকরা বঞ্চিত হবেন তাদের প্রত্যাশিত সেবা থেকে।
স্থানীয় অধিবাসী ফারুক আহমেদ, লেচু মিয়াসহ কয়েকজন বললেন, ‘শহর এলাকায় পয়োনিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ করা উচিৎ আবাসিক এলাকা দিয়ে। সুন্দরগঞ্জে এটি হলেও মীরগঞ্জে তা হয়নি। কারণ ভোটের হিসাব-নিকাশ। আর ড্রেনের উপর অংশ ব্যবহৃত হয় ফুটপাত হিসেবে যা পথচারীরা ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু এখানে হয়েছে ঠিক তার উল্টো।
এতে কমেছে বাজারের জায়গা, আর অব্যবহৃত থাকছে ফুটপাত।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার সাবেক প্রকৌশলী জানিয়েছিলেন, ‘ ড্রেন হলো বটে, কিন্তু এটি সার্ভায়্যাবল হবে না।’
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য পৌর প্রকৌশলী ( ভারপ্রাপ্ত)  মোঃ শহিদুল হকের সাথে অফিসে ও মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে মেয়র আব্দুর রশিদ রেজা সরকার ডাবলু বলেন, ‘ ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর