যশোর জেলার অভয়নগরে মোড়ে মোড়ে ডিলার, যুবসমাজ টার্গেটে সংঘবদ্ধ চক্র। মাদকের ভয়াবহ সিন্ডিকেটের ছড়াছড়ি ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ, আতঙ্কে অভিভাবক, মোড়ে মোড়ে প্রকাশ্যে বিক্রি, প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন।
উপজেলায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে প্রতিদিন। উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের প্রায় সর্বত্রই গড়ে উঠেছে প্রভাবশালী মাদক সিন্ডিকেট, এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। হাত বাড়ালেই মিলছে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। প্রকাশ্যে বিক্রি ও সেবনের ঘটনায় দিশেহারা সাধারণ মানুষ, আতঙ্কে অভিভাবকরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজার, স্কুল-কলেজ সংলগ্ন এলাকা, এমনকি গ্রামীণ জনপদেও রাত-দিন নির্বিঘ্নে চলছে মাদক বেচাকেনা। কিশোর ও তরুণদের একটি বড় অংশ দ্রুত জড়িয়ে পড়ছে নেশায়। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিতি, চুরি-ছিনতাই ও পারিবারিক সহিংসতার মতো ঘটনাও বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একাধিক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। কখন কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে, কিছুই বোঝা যায় না। এলাকায় মাদকের এমন সহজলভ্যতা আগে কখনও ছিল না। অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে পুরো উপজেলাজুড়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। ইউনিয়নভিত্তিক ‘ডিলার’ ও ‘হোম ডেলিভারি’ পদ্ধতিতে মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এভাবে প্রকাশ্যে ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়।
একজন সচেতন নাগরিক বলেন, রাতে নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে মোটরসাইকেলে করে মাদক সরবরাহ হয়। অনেকেই দেখেন, কিন্তু ভয় ও প্রতিশোধের আশঙ্কায় কেউ মুখ খোলেন না। এত অভিযোগ ও দৃশ্যমান কার্যক্রমের পরও দৃশ্যমান অভিযান কম, এমন অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, মাঝে মাঝে ছোটখাটো অভিযান হলেও বড় সিন্ডিকেট অক্ষত থেকে যাচ্ছে। ফলে পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আসছে না। তবে প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র দাবি করেছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত আছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অভয়নগর বড় ধরনের সামাজিক সংকটে পড়তে পারে। মাদকাসক্তি বাড়লে অপরাধ, পারিবারিক ভাঙন ও শিক্ষাব্যবস্থায় বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠবে। স্থানীয় সচেতন মহল কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন, নিয়মিত ও বড় পরিসরে যৌথ অভিযান মাদক কারবারিদের রাজনৈতিক-সামাজিক প্রভাব খতিয়ে দেখা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি। অভিভাবক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা, পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিং সেবা জোরদার অভয়নগরের মানুষ এখন অপেক্ষায়, কথার বদলে কার্যকর পদক্ষেপের। যুবসমাজকে বাঁচাতে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে এই জনপদে মাদকের ছোবল আরও ভয়ংকর রূপ নেবে, এমনটাই আশঙ্কা সবার।