শনিবার ভোর ৬টা থেকে তাড়াশ চলন বিলের পাড়ে ধুম পরেছে বরশি দিয়ে মৎস্য শিকার। চলন বিলের চারিপাশে ও ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে বিলের মধ্যে বেঁধে রেখে ও মাচায় ওপর বসে বরশি দিয়ে তারা মাছ ধরায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন মৎস্য শিকারিরা। সকাল থেকে শুরু করে তাড়া সন্ধ্যা পর্যন্ত বরশি দিয়ে মাছ শিকার করেন। কারণ তাড়াশে চলন বিলে শুরু হয়েছে বরশি দিয়ে মাছ ধরার ধুম। শনিবার ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই ধুম চলবে প্রায় দুই মাস থেকে তিন মাস।
সরেজমিনে তাড়াশ চলন বিলে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি মাচায় ৪ থেকে ৫ জন মৎস শিকারী। কেউ বরশি টোপ পানিতে ফেলে বসে আছে মাছ শিকারের আশায়। কেউবা বরশিতে মাছের খাবার গুজে দিচ্ছে। কেউ কেউ এই মাছ ধরায় তাদের সহযোগিদের নিয়ে এসেছেন। এদর মধ্যে কেউ বড় মাছ পেয়ে খুব খুশি আবার কেউ আশানুপাত মাছ না পেয়ে হতাশ। তবে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় কম বেশি সবার বরশিতেই রুই, কাতল, মৃগেল, শোল, গজারসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে।
মহেশরৌহালী এলাকার মৎস শিকারী শাজাহান আলী তিনি গত ২০ বছর ধরে বরশি দিয়ে মৎস্য শিকার করেন। তিনি বলেন চলন বিলে মাছ ধরার মজাই আলাদা যখন মাছ ধরে মনে হয় মাছ মারি আর মারি। তিনি বলেন দুপুরের দিকে দুটো কাতল আর একটা রুই পাইছি। আশা করছি আরো বড় মাছ পাবো।’
নাটর থেকে আসা মৎস শিকারী জুবাইর বলেন, ‘বরশি দিয়ে মাছ শিকার করতে ভালো লাগে। তাই তাড়াশের চলন বিলে এসেছি মাছ ধরার জন্য।জেলার বাহিরে হলেও সেখানে আমার দল নিয়ে যাই।’
কাছিকাটার মৎস শিকারী জুলহাস বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন জেলায় বরশি দিয়ে মাছ ধরি। এ বছর প্রথম তাড়াশে চলন বিলে মাছ ধরতে এলাম। এখানে বিলটা অনেক বড়, পরিবেশটাও ভালো। মাছ ধরেই ভালোই আনন্দ পাচ্ছি।’
মাছ শিকার দেখতে আসা দর্শনার্থী রুনা বেগম বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে ছুটির দিনে চলন বিলের পাড়ে ঘুরতে এসে মাছ ধরার এমন দৃশ্য দেখে আরো বেশি ভাল লাগছে। প্রতি বছর যদি এমন মাছ মারার দৃশ্য দেখতে পেতাম তাহলে কতই না ভাল হত।
#চলনবিলের আলো / আপন