মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
অনলাইন ক্যাসিনো: নীরব মহামারিতে ডুবছে যুব সমাজ – সাজিদুর রহমান সুমন কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে আলোচনায় গিয়াস উদ্দিন জিকু: সাধারণ মানুষের দাবি তেলের দাম বাড়লে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে : পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল  স্বামীর সম্পত্তির অংশ দাবী করায় সমাজচ্যুত : প্রাণনাশের হুমকী আটঘরিয়ায় “ঈদ আনন্দ সবার সাথে, মাদককে না বলুন দক্ষ যুব সমাজ গড়ে তুলুন” জিন্দানী ব্লাড ব্যাংকের ৬ষ্ঠ বর্ষে পদার্পনে রাত্রিকালীন ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত বিএনসিসির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও “বিএনসিসি ডে” উদযাপিত রবিউল শুভ’র কণ্ঠে, আমিনুল ইসলাম মিন্টুর কথায় ঈদের গান ‘দুঃখ দিলি বিকল্প পাইয়া’

তাড়াশে মহেশরৌহালী গ্রামে ডিমের দামে বিক্রি হচ্ছে হাঁসের বাচ্চা

মোঃ মুন্না হুসাইন (ভ্রাম‍্যমান) প্রতিনিধিঃ
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন

হারিকেন বাতির হ্যাচারির হাঁসের বাচ্চা। ৩০ দিনে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয় একটা সময়ে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন পার করতেন আলম হোসেন। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনি হারিকেন বাতির হ্যাচারি করে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। এখন হারিকেন বাতির উত্তাপে ১ মাসেই তার হ্যাচারিতে ১ লাখ ৮০ হাজার ডিমের হাঁসের বাচ্চা ফুটানো হয়।

কিন্তু লক ডাউনের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সীমাহীন ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাড়াশ উপজেলার দুই শতাধিক হারিকেন বাতির হ্যাচারি ব্যবসায়ী। ১ ডিম ১২ টাকায় কিনে বাচ্চা ফুটানোর পর তা ডিমের দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। আর কর্মহীন হওয়ার শঙ্কায় পড়েছেন এ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হাজারো মানুষ।

নওগাঁ  ইউনিয়নের মহেশরৌহালী গ্রামের হারিকেন বাতির হ্যাচারি ব্যবসায়ী আলম হোসেন  বলেন, ব্রেডে ডিম দেওয়ার ২৮ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে হারিকেন বাতির উত্তাপে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। এই সময়ের মধ্যে ডিমের দাম বাদেও আনুষঙ্গিক আরও অনেক টাকা খরচ গুণতে হয়। আগে একদিন বয়সের ১টি হাঁসের বাচ্চা ২৬ টাকায় বিক্রি করা হতো। কিন্তু করোনার কারণে লক ডাউনের কবলে পড়ে প্রতিটি বাচ্চা মাত্র ১২ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

সরেজমিনে মঙ্গল বার মহেশরৌহালী গ্রামের আলম হ্যাচারি, বিরৌহালী গ্রামের ছাইফুলের হ্যাচারি, আব্দুর রহমানের হ্যাচারি, মহেষ রৌহালী গ্রামের মসলেমের হ্যাচারিসহ বেশ কয়েকটি হারিকেন বাতির হ্যাচারিতে দেখা গেছে, বাঁশের মাচার উপর সারিবদ্ধভাবে রাখা রয়েছে লাখ লাখ হাঁসের ডিম। এসব ডিম লেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। আর ব্রেডের নিচে প্রয়োজন সংখ্যক হ্যারিকেন বসিয়ে পরিমাণ মতো তাপ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট সময় শেষে ডিম ফুটে হাঁসের বাচ্চা বেড় হচ্ছে। প্রতিটি হ্যাচারিতেই ডিম ও বাচ্চার পরিচর্যার কাজ করছেন ৬ থেকে ৭ জন করে শ্রমিক।

নওগাঁ ইউনিয়নের বিরৌহালী গ্রামের ছাইফুল ফকির নামে আরেকজন হ্যাচারি ব্যবসায়ী বলেন, সাধারণত গরমের মৌসুমে অধিক সংখ্যক হাঁসের বাচ্চা ফুটানো হয়। এখন উপজেলার কমপক্ষে দুই শতাধিক হ্যারিকেন হ্যাচারিতে ডিম ফুটে বাচ্চা বেড় হচ্ছে। দূরদূরান্ত থেকে এসব বাচ্চা কেনার জন্য হাঁসের খামারী ও পাইকাররা যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। শুধু দেশের বিভিন্ন জেলাতেই নয়, কুষ্টিয়া-যশোর হয়ে হারিকেন বাতির উত্তাপে ফুটানো হাঁসের বাচ্চা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও যায়। কিন্তু যানবাহন চলাচল না করায় বাচ্চা বিক্রি করা যাচ্ছেনা। পরিস্থিতি এমন যে, হ্যাচারি ব্যবসায়ীদের পথে বসার মতো অবস্থা।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সোহেল আরম বলেন, হাঁসের ডিম ফুটে বের হওয়া বাচ্চাগুলো আপাতত হ্যাচারি ব্যবসায়ীদের কাছে রেখে লক ডাউন খোলার পর বিক্রি করতে হবে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত হ্যাচারিতে নতুন করে ডিম ফুটানো যাবেনা।

 

#CBALO/আপন ইসলাম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর