বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
আশারফ জিন্দানী (রহ.) মাজার ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির অনিয়মের প্রতিবাদে চাটমোহরে মানববন্ধন জ্বালানি তেলে কারচুপি রোধে বগুড়ায় ৫ ফিলিং স্টেশনে বিএসটিআইয়ের অভিযান আটোয়ারীতে সরকারি কর্মকর্তা ও সুধীজনের সাথে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে বীরগঞ্জে দিনব্যাপী কৃষক কৃষাণী প্রশিক্ষণ  ভাঙ্গুরায় অবৈধভাবে মাটি কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা,২ জনের কারাদণ্ড রাজশাহীতে সরকারি সেবাদাতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সংলাপ অনুষ্ঠিত মানিকগঞ্জে জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক এডভোকেট জামিলুর রশিদ খান দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিদের হাতে সরকারি যাকাত ফান্ডের চেক বিতরণ

যশোরে প্লাস্টিক চায়ের কাপের ব্যবহার, দূষণে জর্জরিত পরিবেশ

প্রতিনিধির নাম:
আপডেট সময়: বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন

মোঃ কামাল হোসেন যশোর থেকে:

করোনা সংক্রমন রোধে ‘প্লাস্টিকের চায়ের কাপ’ ব্যবহারে জনপ্রিয়তা বাড়লেও ব্যবহার শেষে যত্রতত্র ফেলায় পরিবেশ দূষনের আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা। করোনা ভাইরাস মহামারিতে যশোর জেলার শার্শা ব উপজেলার বেনাপোল সীমান্ত এলাকার সর্বত্র বেড়েছে প্লাস্টিকের চায়ের কাপের ব্যবহার। যা ব্যবহার শেষে ফেলা হচ্ছে যত্রতত্র। প্লাস্টিকের এইসব কাপের কারণে কতটা পরিবেশ দূষণ হচ্ছে এবং এর ব্যবহার কতটা স্বাস্থ্যসম্মত কিনা তাও জানে না ব্যবহারকারীরা। করোনার শুরু থেকে সংক্রমণ প্রতিরোধে শার্শা, বেনাপোল নাভারন ও বাগআচড়া বাজারসহ গ্রামাঞ্চলের মানুষ ব্যবহার শুরু করে প্লাস্টিকের চায়ের কাপ। বিভিন্ন চায়ের দোকানে এখন হরহামেশাই ব্যবহৃত হচ্ছে এসব প্লাস্টিক পণ্য। একবার ব্যবহৃত এই পাত্রগুলো ব্যবহার শেষে ফেলা হচ্ছে পাশের পুকুর, ডোবা, ড্রেন কিংবা রাস্তার পাশে। ফলে দূষণ হচ্ছে পরিবেশ।

 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রেতারা ওয়ান টাইম এসব পাত্র ছাড়া চা খাচ্ছেন না। অতিরিক্ত খরচ হলেও এসব পাত্রে চা পরিবেশন করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। তবে ফেলার সঠিক স্থান না থাকায় যত্রতত্র ফেলতে হচ্ছে তাদের। শার্শার উপজেলার চা দোকানি জুলফিকার আলি বলেন, “কড়ি ও কাঁচের কাপে চা বেঁচতাম।করোনা শুরু হলি প্রশাসনের লোক এসে এতে চা বেঁচতি বারন করে গেছে।তখন থেকে প্লাস্টিকের কাপে চা বেচ্ছি।অনেকে পুরোনো কাপে চা খাতি চাচ্ছে,তবে প্রশাসনের ভয়ে দিতি সাহস হচ্ছে না।”ৱ জামতলা বাজারের চা দোকানি আব্দুল কাদের বলেন,করোনা শুরুর পর থেকে ওয়ান টাইম প্লাস্টিকের কাপের ব্যবহার বেড়েছে। আগে চায়ের কাপে দিতাম। এখন অনেকেই কাপে চা খেতে চায় না। বাধ্যহয়েই ওয়ান টাইম কাপ ব্যবহার করছি। নাভারনের খলিলুর রহমান বলেন, ধরতি কষ্ট হয়,অনেক সময় গাল পুড়ে যায়। তারপরও করোনার ভয়ে প্লাস্টিকের কাপে চা খাই। এর চেয়ে মাটির কাপ ভাল।ইন্ডিয়ায় তো ওটাই চলে।এতে অন্তত পরিবেশ দূষণ হতো না।

 

বেনাপোল বাস টার্মিনাল এলাকার এক চা দোকানি শাহ জামাল বলেন,ওয়ান টাইম কাপে চা খাওয়ার পর তারা যেখানে সেখানে ছুড়ে ফেলে দিচ্ছে।নির্ধারিত পাত্র রাখলেও তা ব্যবহার করছেন না তারা। এদিকে এ ধরণের পাত্র ব্যবহারের কারণে পরিবেশ দুষণ হচ্ছে উল্লেখ করে পরিবেশবিদ নাভারন ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ের অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বুলি বলেন,সঠিক বর্জ্র ব্যবস্থাপনা না করা হলে এগুলো জমে পরিবেশের উপর মারাত্বক প্রভাব পড়বে।এক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা,বাজার কমিটির ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।নির্দিষ্ট একটি স্থানে ডাম্পিং করতে প্রশাসনিক নির্দেশনা থাকলে ব্যবহারে কোন অসুবিধা থাকবে না।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মন্ডল বলেন,করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে ওয়ান টাইম কাপ ব্যবহার উপকারি হলেও তার ব্যবস্থাপনা সঠিক না হওয়ার কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এক্ষেত্রে আমরা বিভিন্ন স্থানে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছি।সেই সাথে পরিবেশ দুষণ প্রতিরোধে আমরা বিভিন্ন সময় অভিযান চালাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এক গবেষণায় বলেছে, মুদি দোকান থেকে কেনা পণ্য বহন করার জন্য যেসব ব্যাগ ব্যবহার করা হয়, সেগুলো প্রকৃতিতে মিশে যেতে ২০ বছর সময় লাগে।

 

চা, কফি, জুস কিংবা কোমল পানীয়ের জন্য যেসব প্লাস্টিকের কাপ ব্যবহার করা হয়, সেগুলো ৫০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকে। আর ডায়াপার এবং প্লাস্টিক বোতল ৪৫০ বছর পর্যন্ত পচে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর