বইছে শীতের হিমেল বাতাস। ভোর হলেই দেখা মেলে কুয়াশার। সন্ধ্যায় অনুভূত হয় শীত। রাতের ঠান্ডায় পাতলা কাঁথায় না মানাতে পেরে মনে করিয়ে দিচ্ছে লেপ-তোষকের কথা। শীতের তীব্রতা বাড়ায় উষ্ণ গরম পেতে লেপ-তোষকের অভাব মনে করছেন আরামপ্রিয় মানুষ। চাহিদা মতো লেপ-তোষকের জন্য ক্রেতারা ভীড় জমাচ্ছে দোকানে কম্বল না কিনে পুরাতন লেপ-তোষক মেশিনে ভেঙে নতুন করে বানিয়ে নিচ্ছে অনেকেই।
সরেজমিনে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরে দেখা যায় লেপ-তোষকের দোকানের ব্যস্ততা। সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত বাহারি ডিজাইনের সেলাইয়ে ফুটিয়ে তোলা লেপ-তোষক, জাজিম তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে তারা। কেউ ভ্রাম্যমাণ দোকান-ভ্যানে ফেরি করে হাক-ডাক দিয়ে লেপ-তোষক বিক্রি করে যাচ্ছে। প্রতিটি লেপ ৬০০ থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বিদেশী কম্বল কম দামে পাওয়া গেলেও তাদের ব্যবসায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে মনে করছে লেপ-তোষক ব্যবসায়ীরা।উপজেলার নজরুল বেডিং স্টোরের ব্যবসায়ী মো:বদর উদ্দিন বলেন, ‘কার্তিক থেকে পৌষ পর্যন্ত তিন মাস লেপ-তোষক তৈরির ব্যস্ততা বেশি থাকে। ১৫ বছর ধরে লেপ-তোষক তৈরির ব্যবসা করছি। চলতি সপ্তাহে ৯ টি লেপ-তোষক ডেলিভারি দিয়েছি এবং হাতে আরো ১০টি অর্ডার আছে। এগুলো ডেলিভারির আগেই আরো কাজ জমা হবে। অনেক ব্যস্ত সময় পার করছি।
ক্রেতা শফিকুল মোল্লা বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে শীত বেড়েছে। চার হাত প্রস্থ আর পাঁচ হাত দৈর্ঘ্য ১টি লেপ -বানাইতে দিলাম খরচ পড়বে ১ হাজার তিনশত টাকা।
দৌলতপুর বাজারের ব্যবসায়ী কাজল বাবু বলেন, ‘২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত লেপ-তোষকের ব্যবসা করছি। গার্মেন্টস থেকে আসা তুলার মান ভেদে ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি করি এবং লেপ-তোষকের কাপড়ের মান ভেদে ৫০ থেকে ৭০ টাকা গজের কাপড় দিয়ে প্রতিদিন তিন থেকে চারটি করে তৈরি করি।