‘সেবার ব্রতে চাকরি’ এই শ্লোগানে মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে ঝালকাঠিতে পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে ২০ জন তরুন তরুনী চাকুরি পেয়েছেন। এরা সকলেই জেলার বিভিন্ন কলেজে অধ্যয়নরত। এই চাকরি পেতে অনলাইন আবেদন বাবদ জন প্রতি খরচ হয়েছে মাত্র দেড়শো টাকা।
রবিবার (২৪ নভেম্বর) রাতে ঝালকাঠি পুলিশ লাইনে নতুন চাকরি পাওয়া এই তরুণ-তরুণীদের পরীক্ষার চ‚ড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন ঝালকাঠির পুলিশ সুপার উজ্জল কুমার রায়।
এতে মেধার ভিত্তিতে ১৯ জন এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ১ জন প্রাথমিকভাবে কনষ্টেবল পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এ সময়ে তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে মিষ্টি খাইয়ে দেন জেলা পুলিশ সুপার।
কোনো প্রকার হয়রানি, সুপারিশ এবং ঘুষ ছাড়া পুলিশের গর্বিত সদস্য হতে পেরে খুশিতে আত্মহারা হত দারিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারে এসব তরুণ-তরুণী।
রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় সেপ্টেম্বর ২০২৪ এর ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদের নিয়োগ পরীক্ষার চ‚ড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে তাদের নির্বাচিত করা হয়।
চুড়ান্ত ফলাফল ঘোষনার সময় এক আনন্দঘন মুহ‚র্ত দেখা গেছে পুলিশ লাইনের ড্রিলসেডে। নিজ যোগ্যতায় ও মেধায় চাকরির ফলাফল পাওয়া মাত্রই ১০ জন তরুণ-তরুণী আনন্দে বিমোহিত হয়। এ সময় পুলিশের ড্রিল শেড মুহ‚র্তের মধ্যে পরিণত হয় আনন্দ ও কান্নার মিলনমেলায়।
অনেকের নাম ঘোষণার পরপরই দুই নয়ন অশ্রæতে ভিজে যায়। অনেকেই চাকরি পেয়ে আনন্দ উল্লাস করেন। এমন স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিনাম‚ল্যে চাকরি পেয়ে খুশিতে সন্তানকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দেয় অনেক বাবা মা।ফলাফল ঘোষনার পরে চাকরি পাওয়া নারী শিক্ষার্থী অনু আক্তার রিমা বলেন, জীবনে প্রথমবার চাকরির আবেদন করে আজ নিজের মেধা ও যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছি। এজন্য জেলা পুলিশ বিভাগকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বালিঘোনা গ্রামের যুবক মো. ছানি বলেন, ‘আমি এর আগে বহু বার মাঠে এসেছি প্রতিবারই বাদ পড়েছি। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। আজ ১৩ নম্বর অংশগ্রহন করে স্বপ্নের চাকুরিটা পেয়ে গেলাম। আমি কতটা খুশি হয়েছি তা ভাষায় বোঝাতে পারবোনা।’
পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পাওয়া তরুণ-তরুণীদের কয়েক জন অভিভাবক বলেন, ছেলে-মেয়েদের নিয়ে খুবই চিন্তায় ছিলাম। মানুষের কাছে শুনেছি সরকারি চাকরি নিতে গেলে টাকা লাগে, লোক ধরা লাগে। কিন্তু এখন দেখি সব ধারণা ভুল। মাত্র ১২০ টাকা দিয়ে যে পুলিশে চাকরি হবে কখনও চিন্তাও করিনি। এতো সুন্দর ও স্বচ্ছভাবে পুলিশে চাকরি পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ জানান তারা।
ঝালকাঠি পুলিশ সুপার উজ্জল কুমার রায় বলেন, ‘যারা আজ নিয়োগ পেয়েছেন তারা সবাই নিজেদের যোগ্যতায় ও মেধায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। সম্পুর্ণ স্বচ্ছভাবে ঝালকাঠিতে ২০ জনকে নিয়োগ দিয়েছি। এখানে সবাই মেধাবী। এরা রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপ‚র্ণ দায়িত্ব পালন করবে। ঘুষ ছাড়া যেহেতু চাকরি হয়েছে তারা সৎভাবেই দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা করি।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মো: মুকিত হাসান খাঁন ও বরিশাল রেঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পুলিশ সুপার রেজোয়ানা কবির প্রিয়া ও জেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।