শুক্রবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৫, ১২:৪১ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

আপত্তিকর ছবি ছড়াতেন সাবেক স্বামী, অভিমানে মিমের আত্মহত্যা

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৪, ৭:৫১ অপরাহ্ণ

ফেসবুক সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়ানোর অভিমানে বিষপান করে মিম আক্তার (১ ৮) আত্মহত্যা করেছে। সোমবার রাতে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মিম আক্তার। তিনি রাণীনগর উপজেলার মালশন গ্রামের আসাদুল প্রামানিকের মেয়ে।

মিমের পরিবারের অভিযোগ- গত কয়েক মাস যাবৎ ফেসবুক সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিমের সাবেক স্বামী প্রবাসী হেলাল সরদার (২৭) আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়াচ্ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে অপমান ও অভিমানে মিম আত্মহত্যা করে। অভিযুক্ত হেলাল সরদার একই এলাকার আকনা গ্রামের মকলেছুর সরদারের ছেলে।

স্থানীয় ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আকনা গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী হেলাল সরদারের সাথে একই এলাকার মালশন গ্রামের মিম আক্তারের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাসের মাথায় পারিবারিক কলহের জেরে গত ৭ জুলাই দু’জনের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে হেলাল “মিম আক্তার” নামে একটি ফেসবুক আইডি খুলে সেখানে মিমের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পোস্ট করতে থাকে। শুধু ফেসবুকই নয় হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে মিমের অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে। এমনকি মিমের হোয়াটসঅ্যাপে এসব ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে তাকে উত্যক্ত করত হেলাল। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিমান করে সোমবার রাত ৮টার দিকে মিম বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে মারা যায় মিম।

মিমের বাবা আসাদুল প্রামানিক বলেন, আমার মেয়ের বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পর থেকেই হেলাল নানাভাবে বিরক্ত ও উত্যক্ত করে আসছিল। তার নামে ফেসবুক আইডি খুলে নানা রকম ছবি ও ভিডিও পোস্ট করতো। আমার মেয়েকেও হোয়াটসঅ্যাপে সেসব দিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে বলতো তোর জীবন শেষ করে দিবো। এসব জানাজানি হলে আমার মেয়ে সবার অজান্তে ঘরে বিষ খায়। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর মেয়েটা মারা যায়। হেলাল সহ এর সাথে যারাই জড়িত থাক, তাদের সবার কঠিন শাস্তি চাই। এ ঘটনায় আমরা থানায় মামলা করবো।

এদিকে অভিযুক্ত প্রবাসী হেলাল সরদারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তা সম্বব হয়নি। তার বাড়িতে গেলে তার বাবা মকলেছুর সরদার বলেন, মিমের পরিবার থেকে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা মিথ্যা। আমার ছেলে যদি আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে থাকে আর তা যদি প্রমাণ হয় তাহলে ওর শাস্তি হবে।

এ বিষয়ে রাণীনগর থানার ওসি মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবস্থান মিম আক্তার মারা গেছেন শুনেছি। যেহেতু নওগাঁ সদর হাসপাতালে মারা গেছে, যার কারনে সদর থানা পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর