মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

প্রকৃত অপরাধী ম খা, আলমগীর ওমাহবুবুল হক বাবুল চিশতীকে আড়াল করতে বড় ‘ছলচাতুরি’

কামরুজ্জামান কানু, জামালপুর প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০২৪, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ

একসময়ে চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে দাপটের সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংক। ২০১৩ সালে লাইসেন্স পাওয়া ব্যাংকটি বাণিজ্যিক কার্যক্রমে এসে একের পর এক ঘটনার জন্ম দেয়। ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা মিলে উদীয়মান ব্যাংকটিকে যেন গলা চেপে ধরেছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের অল্প সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীর ফারমার্স ব্যাংককে ব্যবহার করেছেন টাকা কামানোর মেশিন হিসেবে। তার সময়ে প্রদান করা প্রায় প্রতিটি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়াই প্রমাণ করে কতটা লুটপাটের নেশায় মেতেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এই নেতা।ব্যাংক লুটপাট করে একের পর সমালোচনা আর গ্রাহকদের টাকা দিতে না পারায় একসময় তাকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ফারমার্স ব্যাংক নিয়ে বিশেষ তদন্ত করে। যেখানে বের হয়ে আসে কীভাবে জালিয়াতি করে ম খা আলমগীর ও তার ঘনিষ্ঠজন তৎকালীন ইসি কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক ওরফে বাবুল চিশতী ব্যাংকটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ৯ জানুয়ারি ২০১৮ এবং ২৯ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখের অনুসন্ধান ও তদন্ত প্রতিবেদনের কপি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওইসব প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে করে উল্লেখ করা হয়েছে, কীভাবে ম খা আলমগীর ও বাবুল চিশতী ঋণ জালিয়াতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করে ব্যাংকটিকে ধ্বংস করে দিয়েছেন।ইতোপূর্বে দুদকের করা মামলায় সাজা ভোগ করছেন মাহবুবুল হক বাবুল চিশতীর বাড়ী জামালপুরের বকশিগঞ্জে,, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনে আত্মগোপনে রয়েছেন ম’খা আলমগীর। এর পরের ঘটনার সঙ্গেও পরিচিত দেশের মানুষ। এমন অবস্থায় মৃতপ্রায় ফারমার্স ব্যাংকের নাম পরিবর্তন করে দেওয়া হলো ‘পদ্মা ব্যাংক’। ব্যাংকটিকে বাঁচাতে এগিয়ে এল রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো। সেখানে তাদের মালিকানা প্রায় ৭০ শতাংশ। যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিনের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাতকে করা হলো ব্যাংকটির চেয়ারম্যান। নতুন নামে শুরু করা পদ্মা ব্যাংকে যে কোনো রকমের ঋণ দেওয়াও ছিল পুরোপুরি নিষিদ্ধ। ব্যাংকটিকে দুরবস্থা থেকে বের করে আনতে ঋণের টাকা উদ্ধারে পুরোনো ঋণ গ্রহীতাদের কাছে ছুটতে থাকেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা। অনেক ক্ষেত্রে ঋণ আদায় না করতে পেরে মামলাও করেছে পদ্মা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। মোটাদাগে ব্যাংকটিকে রুগ্‌ণ দশা থেকে বের করে আনতে তখনকার চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কর্মকর্তারা ছিলেন অত্যন্ত তৎপর।

সম্প্রতি পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত-এর বিরুদ্ধে দুষ্ট চক্র চক্রান্ত শুরু করেছে। ‘উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে’ চাপিয়ে কোনো একটি মহল নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে উঠেপড়ে লাগে। ব্যাংকের ঋণ বিতরণ ও জালিয়াতির ঘটনার সঙ্গে অহেতুক তাকে জড়ানোর জন্য নানা চেষ্টায় লিপ্ত হয় তারা। নামসর্বস্ব কিছু পত্রিকায় ভিত্তিহীন ও অমূলক রিপোর্ট তৈরি করে ছাপানো হয়। সেসব রিপোর্টে নানা অসঙ্গতি রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডকে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন ব্যাংকটির শীর্ষ কর্মকর্তারা।

ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত চেয়ারম্যান থাকার সময়ে ব্যাংকটির ঋণ বিতরণই ছিল বন্ধ। পদ্মা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ‘পদ্মা ব্যাংক নামকরণ করার পর থেকে পুরোপুরি বন্ধ ছিল ঋণ বিতরণ কার্যক্রম’। তাহলে ব্যাংকটি এই সময়ে কীভাবে মুনাফা করেছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘ওই সময়টা আমাদের জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল, আমরা ঋণ দিতে পারিনি তবে এফডিআর করে ব্যাংকের খরচ ওঠানোর চেষ্টা করা হতো।’ নাফিজ সরাফাতের সময়ে কোনো ঋণ বিতরণ কিংবা জালিয়াতি হয়েছে কি না প্রশ্ন করা হলে তার উল্টো প্রশ্ন ‘যে সময়ে ঋণ বিতরণ বন্ধ সে সময়ে কী করে টাকা নয়ছয় করা সম্ভব?’

যে সময়ে ফারমার্স ব্যাংকটিতে জালিয়াতির মাধ্যমে ধ্বংস করা হয় তখন ওই ব্যাংকের সঙ্গে চৌধুরী নাফিজ সরাফাত কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। অথচ তার নাম জড়িয়ে বানোয়াট ও কাল্পনিক সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে। এটা সাংবাদিকতার নীতিমালার চরম লঙ্ঘন।

একটি পত্রিকার রিপোর্টে দুদকের কর্মকর্তাদের বরাত দেওয়া হলেও তাতে কারও নাম উল্লেখ নেই। যেসব ঋণের নামে জালিয়াতির কথা বলা হয়েছে, তার সঙ্গেও নাফিজ সরাফাতের নেই ন্যূনতম কোনো যোগসূত্র। রিপোর্টের এক জায়গায় লেখা হয়েছে, ১৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকার সফটওয়্যার কিনতে নাফিজ সরাফাত একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৮ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছে। যেখানে সফটওয়্যারের দামই ১৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, সেখানে সেই প্রতিষ্ঠান ৮ কোটি টাকা ঘুষ দেবে এমন যুক্তি হয়তো শিশুদের কাছেও হাস্যকর মনে হবে।

নাফিজ সরাফাতকে ব্যবসায়িকভাবে হয়রানি করতেই কোনো গোষ্ঠী এমন কাজ করেছে বলে মনে করেন আর্থিক খাত-সংশ্লিষ্টরা। কুচক্রী মহল তাদের উদ্দেশ্য সাধনে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদকের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকে উস্কে দিতে এমন রিপোর্ট করেছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই। কেউ কেউ ঈর্ষান্বিত হয়ে তার সুনাম ও ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার হীন উদ্দেশ্যে তৎপরতা শুরু করেছে বলেও মন্তব্য করেন অনেকে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হয়েছে। পেছনের ব্যর্থতা ভুলে নতুন করে এগিয়ে যেতে প্রত্যয়ী ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তবে যাদের জন্য ব্যাংকটির এই দুর্দশা পোহাতে হয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত একজন সফল উদ্যোক্তা। তিনি দেশের অবকাঠামো এবং জ্বালানি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং লাখো মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে উন্নত করার লক্ষ্যে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর