শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন

ই-পেপার

নান্দাইলে ২৯ বছর যাবত অবৈধভাবে মাদ্রাসার সুপার ও অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল, ২০২৪, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ফাযিল মাদ্রাসার সুপার পদে প্রায় দুই বছর ও অধ্যক্ষ পদে অধ্যবধি পর্যন্ত বিধিবহিভূর্তভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন মো. আব্দুল হাই। যিনি নিয়োগকালীন সময়ে নিজেই ভারপ্রাপ্ত সুপারইনটেন্ডেন্ট হয়ে সুপার পদে নিয়োগটি বাস্তবায়ন করেছিলেন। এ বিষয়ে এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাদ্রাসার সুপার আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে সরজমিন তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৮ই মার্চ/২৪ইং নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর নোটিশ জারী করেছেন মাদ্রাসা বোর্ড ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়।
জানাগেছে, বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা সমূহ) এর জনবল কাঠামো সম্পর্কিত নীতিমালা-১৯৯৫ সনের গেজেট ব্যাতিরেখে ও অনুমোদিতহীন একটি লোকাল পত্রিকায় আচারগাঁও ফাযিল মাদ্রাসার সুপার পদে ১০শে জূলাই/১৯৯৫ইং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তিনদিনের মধ্যে তরিঘড়ি করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। অত্র নিয়োগে সুপার পদের জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই ফাযিল সহ সকল পরীক্ষায় নূন্যতম ২য় বিভাগে উর্ত্তীণ ও কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন থাকলেও শিক্ষকতা যোগ্যতায় অযোগ্য ব্যক্তি মো. আব্দুল হাইকে সুপার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যেখানে অভিজ্ঞতাতো দূরের কথা তিনি ফাযিল ও কামিল পর্যায়ে ৩য় স্থান অর্জন করেছিলেন।
উক্ত নিয়োগে মো. আব্দুল হাই বিগত ৯ই অক্টোবর ১৯৯৫ইং সনে সুপারপদে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে ১৫ আগস্ট ১৯৯৭ইং সনে তিনি অত্র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে যোগদান করে অদ্যবধি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে সুপার পদ নিয়োগে তিনি ১৯৮২ সনে ফাজিল ৩য় স্থান ও ১৯৮৫ সনে কামিল (হাদিস) ৩য় স্থান অর্জনের সার্টিফিকেট দেখালেও সর্বশেষ তিনি কামিল (ফিকাহ) পর্যায়ে ১৯৯৫ সনে ২য় স্থান অর্জন দেখিয়েছেন। যেখানে কামিল (ফিকাহ)র রেজাল্ট প্রকাশ হয় ১৯৯৬ সনে। তাহলে কিভাবে তিনি রেজাল্ট এর পূর্বেই তিনি সুপার পদে চাকুরী লাভ করেছেন ?- তা নিয়ে এলাকায় নানান গুঞ্জন থাকলেও তাঁর ভয়ে কোন শিক্ষক ও এলাকাবাসী মুখ খুলতে রাজি নয়।
অবশেষে আচারগাঁও গ্রামের মোহাম্মদ আনোয়রুল ইসলাম অত্র সুপারের বিরুদ্ধে অবৈধ নিয়োগ বাতিল সহ সরকারী অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে অভিযোগকারী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতায় থেকে একজন সুপারের দায়িত্ব পালন তা মোটেই কাম্য নয়। বিষয়টি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠান ও সরকারের টাকা পুনরুদ্ধার স্বার্থে জরুরীভাবে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানাই।
অত্র মাদ্রসার সুপার আব্দুল হাইয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নিয়োগটি যথাযথভাবেই হয়েছে। আপনারা তথ্য প্রমাণ ফেলে নিউজ করেন এতে আমার কোন আপত্তি নাই। এ বিষয়ে ইউএনও’কে একাধিকবার তাঁর সেলফোনে কল দিলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর