পাবনার চাটমোহরে হাট ইজারার টেন্ডার দাখিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারিসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুর পৌনে ১টার দিকে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ওইদিন ছিল উপজেলা পরিষদের অধীনস্থ হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার শিডিউল দাখিলের শেষ দিন। বিকেল ৩টায় টেন্ডার বাক্স খোলার সময় নির্ধারিত ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের বরাতে জানা যায়, ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আওরঙ্গজেব ছাইকোলা হাটের টেন্ডার শিডিউল দাখিল করতে গেলে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কয়েকজন কর্মী তার ওপর হামলা চালান। পরে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান হাবিব (যিনি ইউএনও অফিসে ব্যক্তিগত কাজে এসেছিলেন) বের হওয়ার সময় ‘জামায়াতের সেক্রেটারি এখানে কেন’ বলে তার ওপরও ঝাঁপিয়ে পড়ে মারধর শুরু করেন।
এ সময় পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সাদ্দাম হোসেনসহ ৪-৫ জন আহত হন। পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও হামলাকারীদের থামাতে ব্যর্থ হন; তারা শুধু বাঁশি বাজান। পরে একজন বিএনপি নেতার সহায়তায় হাবিবুর রহমান নিজেকে রক্ষা করেন।
হাবিবুর রহমান বলেন, “আমি ইউএনওর কাছে এলাকার একটি সমস্যা নিয়ে এসেছিলাম। টেন্ডার দাখিলের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক ছিল না। রুম থেকে বের হতেই বিএনপি কর্মীরা আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।” তিনি জানান, স্থানীয় এমপি ও উপজেলা আমিরের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
মুলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি লিখন বিশ্বাস বলেন, তিনি শুধু শিডিউল দাখিলের সময় জানতে গিয়েছিলেন। ঝামেলা দেখে পরে জেনেছেন, কিন্তু হামলায় জড়িত নন।
চাটমোহর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জিয়ারুল হক সিন্টু বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। তিনি নিজে হাবিব ভাইকে নিরাপদে সরিয়ে এনেছেন।
ইউএনও মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, “ঘটনা ঘটেছে, এটি ফৌজদারি অপরাধ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন ছিল, তবু কীভাবে ঘটল তা বোঝা যাচ্ছে না। থানার ওসি ভালো বলতে পারবেন।”
চাটমোহর থানার ওসি গোলাম সারওয়ার হোসেন বলেন, “অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিকেলে মথুরাপুর ইউনিয়নের সারোড়া গ্রামে জামায়াতের সাবেক আমির আলহাজ্ব তোরাব আলী বিশ্বাসের বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করে পাবনা-৩ আসনের জামায়াত এমপি মাওলানা আলী আছগর হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল হামিদ, সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান হাবিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।