ময়মনসিংহের নান্দাইলে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন বাবলু মিয়া (৩৫)। গভীর রাতে প্রতিবেশী আবুল কালাম (৪০) নামে একজন কাজ আছে বলে ডেকে নিয়ে যায়। পরে সকালে বাড়ির পাশে পা বাধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করে। রবিবার এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলার গাংগাইল ইউনিয়নের অরণ্যপাশা গ্রামে। ঘটনার পর থেকে আবুল কালাম (৪০) পলাতক রয়েছে। নিহতের স্ত্রী হাওয়া বেগম জানান, আমার স্বামী পেশায় একজন সিএনজি চালক। প্রতিবেশী বেঙ্গু মিয়ার ছেলে আবুল কালামের সাথে কয়েক বছর আগে স্বামীর ঝগড়া হয়। ওই সময় ঘটনাটি এলাকার লোকজন মীমাংসা করে দিলেও কালাম মেনে না নিয়ে কোনো এক সময় দেখে নেওয়ার হুমকী দিয়ে আসছিল। এখন কদিন ধরে স্বামীকে প্রকাশ্যেই খুন করার হুমকী দিচ্ছিল। এ অবস্থায় শনিবার রাত ১টার পর কালাম স্বামীকে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে যায়। ভোর রাতে খবর পেয়ে অচেতন অবস্থায় স্বামীর পড়ে থাকা স্থানে গিয়ে দেখি একটি কাপড় দিয়ে দুই পা বাধা ও মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছে। পরে লোকজনের সহযোগিতায় উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন। কালামই পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে। বাবলুর ভাই জামাল মিয়া বলেন, আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি কালাম বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করছে। এক পর্যায়ে ভাই বের হয়ে কালামের সাথে চলে যায়। রবিবার দুপুরে কালামের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তখন কালামের স্ত্রী সামছুন্নাহার বলেন, তাঁর স্বামী এ ঘটনার সাথে জড়িত নয়। অহেতুক মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নান্দাইল থানার ওসি আব্দুল মজিদ বলেন, বাবলু ও কালাম দুজনই মাদকাশক্ত ছিলেন। রাতভর মদ খাওয়ার কথাও শোনা গেছে। বাবলুকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকেই ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিব।