শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

শিরোনাম :
শিরোনাম :
টাঙ্গাইলে ভুল ওষুধে ১৭ হাজার মুরগি মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসকসহ জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন লামায় ফাঁসিয়াখালীতে বন্য হাতির আক্রমণে একজন নিহত পাবনা-৪ নবনির্বাচিত এমপি’র সাথে আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা ঈশ্বরদীতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে: আরিফুর রহমান আটঘরিয়ায় বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে পেঁয়াজ বীজ কন্দ ফসলের উৎপাদনের উপকরণ বিতরণ আটোয়ারীতে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা চৌহালীতে বালুবাহী বল্কহেড চলাচলে যমুনা নদীর পুর্ব তীর রক্ষা বাধ হুমকিতে পড়েছে চাটমোহরে মানবিক ছোঁয়া: অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে নবনির্বাচিত এমপি ও উপজেলা প্রশাসন

কর্মই জীবন দেখিয়ে দিচ্ছে রাণীনগরের আছমা বেগম

সাইদুজ্জামান সাগর, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৮:১৮ অপরাহ্ণ

স্থান-কাল ভেদে বিভিন্ন ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন রাণীনগরের আছমা বেগম(৬০)। পিঠাপুলি, শাক-সবজি, বিভিন্ন আচার-আনুষ্ঠানে আটা-ঝাল লবণ মিশ্রিত হুরুম ভাজা, পাপর ভাজা আর আলু ভাজা বিক্রি করেন আছমা। তার স্বামী এবাদুল হক একজন ভ্যান চালক। দু’জন মিলে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ শত টাকা উপার্জন করে। তা দিয়েই চলে তাদের  জীবন।
রাণীনগর উপজেলা সদর, বড়গাছা কুজাইল, বেতগাড়ী, করজগ্রাম, আবাদপুকুর সহ বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় বাজর, সড়কের মোড়ে কোন না কোন দোকানের ফাঁকা জায়গায় অস্থায়ী ভাবে  বসেছে বাহারি পিঠাপুলির শতাধিক দোকান। শীত মানই তো মজার মজার পিঠা, তাই প্রতিদিন বিকালে জমে উঠে পিঠাপুলি তৈরি বিক্রি আর খাওয়ার ধুম। ভাপা, চিতাই, সাতপুটি, মোলকা পিঠা। সব চেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে সাতপুটি পিঠা, এটি তৈরি করা হয় আল্প পানি, আটা, ঝাল লবণ ও পিঁয়াজ পাতা ঝুরি করে এক সঙ্গে মিশিয়ে তা মাটির তৈরি কড়াইয়ের মত সাতটি হালকা গভীর স্থানে ছোট ডাবু দিয়ে ঢলে দেওয়া হয়। যা জ্বলন্ত চুলায় কয়েক মিনিট রাখলেই তৈরি হয়ে যায় সুস্বাদু পিঠা, এটি ধনিয়া পাতার চাটনি দিয়ে পরিবেশন করা হয়, খেতে ভীষন মজা।

রাণীনগর উপজেলা সদর থেকে ৪ কিলোমিটার পূর্বে সিম্বা বাজারের ব্রীজ সংলগ্ন সবজির দোকানের সামনে আছমা বেগমের পিঠার দোকান। বৃদ্ধ বয়সে তীব্র শীতের মধ্যে পিঠা বিক্রির ব্যবসা সম্পর্কে কথা শুরু হতেই তিনি বলেন, এছাড়া তো আর কোন উপায় নাই! রাণীনগর সদরের মধ্যরাজাপুর গ্রামে তার বাড়ি। তাদের ৩ ছেলে ১ মেয়ে। সবার আলাদা আলাদা সংসার। বেঁচে থাকতে হলে তো রোজগারপাতি করতে হবে। আর জীবন যুদ্ধে টিকে থাকতে হলে কিছু না কিছু তো করতেই হবে। যতদিন বেঁচে আছি টিকে থাকার লড়াইয়ে হার মানতে নারাজ তিনি। ছেলেরা তাদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত, বৃদ্ধ বাবা-মা’র দিকে ফিরে তাকানোর সময় তাদের নেই। তাই নিজেরাই খেটে খাই। শীতের সময় পিঠা বিক্রি করি, বছরের অন্যান্য সময় বাড়ির উঠানে শাক-সবজি চাষ করে বাজারে বিক্রি আর এলাকায় বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান গুলোতে অনেক লোক-সমাগম হয়, সেই সব জায়গায় হুরুম ভাজা, পাপর ও আলু ভাজা বিক্রি করি। আর আমার স্বামী ভ্যান চালায়। দু’জন মিলে প্রতিদিন ৫-৬ শত টাকা উপার্জন করি। এটা দিয়েই আমাদের বেশ স্বাচ্ছন্দে চলে।

আছমা বেগম প্রতিদিন  সাড়ে তিন শত টাকার পিঠা তৈরির উপকরণ কিনেন। পিঠা তৈরি ও বিক্রি করে দুই থেকে আড়াই শত টাকা লাভ হয়। ভাপা পিঠা ১০টাকা, চিতই পিঠা ১০ টাকা এবং সাতপুটি ও মোলকা পিঠা প্রতি পিচ ৫ টাকা করে।

পিঠা খেতে আসা রশিদ দেওয়ান ও হান্নান মিনা জানান, তারা প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন পিঠা খান, এই সব পিঠা তাদের পছন্দের। তবে দ্রব্যমূল্যের উর্ব্ধগতির জন্য পিঠা আকারে ছোট হওয়া সর্তেও  দামে বেশি।

আছমা বেগম ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বাড়তি আয়ের আশায়  অনেকেই  অন্যান্য পেশার পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় এ ব্যবসা করছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর