শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

শিরোনাম :
শিরোনাম :
টাঙ্গাইলে ভুল ওষুধে ১৭ হাজার মুরগি মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসকসহ জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন লামায় ফাঁসিয়াখালীতে বন্য হাতির আক্রমণে একজন নিহত পাবনা-৪ নবনির্বাচিত এমপি’র সাথে আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা ঈশ্বরদীতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে: আরিফুর রহমান আটঘরিয়ায় বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে পেঁয়াজ বীজ কন্দ ফসলের উৎপাদনের উপকরণ বিতরণ আটোয়ারীতে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা চৌহালীতে বালুবাহী বল্কহেড চলাচলে যমুনা নদীর পুর্ব তীর রক্ষা বাধ হুমকিতে পড়েছে চাটমোহরে মানবিক ছোঁয়া: অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে নবনির্বাচিত এমপি ও উপজেলা প্রশাসন

গৃহহীন নন, তবু সরকারি জমিতে পাকাবাড়ি ধনীর

এম এ মাসুদ, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: সোমবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৪, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

মাথাগোঁজার ঠাঁই ছিলনা মোসলেম উদ্দিনের। একটু ঠাঁই পেতে ধর্না দিয়েছিলেন অনেকের কাছেই। মোসলেম যেখানে বাস করতেন তার কাছাকাছি ছিল সরকারি (খাস) ভূমি। অবস্থা করুণ বলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সেখানেই বাড়ি করে দিতে চেয়েছিলেন তাকে। বিষয়টি জানাজানি হলে সেখানে তড়িঘড়ি করে একটি পাকাবাড়ি করেন জয়নাল আবেদীন নামের এক ব্যক্তি। আশাহত হয়ে পরিবারসহ অজানা উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান মোসলেম। এ ঘটনা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের নাচনী ঘগোয়া গ্রামের।
জানা গেছে, উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের নাচনী ঘগোয়া গ্রামের মৃত বরিজ উদ্দিনের ছেলে মো. মোসলেম উদ্দিন ছিলেন সহায়সম্বলহীন একজন দিনমজুর। যিনি স্ত্রীসহ তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে বাস করতেন অন্যের ভিটায়। গত বছর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানতে পারেন রাস্তার ধারের ২০২ নম্বর দাগের ৮ শতক সরকারি জমির (খাস) কথা। আর তা ভোগ করছেন জয়নাল নামের অবস্থাসম্পন্ন এক চাকুরিজীবী ব্যক্তি।
জমিটি সরকারি হওয়ায় সেখানেই মোসলেমকে বাড়ি করে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি মো. আব্দুল মতিন সরকারসহ অনেকেই সংশ্লিষ্ট মেম্বার, চেয়ারম্যান ও তহশিলদারের সাথে যোগাযোগ করেন। স্থানীয়রা মোসলেমের একটি মাত্র ঘর তোলার জন্য জয়নালের কাছে চেয়েছিলেন অন্তত ২ শতক জমি। তহশিলদারও এসেছিলেন সেখানে। কিন্তু ৮ শতক সরকারি জমির ২ শতকও ছাড় দিতে রাজি ছিলেন না জয়নাল। মূলরাস্তা সংলগ্ন ও উঁচুভিটা হওয়ায় সেখানেই একটি বাড়ি করেন তিনি।
এদিকে, স্থানীয়দের উদ্যোগ দেখে আশায় বুক বেঁধেছিলেন মোসলেম। অবশেষে ঠাঁই না পেয়ে মনের দুঃখে দুই মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে গত রমজানে ঢাকায় পাড়ি জমান তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ওই খাসজমির ওপর উত্তর-পূর্বদিকে কয়েকটি কক্ষের একটি এল আকৃতির টিনসেড বিল্ডিং করেছেন জয়নাল আবেদীন। দুই ছেলে চাকুরি করায় এখন স্ত্রীসহ বাড়িতে থাকেন তিনি। করেন পাশের হাইস্কুলে চাকুরি।
স্থানীয়রা বলছেন, এই পাড়ার মধ্যে এখন সবচেয়ে ধনবান তিনি। পরিবারের মধ্যে কেবল চাকুরি করেন না জয়নালের স্ত্রী। কিন্তু তবুও কেন যে সরকারি জমিতে বাড়ি করেছেন জয়নাল তা বোধগম্য নয় তাদের।
আব্দুল মতিন নামের ওই প্রবীণ ব্যক্তি প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আমরা গৃহহীন মোসলেমের জন্য একটু মাথাগোঁজার ঠাঁই-এর জন্য গোপাল, নৃপেন্দ্র, শাহাবর আলী ও রঞ্জু মাস্টার এবং আশেক মেম্বারসহ চেয়ারম্যান ও তহশিলদারের কাছে গিয়েছিলাম। তহশিলদারও এসেছিলেন। কিন্তু ঠিক কী কারণে সব ডুব মারলো তা জানি না।
খাসজমিতে পাকাবাড়ি করার কথা জানতে চাইলে জয়নাল আবেদীন বলেন, আমি ২৭ শতক জমি কিনেছি। তারমধ্যে ৮ শতক জমি খাস ছিল তা জানা ছিল না। বাড়ি করাটা ভুল হয়েছে। এর  সমাধান কী তাও জানতে চাইছিলেন তিনি।
এবিষয়ে তারাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার মো. আবু বকর সিদ্দিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার ও তারাপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আশেক আলী জানান, জয়নালের বাড়িটি খাসজমিতে। সেখানে ৮ শতক জমি আছে। এর বাইরে আর কিছু জানেন না বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর