বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বি.আর.টি.এ) সাতক্ষীরা সার্কেল কর্তৃক গত কয়েক মাস যাবৎ চলছে জন সচেতনতামূলক প্রচারনা।
মোটর যানের মালিক, চালক, যাত্রী, পথচারী ও স্কুল কলেজের ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যাবলী সম্বলীত লিফলেট বিতরণ।
গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার ও ফেস্টুন ঝুলানো সহ বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। গাড়ি চালক ও পথচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাতক্ষীরা বি.আর.টি.এ এর সাতক্ষীরা সার্কেল সর্ব সাধারনের সচেতনতার জন্য কয়েকটি মহতি উদ্যোগ নিয়েছে, যেমন মোটর যান চালকদের প্রতি “গতিসীমা মেনে চলুন, বেপরোয়া ও মাত্রারিক্ত গতিতে গাড়ি না চালানো সহ ১২টি সতেনামূলক দিক নির্দেশনা। মোটরযান মালিকদের প্রতি “গাড়িতে সঠিক ড্রাইভিং লাইসেন্সেধারী চালক নিয়োগ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করণ” সহ ৫টি নির্দেশনা যাত্রিদের প্রতি “চলন্ত গাড়িতে ওঠা নামা না করা,পন্য বাহী মোটারযানে যাত্রী হয়ে না উঠা সহ ৫টি দিকনির্দেশিকা মেনে চলতে আহ্বান জানিয়েছেন সাতক্ষীরা বিআরটিএ সার্কেল।
এছাড়া পথচারীদের প্রতি “জেব্রাক্রসিং, ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডার পাস দিয়ে রাস্তা পার হওয়া সহ ছাত্র ছাত্রীদের সচেতন করার জন্য ছবি সম্বলিত লিফলেট সহ ৪টি সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যাবলী লিফলেট বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। একই সাথে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ সমূহে ৭টি নির্দেশনা, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ কল্পে পথচারীদের করনী দিকনির্দেশিকা এবং দুর্ঘটনা পরবর্তী চালক কন্টাকটারদের করনীয় বিশেষ নির্দেশনামূলক লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
গাড়ি চালকদের প্রতি সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, আপনারা গাড়িতে অনুমোদিত ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বা মালামাল বহন করবেন না। ওভার লোর্ড,ওবার টেকিং, নিষিদ্ধ এলাকায় রাস্তার বাঁক নিদর্শন,সেতু ব্রীজ,কার্লভার্ট সমূহে ওভারটেক নির্দেশনা মেনে চললে দূর্রঘটনা রোধ করা সম্ভব। মাত্রারিক্ত দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাবেন না, যাতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। * ট্রাফিক আইন, ট্রাফিক সাইন এবং ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশ মেনে চলুন।
গাড়ি চালনাকালে, মোবাইলে কথা বলা, কানে মোবাইল হেডফোন ব্যবহার করবেন ন।যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত ও ফিটনেস বিহীন গাড়ি রাস্তায় নামাবেন না। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি রাস্থায় নামাবেন না। সাবধানে গাড়ি চালাবেন। জীবন ও সম্পদ বাঁচান। * গাড়ির ছাদে যাত্রী তুলবেন না। সব মিলিয়ে মোট ৯টি কাজ না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে সাতক্ষীরার সচেতন মহল মনে করেন, সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের এই সচেতনা মূলক প্রচারনা ও চালকদের প্রতি দিক নির্দেশনামূলক আহ্বান যদি মেনে চলে তাহলে এক দিকে যেমন কমবে সড়কের যানজট অন্যদিকে
কমবে সড়ক দুর্ঘটনা সাথে সাথে সড়কে ফিরবে শৃঙ্খলা। এ ব্যাপারে বি.আর.টি.এ সাতক্ষীরা সার্কেল এর সহঃ পরিচালক (ইঞ্জিঃ)কে এম মাহাবুব রহমান বলেন, আমরা রাস্তায় চলাচলরত সর্বসাধারণের সচেতন করতে সচেতনামূলক সকল কাজ করে আসছি একাজ অব্যাহত ও থাকবে। সাতক্ষীরা একটি বৃহত্তম জেলা। এখানে ছোট বড়, মাঝারী, হালকা যান, মোটর সাইকেল সহ প্রায় ১ লক্ষ ৫ হাজার ১ শত ৯১টি যানবাহন সরকার অনুমোদিত রেজিষ্ট্রেশন আছে। এছাড়া আমাদের হিসাবের বাইরে আরো অনেক যানবাহন আছে। আমরা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও মালিকদের নিয়ে সভা সেমিনারের মাধ্যমে তাদের আরো সচেতনতামূলক নিদের্শনা প্রদান করবো। আর যেসকল চালক অদক্ষ তাদের বিশেষ ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, জেলার এক শ্রেনীর লোক আছে দরিদ্র , তারা বিভিন্ন ভাবে ১টি ইজিবাইক অথবা ব্যাটারী ভ্যান কিনে রাস্তায় নেমেছে। আমরা তাদের ও বিভিন্ন ভাবে সচেতন করার কাজ অব্যাহত রেখেছি। কিন্তু তারা বিভিন্ন ভাবে হয়রানী হচ্ছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও বিআরটি এর নাম ব্যবহার করে তাদের যানবাহনে লাইসেন্স দিবে বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এটা কোন ভাবেই কাম্য নয়। ইজিবাইক ও ইলেকট্রিক চালিত সকল যানবাহনের লাইসেন্স করা যাবে তবে তাদের ক্ষেত্রে সরকার নির্দেশিত কিছু নিয়ম মানতে হবে। যার জন্য সরকার ২০২৩ সালের ইলেকট্রিক মোটরযান রেজিষ্ট্রেশন ও চলাচল সংক্রান্ত নীতিমালায় অনেকগুলো নিয়ম রয়েছে, যেগুলো বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয় বি.আর.টি.এ অধিগ্রহণ শাখার অন্তর্ভুক্ত। এজন্য ইজিবাইক ও ইলেট্রিক মোটরযান এর জন্য সরকারি ভাবে রেজিষ্ট্রেশন করতে হলে সরাসরি সাতক্ষীরা বিআরটি এ অফিসে এসে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে কাজ করতে হবে তা না হলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে একটি চক্র মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে পারে বলে সচেতন হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। মোটরযান সংশ্লিষ্ট বিষয় ও মোটরযান রেজিষ্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে গাড়ির মালিক নিজে সাতক্ষীরা বিআরটিএ অফিসে এসে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে নিজের কাজ নিজে করার আহবান জানান তিনি।