চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির উত্তরে অবস্থিত রামগড় চা বাগানে নির্বিচারে গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।অভিযোগ রয়েছে আজ বুধবার(১৫নভেম্বর) বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া বাগান ব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে এসব গাছ কাটা হচ্ছে।খবর পেয় বনবিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে শ্রমিকরা মারমুখী আচরণ করে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,খাগড়াছড়ি-ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত রামগড় চা বাগান।সড়কের পাশে অবস্থিত গাছ গুলো নির্বিচারে কাটছে বাগান কর্তৃপক্ষ।
আজ বুধবার সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাগানের ১নং গেইটের পাশে থাকা অন্তত ৩০টি মেহগনি ও ছায়াবৃক্ষ গাছ কেটে ট্রাক যোগে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।গাছ কাটার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাগান ব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

ছবিতে কমলা রঙ্গের গাড়ি থেকে নামছেন বাগান ব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদীন।ছবি দুপুরের দিকে রামগড় চা বাগান থেকে তোলা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চা বাগানের কয়েকজন কর্মচারী জানান,বাগান ব্যবস্থাপকের নির্দেশে তারা গাছ কাটছেন। স্থানীয় সংবাদকর্মী রামগড় টুয়েন্টি ফোর টিভির প্রতিনিধি বেলায়েত হোসেন জানান,সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বাগান ব্যবস্থাপক তার সাথে মারমুখী আচরণ করে এবং তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়।সব ছবি এবং ভিড়িও ডিলেট করে তার ক্যামেরা তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। নারায়নহাট রেঞ্জ কর্মকর্তা ইলিয়াসুর রহমান জানান, খবর পেয়ে আমি সহ বনবিভাগের ৩জন ঘটনাস্থলে যাই।গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে বাগান ব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদীন আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।তার নেতৃত্বে চা শ্রমিকরা আমাদের সাথে মারমুখী আচরণ করে।তিনি আরো জানান,বাগান ব্যবস্থাপক বন কর্মকর্তাকে বলেন গাছ গুলো সড়ক ও জনপথ বিভাগ কাটছে। পরবর্তীতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান চা বাগান কর্তৃপক্ষকে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি।বনবিভাগের উপস্থিত কর্মকর্তাদের সামনেই কর্তনকৃত গাছ গুলো ট্রাকে করে বাগানের ভেতর নিয়ে যাওয়া হয়।
চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের বন সংরক্ষক কর্মকর্তা হারুনর রশিদ কে জানান,বিনা অনুমতিতে গাছ কাটার সময় বাঁধা দেওয়ায় আমাদের ৩জন বিট কর্মকর্তাকে বাগান ব্যবস্থাপক লাঞ্চিত করেছেন।তার মারমুখী আচরণে কর্মকর্তারা পিছু হটে।তিনি আরো জানান,এর আগেও বনবিভাগের একাধিক কর্মকর্তাদের সাথে তিনি উশৃঙ্খল আচরণ করেছেন।আমরা খবর পেয়েছি গাছ গুলো চা বাগানের ভেতরে আছে।প্রশাসন কে সাথে নিয়ে আমরা গাছ উদ্ধারে যাবো।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের অত্র এলাকার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন জানান,চা বাগানকে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই আসেনা।
ফটিকছড়ি উপজেলা কর্মকর্তা(ইউএনও)মোজাম্মেল হক জানান,তিনি গতকাল যোগদান করেছেন।তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)মোহাম্মদ আব্দুল মালেক জানান,বিনা অনুমতিতে গাছ কাটা আইনত অপরাধ।এ বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।