বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৯ অপরাহ্ন

ই-পেপার

শিরোনাম :
শিরোনাম :
টাঙ্গাইলে ভুল ওষুধে ১৭ হাজার মুরগি মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসকসহ জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন লামায় ফাঁসিয়াখালীতে বন্য হাতির আক্রমণে একজন নিহত পাবনা-৪ নবনির্বাচিত এমপি’র সাথে আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা ঈশ্বরদীতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে: আরিফুর রহমান আটঘরিয়ায় বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে পেঁয়াজ বীজ কন্দ ফসলের উৎপাদনের উপকরণ বিতরণ আটোয়ারীতে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা চৌহালীতে বালুবাহী বল্কহেড চলাচলে যমুনা নদীর পুর্ব তীর রক্ষা বাধ হুমকিতে পড়েছে চাটমোহরে মানবিক ছোঁয়া: অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে নবনির্বাচিত এমপি ও উপজেলা প্রশাসন

জীবন সংগ্রামে হার না মানা ওবায়দুর

মোঃ আনোয়ার হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: শুক্রবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৩, ৯:২০ অপরাহ্ণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরের চুউরিয়া গ্রামের লোকাল ইলেকট্রিকশিয়ান বা মেকানিক হিসেবে পরিচিত জীবন সংগ্রামে হার না মানা মোঃ ওবায়দুর রহমান (৩৫)।
১৩ বছর ধরে নবীনগর পৌরসভার মাঝিকাড়াস্থ কনিকাড়া নৌকা ঘাটে (দোকানে) বৈদ্যুতিক মালামল মেরামত করে আসছেন তিনি। বিশেষ করে ফ্যান, মটর, জেনারেটর মেরামত ও কয়েল বাঁধাইয়ের কাজ করে থাকেন।  বর্তমানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন নবীনগর পৌরসভাস্থ আলীয়াবাদ দক্ষিণ পাড়ায়। ৩ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তানের জনক তিনি।
১০ বছর আগে বৈদ্যুতিক কাজ করতে গিয়ে ইলেকট্রিক শকে ডান হাত হারান তিনি। দীর্ঘ দিনের অমানুষিক কষ্টের পর যখন সেরে উঠে ক্ষত তখন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারি হিসেবে পরিবারের হাল ধরতে শুরু করেন ইলেকট্রিক কাজ দিয়ে। অন্য কোন কাজ জানা না থাকায় ও পুজির অভাবে এক হাত দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। প্রথম দিকে এক হাত দিয়ে কাজ করতে কষ্ট হলেও অভিজ্ঞতা আর একনিষ্ঠ শ্রমে এখন তিনি আগের মতই নিখুঁত ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
হতাশাগ্রস্ত, বেকার মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন তিনি। তাকে দেখলে যেন মানুষের হতাশা কেটে যায়। কিছু একটা কর্মসংস্থান করে যেন বাঁচার তাগিদ খুঁজে পায় অন্যরা। ওবায়দুর রহমান জানান, শক খাওয়ার পর হাতটা কাইট্টা লাইতে অইচে। অনেক দিন বেকার আছিলাম। কাম কাইজ করতাম পারছি না। অহন আল্লার রহমতে ভালা আছি। পাশবর্তী হোটেল ব্যবসায়ী ফয়সাল মিয়া বলেন, মাশাল্লাহ অনেক সুন্দর কাজ করেন ইলা (ওবায়দুর রহমান)। রুবেল মিয়া নামে একজন বলেন, আমি তো প্রথমে উনাকে দেখে বিশ্বাসই করতে পারতেছিলাম যে উনি এক হাত দিয়ে ফ্যানের কয়েল বাঁধাই করতে পারবেন! পরে দাঁড়িয়ে থেকে উনার কাজ করতে দেখে আমি অবাক হয়ে যাই।
আত্মবিশ্বাসী ওবায়দুর রহমানের এক হাত দিয়ে কাজ করার দৃশ্য  স্বাভাবিক মনে হলেও একদিকে অনেকের বিশ্বাস হারানো ও ধীর গতির কাজ হওয়ায় ও অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতিতে কুলিয়ে উঠতে কষ্ট হচ্ছে তার।সরকারি কিংবা বেসরকারি অনুদান অথবা ভাতার ব্যবস্থা করা হলে কিছুটা সহজ হতো তার পারিবারিক জীবন। এই অদম্য পরিশ্রমী ও একনিষ্ঠ অনুকরণীয় ব্যক্তি যিনি প্রতিক হয়ে উঠেছেন জীবন সংগ্রামের তার পাশে  সজ্জন মানুষেরা এগিয়ে আসবেন বলে আমি আশাবাদী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর