“কমাতে হলে মাতৃমৃত্যু হার, মিডওয়াইফাই থাকা একান্ত দরকার” এ শ্লোগানকে সামনে রেখে ঝালকাঠিতে আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফ দিবস ২০২৩ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও কেককাটা হয়েছে। ঝালকাঠি নার্সিং কলেজের আয়োজনে শুক্রবার (৫ মে) সকাল ৯টায় সিভিল সার্জন কার্যালয় (হলরুমে) সিভিল সার্জন ডা: জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: রুহুল আমিন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল অফিসার ডা: মো: মোস্তাফিজুর রহমান, ঝালকাঠি নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ গীতা রাণী দাস। এসময় উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি নার্সিং কলেজের ইন্সট্রাক্টর মোসা: ফরিদা, নিপা হাওলাদার, মনিকা খাতুন, মোসা: জাহানারা, নির্মল, মোসা: হাসিনা প্রমুখ।
ঝালকাঠি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা গোলাপী কালারের ইউনিফর্ম পরিধান করে রাস্তায় সারিবদ্ধ হয়ে ব্যান্ড পার্টির মিউজিকের তালে তালে সিভিল সার্জনের কার্যালয় হতে একটি বণার্ঢ র্যালি কোর্টরোড হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।
বক্তারা বলেন, ‘গর্ভধারিণী মায়ের জন্য ধাত্রীসেবা অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। গর্ভাবস্থায়, প্রসবের প্রারম্ভিক অবস্থায় এই ধাত্রীরাই মায়েদের সবচেয়ে আপনজন। মিডওয়াইফ হলেন এমন একজন দক্ষ ও শিক্ষিত সেবিকা , যিনি মা ও শিশুকে নিবিড়ভাবে সেবা দেবেন এবং যদি কখনো কোনো ধরনের জটিলতা হয়, সেটা বুঝতে পারবেন এবং প্রাথমিক সেবা দিয়ে সঠিক সময়ে সঠিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠিয়ে দেবেন।’
ঝালকাঠি নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ গীতা রাণী দাস এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই, কারণ তিনি বাংলাদেশে ২০১০ সালে মিডওয়াইফ পদটি সৃষ্টি করেন এবং ২০১৫ সালে মিডওয়াইফ প্রথম ব্যাচ পাশ করে বের হয়। তিনি আরো জানান, “একজন মিডওয়াইফের কাজ হলো সুস্থ্য সন্তান জন্ম দিতে সহযোগীতা করা, মাতৃমৃত্যু হার কমানো, মায়ের সেবা ও যত্ন করা।”
বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে ধাত্রীরা সন্তান প্রসবে মায়েদের যেভাবে যুগ-যুগ ধরে সেবা দিয়ে আসছেন সেই কাজের স্বীকৃতির জন্য ১৯৮০’র দশক থেকে তারা দাবী করে আসছেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৯২ সালের ৫মে তারিখটি আন্তর্জাতিক ধাত্রী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়। দিবসটি উপলক্ষে ঝালকাঠিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে র্যালি আলোচনা সভা, কেককাটা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফ বা ধাত্রী দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ছিল “কমাতে হলে মাতৃমৃত্যু হার, মিডওয়াইফাই থাকা একান্ত দরকার”।