ঝালকাঠি শহরের কোর্টরোডে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ফলের দামাদামি নিয়ে এক রোজাদার ব্যবসায়ীর উপর হামলা করে রক্তাক্ত জখম করেছে ঝালকাঠি আইনজীবি সমিতির এক মহুরী। মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় ঝালকাঠি আইনজীবি সমিতির সদস্য আইয়ূব আলী উকিলের মুহুরী গোলাম সরোয়ার সেন্টু ফলের দাম নিয়ে মূলামূলির এক পর্যায়ে ব্যবসায়ী মো: মালেক খান(৪৮) এর মুখমন্ডলের উপর সজোরে ঘুষি মারে। ঘুষির আঘাতে ব্যবসায়ী মালেকের ভ্রু ফেটে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পথচারীরা আহত মালেককে চিকিৎসার জন্যে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে মালেককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়। তার ভ্রুতে কয়েকটি সেলাই লেগেছে বলে আহত মালেক জানায়। ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসা পত্রের রেজি: নং- ১০৮২/০২, তাং- ১১/০৪/২০২৩ইং। পথচারী সাধারণ মানুষ জানায়, মুহুরী গোলাম সরোয়ার সেন্টু কোর্টের মুহুরী পরিচয় দিয়ে ফল ব্যবসায়ীকে নানা রকম হুমকিধমকি দেয়, চিৎকার দিয়ে বলে এরকম মারলে তার কিছুই হবে না। মালেককে দেখে নেয়ারও হুমকি ধমকি প্রদান করে।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি আইনজীবি সমিতির সদস্য এডভোকেট আইয়ুব আলী বলেন, “কেস মামলা করার দরকার নাই। আপোষ মীমাংসা করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মালেককে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থা করে দিবো।”
খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে ঝালকাঠি পৌরসভার কাউন্সিলর হুমাউন কবির সাগর আসেন এবং হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। কাউন্সিলর সাগর বলেন, “চিকিৎসা শেষে উভয় পক্ষের সাথে বসে আলাপ আলোচনা করে বিষয়টি মিট মীমাংসা করে দেয়ার ব্যবস্থা করে দেবো। ”
আহত মালেক বলেন, “আমি গরীব মানুষ্ সামান্য ব্যবসা করে সংসার চালাই। সারাদিন রৌদ্রের মধ্যে বসে হক হালালীভাবে ব্যবসা করি। আমার উপর অন্যায়ভাবে সেন্টু মহুরী হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। আমি রোজাদার মানুষ, আমাকে এভাবে হামলার সুবিচার চাই।”
অভিযুক্ত মুহুরী গোলাম সরোয়ার সেন্টু বলেন, “আমার সাথে ফলের দাম নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে এক পর্যায়ে এ নিয়ে মারামারি হয়েছে। আমিও মেরেছি এবং আমাকেও মেরেছে। বিষয়টি আপোষ মীমাংসা করতে চাই।”