শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:২৫ অপরাহ্ন

ই-পেপার

খবর প্রকাশের পর বেতন পেলেন সেই শিক্ষক-কর্মচারীরা

এম এ মাসুদ, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: শুক্রবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৩, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ

দৈনিক কালবেলা ও প্রতিদিনের সংবাদে খবর প্রকাশের পর এবার বেতন পেলেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ধর্মপুর আব্দুল জব্বার ডিগ্রী কলেজের বেতন বঞ্চিত সেই শিক্ষক-কর্মচারীরা। একইসাথে অধ্যক্ষ ছামিউল ইসলামকে করা হয়েছে সাময়িক বরখাস্ত।
জানা গেছে, ২০১৫ সালে ওই অধ্যক্ষ যোগদানের পর থেকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে এবং ২০১৮ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্তে সেই অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় তার বেতন-ভাতা স্থগিত হয়। বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও দেয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। পরে কৌশলে নিকটাত্মীয়-স্বজনকে গভর্নিং বড়িতে অন্তর্ভুক্ত করে চাচা ও বড় ভাইকে সভাপতি বানিয়ে স্বপদে বহাল ছিলেন অধ্যক্ষ ছামিউল ইসলাম। অভিযোগ ছিল বড় ভাই হাবিবুর রহমানকে পরপর দুইবার এডহক কমিটির সভাপতি করে অভ্যন্তরীণ আয় তছরুপ, নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিধিবহির্ভূতভাবে শিক্ষক এমপিওভুক্তকরণ, টাকার বিনিময়ে সিনিয়র শিক্ষকদের বঞ্চিত করে জুনিয়র শিক্ষকদের পদোন্নতি প্রদান করার। এ নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিলে তার তদন্ত সম্পন্ন হয়েছিল বলেও জানা যায়।
কলেজের অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক এহেতেশামুল হক ডাকুয়াকে গত ৭ বছর ধরে বেতন-ভাতা না দেওয়া এবং কলেজের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-মারুফ শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার নির্দেশনা দিলেও অধ্যক্ষ তা মানায় অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীদেরও বেতন-ভাতা বন্ধ ছিল ৪ মাস ধরে। ফলে পরিবারসহ মানবেতর জীবনযাপন করতেন বেতন বঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারীরা।
এনিয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ‘বেতন বঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারীরা’ শিরোনামে দৈনিক কালবেলায় সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে কর্তৃপক্ষের। এছাড়া, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা এবং কলেজের গভর্ণিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-মারুফ অধ্যক্ষ ছামিউল ইসলাম কে সাময়িক বরখাস্ত করে কলেজের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে উপাধ্যক্ষ সরদার মো. মাহবুবুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন।
এদিকে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পরপরই মাহবুবুর রহমান সভাপতির নির্দেশেক্রমে এহেতেশামুল হককে ৮ মাস এবং অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীদের ৫ মাসের বেতন-ভাতা প্রদান করেছেন। আর বেতন-ভাতা পেয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরা হয়েছেন বেজায় খুশি এবং ফেলেছেন স্বস্তির নিশ্বাস।
আট মাসের বেতন পেয়ে অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক এহেতেশামুল হক ডাকুয়া কালবেলাকে বলেন,‘অন্যায়ভাবে গত ৭ বছর ধরে বেতন-ভাতা না দেওয়ায় স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেছি। আজ আট মাসের বেতন পেয়ে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি এবং কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
বেতন নিয়ে বিড়ম্বনার অবসান হলো জানিয়ে বাংলা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. শফিউল ইসলাম বলেন, গাইবান্ধা জেলার মধ্যে এমন স্বেরাচারী অধ্যক্ষ আর কেউ আছে বলে আমার জানা নেই। অধ্যক্ষ বরখাস্ত ও শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন পাওয়ায় শুধু শিক্ষক-কর্মচারীরাই নন, খুশি হয়েছেন কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। এলাকায় মিষ্টিও করেছেন অনেকেই। তিনি আরও বলেন, আর্থিক কষ্ট দূর হওয়ায় পাঠদানে মনোযোগী হবেন শিক্ষকেরা এবং ফিরে আসবে শিক্ষার পরিবেশ।
অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাহবুবুর রহমান বলছেন, ‘আমরা একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করলাম। আশাকরি আমরা সম্মিলিতভাবে এবং স্বচ্ছতার সাথে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে আত্ননিয়োগ করবো। এছাড়া নিশ্চিত করা হবে মানসম্মত পাঠদান এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর