শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৪৫ অপরাহ্ন

ই-পেপার

রামগড়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের পিলার ধ্বসে যুবক আহত

বেলাল হোসাইন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: সোমবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৩, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ

মুজিববর্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মানের এক বছরের মাঝে ঘরের পিলার ধ্বসে মোহাম্মদ সুমননামের এক প্রতিবন্ধী যুবক আহত হয়েছেন।ঠিকাদারের নিম্নমানের কাজ এবং উপজেলা প্রশাসনের তদারকির অভাবে মুজিব বর্ষেদেয়া প্রধানমন্ত্রীর উপহারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী আহত যুবক সুমন। বর্তমানে  সম্পূর্ণ ঘরের ধ্বসঠেকাতে পিলারের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে রাখা হয়েছে। উপজেলার ১নং ইউনিয়নের পশ্চিম বলিপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,গত  ১৩ মার্চ ঘরের একটি পিলার ধ্বসে পড়ে।এতে জন্মগত প্রতিবন্ধী সুমনের ডান হাত মারাত্মকভাবে ভেঙ্গে যায়।চিকিৎসার ব্যায় মেটাতে গিয়ে ৭০ হাজার টাকা খরচ করে বর্তমানে সম্পূর্ণ নি:স্ব। প্রতিবেশীদের সহায়তায়চিকিৎসা কোন রকমে চালিয়ে যেতে পারলেও স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে এক বেলা খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন।ঘরের ভাঙ্গনঠেকাতে ধ্বসে যাওয়া পিলারের স্থলে বাঁশের খুঁটি দিয়ে রাখা হয়।স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে পরিবারের ব্যায় মেটানো, জীবন হানির আশংকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভাঙ্গা ঘরে দিনাতিপাত করছেন পেশায় অটো রিক্সা চালক সুমন। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সুমন অভিযোগ করে বলেন,ঘর নির্মাণে ঠিকাদার খুবই নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যাবহার করতেন।পিলারে খুবইঅল্প পরিমানে নিম্নমানের চিকন রড় ব্যবহার করেতো।ঘরের অনেক জায়গায় সিমেন্টের পরিবর্তে বালু ব্যবহার করা হয়েছে।নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহারের কারণ জিজ্ঞেস করা হলে ঠিকাদার জিনিস পত্রের দাম বাড়তির অভিযোগ করতেন।তার পূর্বের মাটিরঘর আগুনে পুড়ে গেলে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যান ২জনে ১০ করে ২০ হাজার টাকা দেন। পরবর্তীতে অন্যান্য প্রতিবেশীরা সর্বমোট ৪০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে দেন।এ দিয়ে ১৬বস্তা সিমেন্ট এবং রড় কিনে দেন এবং ঠিকাদারের হাতে৪০০০হাজার টাকা দিলেও ঠিকাদার ঘরের নির্মাণ কাজ অসম্পূর্ণ রেখে চলে যায়।ঘরের নকশা অনুযায়ী দেওয়ালে আস্তর,বাথরুম দেওয়ার কথা থাকলেও  কিচ্ছু দেয়া হয়নি।এমনকি ঘরের চালে টিন লাগানো পর্যন্ত অর্ধেক রেখে চলে যায়ঠিকাদার। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন,নির্মাণের সময় উপজেলা প্রশাসন থেকে কেউ তদারকি করতে আসেনি।ঠিকাদার খামখেয়ালিভাবে কাজটি করেছে।পরবর্তীতে নিজ দায়িত্বে পুনরায় কিস্তি নিয়ে ঘরের কাজ সম্পন্ন করে তিনি ঘরে ডুকেন।তিনি আরোজানান,ঘর নির্মাণ থেকে শুরু করে ঘর ধ্বসে পড়ার পরেও উপজেলা প্রশাসন থেকে কেউ দেখতে আসেনি। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কুমার কারবারি বলেন,সুমন জন্মগত প্রতিবন্ধী।ঘর নির্মাণের সময় তাকে ব্যক্তি গত ভাবে সহায়তা করি।পুনরায় ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের নিকট আহ্বান জানান তিনি। রামগড় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক কাজী নুরুল আলম আলমগীর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান,জননেত্রী  শেখহাসিনার দেয়া উপহার এধরনের কিছু ঠিকাদারের কারণে নষ্ট হচ্ছে।প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। এ বিষয়ে রামগড় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নজরুল ইসলাম বলেন, আমি এ উপজেলায় আসার আগেএই ঘর নির্মাণ হয়েছিলো। খুব দ্রুত ঘরটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে তিনি ঘরটি টমটমের ধাক্কায়ভেঙ্গে পড়ার কথা শুনেছেন বলেও জানান। এ বিষয়ে রামগড় উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মমতা আফরিন বলেন,ঘটনাটি তিনি শুনেছেন।অভিযোগ পেলে এ নিন্দনীয়  কাজে জড়িত সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। জানা গেছে, বিগত ২০২০ সালে প্রতিবন্ধী সুমনের মাটির ঘরটি আগুনে পুড়ে গেলে তাৎক্ষনিক উপজেলার সংশ্লিষ্টদের সহযোগীতায় তার পৈত্রিক ভূমিতে একটি আশ্রয়নের ঘর দেয়া হয়। তবে ঘরটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না করে ঠিকাদার চলে যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর