বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:২৬ অপরাহ্ন

ই-পেপার

মা হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ছেলের সংবাদ সম্মেলন

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, বরিশাল:
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ

মা’য়ের হত্যার ঘটনায় জড়িত মূলহোতাদের গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের একমাত্র ছেলে লিটন তালুকদার।

বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জননী সাহান আরা বেগম স্মৃতি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের বংকুরা গ্রামের বাসিন্দা হারুন তালুকদারের ছেলে লিটন বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে প্রতিবেশী রিনা বেগমের সাথে তাদের বাকবিতন্ডা হয়। এর জের ধরে গতবছরের ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আমার মা শুকুরন বেগমকে (৫৫) প্রক্যাশ্যে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার ঘটনায় প্রতিপক্ষরা ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে।
লিটন আরও বলেন, মাকে হত্যার ঘটনার পর আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে আমার মামাতো ভাই আবু হানিফ বয়াতী বাদী হয়ে পরেরদিন গৌরনদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী গৌরনদী পৌর এলাকার আশোকাঠী গ্রামের নাসির কাজী, জিয়া হাওলাদার, চন্দ্রহার গ্রামের রিয়াজ সরদার, ডায়মন্ডসহ ১৫ জনকে নামধারী ও অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়।

লিটন বলেন, মামলা দায়েরের পর আমি জানতে পারি ঘটনাস্থলে না থাকলেও শত্রুতামূলকভাবে এজাহারে আমার শ্বশুড় তৈয়ব আলী বেপারী ও শ্যালক জুয়েল বেপারীকেও আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িত আরও কয়েকজনকে বাদ দেয়া হয় এবং আমাকে মামলায় স্বাক্ষী ও রাখা হয়নি। এনিয়ে মামলার বাদী আমার মামাতো ভাই আবু হানিফের কাছে জিজ্ঞাসা করা হলে সে আমাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে। অপরদিকে পুলিশ মামলার এজাহারভূক্ত উল্লেখযোগ্য আসামী ও হত্যার ঘটনায় সম্পৃক্ত ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার না করায় নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিটন অভিযোগ করে বলেন, চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার বাদী আমার মামাতো ভাই আবু হানিফ বয়াতী টাকার লোভে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে মামলার আসামি ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী রিয়াজ সরদার, জিয়া হাওলাদার ও ডায়মন্ডের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া থানা পুলিশ ওই তিন আসামিকে চার্জশীট থেকে বাদ দেওয়ার জন্য চার্জশীট প্রস্তুত করেছে বলেও শুনেছি। ফলে আমি এরইমধ্যে মামলার বাদী পরিবর্তনের জন্য বিজ্ঞ আদালতে আবেদন করেছি। সংবাদ সম্মেলনে লিটন বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আমার মায়ের হত্যাকান্ডের সাথে প্রকৃত জড়িত সকল আসামিদের গ্রেপ্তারপূর্বক সর্ব্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছি।

এ বিষয়ে জানতে মামলার বাদী আবু হানিফ বয়াতীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গৌরনদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি।

গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফজাল হোসেন বলেন, যেখানে চার্জশীট দেওয়া হয়নি সেখানে এজাহারভূক্ত কোন আসামি বাদ গেছে বা কে সংযুক্ত হয়েছে সেই বিষয়ে মন্তব্য করাটাই ঠিক হবেনা। তিনি আরও বলেন, তদন্তে হত্যাকান্ডের ঘটনায় যাদের নাম বেরিয়ে আসবে তাদের বাদ দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর