বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন

ই-পেপার

ঐতিহ্যবাহী গঙ্গাচড়া শিশু নিকেতন বিদ্যালয় এর নামে উঠেছে প্রশ্ন ফাঁস সহ বাচ্চাদের শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ

মোঃআবু তালেব,স্টাফ রিপোর্টার:
আপডেট সময়: রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ

গঙ্গাচড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গঙ্গাচড়া শিশু নিকেতন। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৯ সাল থেকে সফলতা সুনামের সাথে অগ্রসর হয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষা গ্রহণ করে অনেক শিক্ষার্থী বড় বড় কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদের কর্মরত আছে। সুনামের সাথে চলে আস ছিলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। বিগত কয়েক বছর থেকে এই প্রতিষ্ঠানের নামে উঠে এসেছে প্রশ্ন ফাঁস সহ বাচ্চাদের শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ। এ প্রশ্ন ফাঁসের মূল হোতা হচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির উপাধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা ফারুক । তিনি তার নামে একটি কোচিং সেন্টার খুলেছেন এবং তার কোচিং এ স্কুলের বাচ্চাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য করছেন এ ধরণের কাজ। এর পাশাপাশি বাচ্চাদের শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ও ঘটেছে এ প্রতিষ্ঠানে। এ সকল বিষয় নিয়ে অভিযোগ করা হয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্যের কাছে।

অভিযোগ কারী অভিভাবকগণ বলেন, গোলাম মোস্তফা ফারুক তার নামে একটি কোচিং খোলেন এবং স্কুলের বাচ্চাদের তার কোচিং নিয়ে আসার জন্য বিভিন্ন পাঁয়তারা করেন। তার কোচিং এ অধ্যায়ন কৃত বাচ্চাদের সকল পরীক্ষার প্রশ্ন নোট আকারে হুবহু লিখে দেন। যেন, তার কোচিং-এ পড়া বাচ্চারা ভালো ফলাফল করতে পারে। আর তাই দেখে অভিভাবকরা তাদের বাচ্চাদের তার কোচিং এ পাঠিয়ে দেন। তিনি নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই প্রত্যেক পরীক্ষাতেই এ ঘটনা ঘটাচ্ছেন। তারা আরো বলেন, তিনি বিদ্যালয়ে কম পাঠ দান করান এবং তার কোচিং এ যাওয়ার কথা বলেন। শিক্ষকেরা সকলেই প্রশ্ন তৈরি করে অধ্যক্ষ স্যারের কাছে জমা দেয়। কিন্তু সেখান থেকে কিভাবে তা বের হয়? আমাদের মনে হয় এ কাজের সাথে তিনি ও জড়িত আছেন। তা না হলে কিভাবে মোস্তফা স্যার প্রশ্ন গুলো হুবহু হাতে লিখে পরীক্ষার আগে তার কোচিং এর বাচ্চাদের পড়ান। এ বিষয়ে উর্ধ্বতনদের কাছে অভিযোগ করলেও কোন ফল পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, গত ২০২২ এর বার্ষিক পরীক্ষার সময় পুনরায় তিনি এ ঘটনা ঘটান। তার দেয়া হুবহু হাতের লেখা প্রশ্ন পরীক্ষার প্রশ্নের সাথে মিল পেয়েছি। শুধু তাই নয় যেখানে সরকার শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানষিক সকল ধরনের নির্যাতন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। সেখানে তারা বাচ্চাদের সাথে চালাচ্ছে নির্যাতন। আমার বাচ্চাকে আমি প্রতিদিন স্কুলে নিয়ে যাই। একদিন বাচ্চাকে নিয়ে যেতে দেরি হওয়ায় স্কুলের অ্যাসেম্বলিতে যেতে দেরি হয়। আর তাকে তিন তলা থেকে নিচ তলায় কান ধরিয়ে নিয়ে আসে। এ বিষয়ে আমি ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের কাছে  অভিযোগ দেই। আরো বলেন, এভাবে যদি শিক্ষক বাচ্চাদের সাথে প্রশ্নের খেলা খেলে তাহলে সেই বাচ্চা গুলো কি শিখবে তাদের কাছ থেকে ? আমরা এরকম শিক্ষকের কাছ থেকে বাচ্চাদের সুশিক্ষার আসা কিভাবে করবো ? যিনি অধিক অর্থ উপার্জনের জন্য তার কোচিং-এর বাচ্চাদের প্রশ্ন দিয়ে ভালো ফলাফল করান যেন তা দেখে বাচ্চারা তার কোচিং-এ ভর্তি হয়। এ রকম শিক্ষক একটি জাতির জন্য কি বয়ে আনতে পারে ?

অভিভাবকগণ বলেন, শুনেছি প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা চার-পাঁচ জন মিটিং করেছে কিন্তু কোন প্রকার ভালো ফল পাওয়া যায় নি। আমাদের মনে হয় তারা ও হয়তো এর সাথে জড়িত। এমন লজ্জাজনক কাজ করার পরও কোন প্রক্রিয়া গ্রহণ করেন নি তারা। উক্ত শিক্ষক ও উর্ধ্বতনদের নিয়ে প্রশ্ন কি হবে সমাজে তাদের দিয়ে ? একজন শিক্ষক হয়ে এরকম কাজ করায় তীব্র নিন্দা এবং তার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। যেন আর কোন শিক্ষক ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করতে না পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর