ঝালকাঠিতে বিএনপি ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ-পুলিশের সংঘর্ষে ১৪ জন আহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় শহরের আমতলা সড়কের দলীয় কার্যালয় অবস্থানকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এদিকে ঘটনার পরপরেই পুলিশের উপরে হামলার অভিযোগে থানা পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালিয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট আনসিুর রহমান খানসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ১৬ নেতা-র্কমীকে পুলিশ আটক করেছে।
এর আগে দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম। জেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন, আহবায়ক কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল, পৌর বিএনপি’র সভাপতি অ্যাড. নাসিমুল হাসান, সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি অধ্যাপক এজাজ আহমেদ।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন,“বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতির কারণে দেশের মানুষ ভালো নেই। আর্থনীতিবীদরা বলেছেন আগামীতে দেশে ভয়াভয় অর্থনৈকিত সংকট দেখা দেবে। দেশের এমন পরিস্থিতির জন্য আওয়ামী লীগ সরকার দায়ী। এ থেকে উত্তরণ পাওয়ার জন্য বিএনপির বিকল্প নেই। দেশের মানুষ তত্তবধায়ক সরকারের অধিনে নির্বাচন চায়। নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচন না দিলে কঠোর আন্দোলন করে সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে।”
হামলার ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচী দলীয় পদযাত্রা শেষে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের ওপরে ইট-পাটকলে নিক্ষেপ করে। এতে ঝালকাঠি সদর থানর ওসি অপারেশন ফিরোজ কামালসহ ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়। আহত পুলশি সদস্যরা হলেন, ওসি অপারেশন ফিরোজ কামাল, এসআই মো. শফকিুর রহমান, এসআই নজরুল ইসলাম, এএসআই শিপন ও কনস্টেবল মতিয়ার রহমান। তারা ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তবে বিএনপির নেতারা দাবী করেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসাবে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্নভাবে পদযাত্রা কর্মসূচী পালন করে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছিল। এসময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একদল স্বন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে বিএনপি অফিসে হামলা চালায়। এতে জেলা বিএনপির সদস্য সচবি এ্যাডভোকটে শাহাদাৎ হোসেন, জেলা বিএনপি নেতা জামাল হোসেন, নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিচুর রহমান হেলালসহ সহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ৮ নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ্যাডভোকটে শাহাদাৎ হোসনে বলনে,‘ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একদল স্বন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের উপরে হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে ৮জন আহত হয়। অথচ থানা পুলিশ উল্টো আমাদের নেতাকর্মীদের পুলিশের উপর হামলার কাল্পনিক অভিযোগে গণগ্রেপ্তার শুরু করে এখোন পর্যন্ত ১৬জনকে আটক করেছে। বর্তমানে আমাদের নেতাকর্মীরা গ্রেফতার আতঙ্কে চিকিৎসাও নিতে পারছেনা । তিনি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবী জানান।