বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

সাতক্ষীরার অলিতে গতিতে যন্ত্রতন্ত্র গড়ে উঠেছে বিরানি হাউজ, অস্বাস্থ্যকর ও নিন্মমানে খাবার তৈরি করে খাওয়ানো হচ্ছে ভোক্তাদের

স্টাফ রিপোর্টার:
আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ

সাতক্ষীরায় বিসমিল্লাহ বিরিয়ানি হাউজের নামে একাধিক দোকান খুলে ভোক্তাদের সাথে করছে প্রতারণা। একাধিক মৌখিক  অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এস,পি বাংলোর বিপরীতে একটি আবাসিক বাড়িতে উক্ত প্রতিষ্ঠানের রান্নাঘর সেখান থেকে খাবার রান্না করে শহরের তাদের বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করে। ঘরের মেঝেতে লক্ষ করা গেছে কয়েক মাসেও ঝাড়ু দেওয়া হয়নি।রান্নাঘরের একপাশে কন্টিনারে রয়েছে রং ফ্রিজে রাখা আছে কয়েকদিন আগের রান্না মাংস একই ফ্রিজে রাখা আছে কাঁচা মাংস। কর্মচারীরা জুতা পায়ে দিয়ে শরীরে ঘাম অবস্তায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একের অধিক গ্যাস সিলিণ্ডার মজুদ রেখে চলছে রান্না বান্নার কাজ। আবাসিক এলাকায় এমন কাজ করা না গেলেও দেদারচ্ছে চলছে এমন কাজ। একঘরে রান্নাঘর পাশের ঘরেই ফ্যামিলি বাসা নিয়ে ভাড়া থাকেন অনেকে। নাম প্রকাশে অনিউচ্ছুক এক নারী বলেন আমরা বাচ্চা নিয়ে খুব ভয়ে এখানে থাকি, আল্লাহ না করুক যদি কোন সিলিণ্ডার বিস্ফোরণ হয় তাহলে কি হবে আমাদের।
কয়েকজন সাংবাদিক সরজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে প্রতিষ্ঠানের বরিশালের বাসিন্দা  বিরিয়ানি ব্যাবসায়ী জাহিদ হোসেন তার ব্যাবসায়িক পাটনার শাহজাহান শেখ কে মোবাইল করলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিক পরিচয় শুনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে, এবং দাম্ভিকতার সাথে বলতে থাকে আমার এখানে ভোক্তা অধিকার ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসেছে আমাকে কিছুই করতে পারিনি,আপনারা কোথাকার সাংবাদিক আমার কি করতে পারবেন। আমি এখানকার স্থানীয় বাসিন্দা। এব্যাপারে পৌরসভা সেনেটারি অফিসার রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা সেখানে গিয়েছিলাম কিন্তু বড় কোন কিছু অসংগতি দেখতে পায়নি। এখন যদি তারা অসাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
ভেজাল বিরানি খাদ্য উৎপাদন কারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের সাতক্ষীরায় দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার শরিফুল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরার বিভিন্ন অলিগলিতে বিরানির দোকান গড়ে উঠেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ কোন অভিযোগ না করায় আমরা কোন ব্যবস্হা নিতে পারি না। খাবার তৈরির কারখানায় অবশ্যই পরিবেশের ছাড়পত্র গ্রহন করে খাদ্য তৈরি করতে হয় কিন্তু নন অফিসিয়ালি ভাবে বিরানি হাউজ গুলোর কর্মি ও কর্মের দিকটা বিবেচনা করে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। তবে প্রচুর পরিমানে সিলিন্ডার ব্যাবহার ও মজুদ রেখে আবাসিক এলাকার ভিতরে বিরানি তৈরির কারখানা গড়ে তোলা আইননানুগভাবে অবৈধ।  পরিবেশ সংরক্ষণে পরিবেশ অধিদপ্তর কতৃক অচিরেই এদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্হা গ্রহন করা হবে।
এব্যাপারে স্থানীয় জেলার সচেতন মহল দাবি করেন,
 আমরা খাবারে পরিপূর্ণ তৃপ্তির আশায় নামি-দামি  বিরানির দোকান থেকে খাবার কিনে খায়, কখনো দেখি পঁচা খাবার ও বাসি মাংস, আমাদের জেলায় একাধিক দায়িত্ব প্রাপ্ত সংস্থা রয়েছে,তারা যদি উদাসীন ভাবে দায়িত্ব পালন করে তাহলে কি বোঝা যায় সেটা প্রশ্ন থেকে যায়। আমরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি যাহাতে দ্রুত এই প্রতিষ্ঠান গুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর