মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

অভয়নগরে বিদ্যুৎতে পুড়ে কনকের মৃত্যুর রহস্য ক্রমেয় ঘোনিভূত, পুলিশের খাতায় অপমৃত্যু মামলা

মোঃ কামাল হোসেন, অভয়নগর প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২২, ১০:০০ অপরাহ্ণ

অভয়নগর উপজেলার ১নং প্রেমবাগ ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কিশোর কনক সরদারের বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে কারেন্টের তারে জড়িয়ে মৃত্যু সংবাদটি যেমন সাধারন মানুষের হৃদয়ে চলছে রক্ত ক্ষরণ তেমনি ভাবিয়ে তুলেছে সর্ব মহলকে। কনকের মা দাবি করেছেন তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে,কোন প্রকার যাচাই বাছাই ছাড়া পুলিস সাদা কাগজে কনকের পিতার মোশাররফ সরদারের স্বাক্ষর করে নেয় এবং নিহত পরিবার কে না জানিয়ে অভয়নগর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়। মাসলা নং ৪৭/২২ মামলা সূত্রে জানাগেছে গত ২৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে ২৫ নভেম্বর শুক্রবার   সকাল ৭ টার মধ্যে কোন এক সময় তার ছেলে কনক সরদার (২০), বিদ্যুতের তার জড়িয়ে মারাগেছে। তবে ভিকটিমের মা দাবি করেছেন  মাসুম সরদার ও সুজন তারা দুজন মিলে একই এলাকার মোবাইল নেটওয়ার্ক  টাওয়ারের ব্যাটারী চুরি করছিল তার বিস্তর কাহিনী কনক সরদার কে ওরা বলেছিলো এবং এলাকাবাসীর নিকট কনক জানিয়ে দেওয়ায় মাসুম কে অভয়নগর উপজেলার  মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এক শালিশের মাধ্যমে মারধর করিয়া জরিমানা করে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা ধরে তা আদায় করে তখন থেকে মাসুম ও সুজন  ভিকটিমকে খুনকরার পরিকল্পনা করে। সুজন ও মাসুম সহ  অজ্ঞাত বেশ কয়েক জন কনক কে খুন করার পায়তারা করতে থাকে এবং সুযোগ খুঁজিতে থাকে।  এবিষয়ে ভিকটিমের মামা কবির হোসেন জানিয়েছেন গত ২৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবারে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার জন্য  মা বাবা কে জানিয়ে বাড়ী থেকে রাত্র অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় চেঙ্গুটিয়া বাজারে খেলা দেখতে যায় তার ভাগনে কনক সরদার এবং খেলা শুরু হইলে খেলা দেখা কালে রাত্র অনুমান ২.৩০ ঘটিকার সময় মাসুম মোটর সাইকেলে করে খেলা দেখার স্থান থেকে বাড়ী যাওয়ার কথা বলে ভিকটিমকে উঠিয়ে নিয়ে আসে। মাসুম ভিকটিমকে বাড়ীতে নিয়ে না যাইয়া ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব পরিকল্পনা মতে সবুজ সহ  অজ্ঞাত ৪/৫ জন অপেক্ষা করিতেছিল। কবির হোসেন অনুসন্ধান করে আরো জানতে পেরে তিনি জানান ভিকটিম কনক সর্দারকে নিয়ে মাসুম ও সুজন সহ  অজ্ঞাত নামা আসামীরা একত্রে মাটিতে ফেলিয়া কানে, নাকে ও গালের মধ্যে মাটি ভরিয়া দিয়া শ্বাস রোধ করিয়া মারিয়া এসিড বা আগুন দিয়া শরীরের সামনের অংশ অর্থাৎ বুক, পেট পুড়াইয়া দেয় অতঃপর ঐ স্থানে ইলেক্ট্রিক খাম্মার গোড়ায় লইয়া লাশ ফেলিয়া রাখে এবং লাশের পাশে একটি তার কাটা কার্টার ফেলিয়া রাখে।। যাহাতে মানুষ অনুমান করে যে, ইলেক্ট্রিক তার চুরি করিতে যাইয়া শক খাইয়া মারা গিয়াছে। লাশের শরীরে মুখের ভিতর, কানের ভিতর, নাকের ভিতর ইহা ছাড়া দুই হাতে মুখের ভিতর কাদা-মাটি মাখা ছিল এবং পেটের অংশটা পুড়া ছিল। বর্তমানে এলাকায় জানাজানি হইয়া গিয়াছে সুজন ও মাসুম সহ অজ্ঞাতদের সহায়তায় ভিকটিমকে খুন করিয়াছে। এবিষয়ে বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে মৃত- খালেক সরদারের ছেলে মাসুম সরদারের বাড়ি গেলে মাসুমকে পাওয়া যায়নি। পরে সেলিম মোল্লার ছেলে সুজন মোল্লার বাড়ি গেলে সুজনকে না পেয়ে সুজনের পিতা সেলিমকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ছেলে ওই কনক ও মাসুমের সাথে মিশতো কিন্তু ওই ঘটনার সাথে আমার ছেলে জড়িত নেই। এবিষয়ে অভয়নগর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিনারা পারভীন শালিশ মিমাংসার কথা স্বীকার করে জানান, নিহত কনক ও মাসুমসহ তারা বেশ কয়জনের একটি চোর চক্র সকল চোরকে পরিচালনা করে মাসুম নামের ওই ছেলে। এব্যাপারে অভয়নগর থানার এসআই গোলাম হোসেন বলেন, ওই কিশোরের মৃত্যুর বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে বুঝা যাবে কি কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর