“শিক্ষার জন্য এসো-সেবার জন্য বেড়িয়ে যাও” শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, শিক্ষা অর্জনে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার গুরুত্ব অনস্বীকার্য আর আনুষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে রেহাই পুকুরিয়া আদর্শ মহাবিদ্যালয়। দীর্ঘ ২৭ বছরে গড়ে উঠেনি মডেল শিক্ষা কমপ্লেক্স। ফলে আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে ভবন সংকটে পাঠদান অনিশ্চিত ৩’শ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। এক সময়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ এমপিও ভুক্তি মহাবিদ্যালয়। কলেজটি উমুক্ত থাকায় রোদে খুব গরম লাগে, শীতে খুব কষ্ট হয়, ক্লাস রুম সংকট, অবকাঠামো (ভবন) সংকট, বাউন্ডারি ওয়াল, ওয়াশব্লগ,কমনরুম, ল্যাব, লাইব্রেরি,কলেজ গেট, রাস্তাসহ নানা সমস্যায় করুণ বাস্তবতার মুখোমুখি কলেজটি।
গ্রামীন জনঘোষ্টির উচ্চ শিক্ষার কথা বিবেচনা করে তৎকালীন সময়ে মির্জা আব্দুর রহমান, মো: আরদোশ আলী তালুকদার, দেওয়ান আব্দুল লতিফ, মিয়ান বোরহান উদ্দিন, প্রতিষ্ঠাতা দেওয়ান আব্দুল বাতেন, অধ্যক্ষ ড.আবুল বাশারসহ গুনিজনদের প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালে ১’৪৫ একর জমিতে গড়ে তোলেন রেহাই পুকুরিয়া আদর্শ মহাবিদ্যালয় কলেজটি। সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় বাঘুটিয়া ইউনিয়নে রেহাইপুকুরিয়া গ্রামে অবস্থানরত রেহাই পুকুরিয়া আদর্শ মহাবিদ্যালয় আজ কালের সাক্ষী।
২৭ বছরের পুরোনো টিনের ২টি ঘর ক্লাস রুমের জন্য অনুপযোগী। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শ্রেণি কক্ষে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
দক্ষ শিক্ষক ও মানসম্মত পাঠদান শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার কারণ একলেজে পড়াশোনায় বিঙান
, মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদানে নিয়োজিত রয়েছেন ২০জন দক্ষ শিক্ষক ও ৬ জন স্টাফ।
১ম বর্ষের শিক্ষার্থী আওলাদ হোসেন, ২য় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী আছিয়া খাতুন জানায়, পুরাতন টিনসেট ঘরে পড়াশোনায় আমাদের কষ্ট হয় দরকার অবকাঠামো নির্মাণ। ক্লাসরুম সহ বিভিন্ন সংকটে পাঠদানে আমাদের কষ্ট আকাশ সমান সমাধান করা হয়নি দীর্ঘ ২৭ বছরে। মির্জা সেলিম ও একিন মোল্লা বলেন, ভবন নেই, শীত, গরম, কুয়াশা কিংবা বর্ষাসহ সকল মৌসুমেই চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। আমার এ কলেজ এর সকল সমস্যা সমাধান সহ ডিগ্রি চালুর দাবি করছি।
বাঘুটিয়া ইউপি সদস্য ও অভিভাবক দেওয়ান মতিয়ার রহমান মতি বলেন, প্রতিদিন সন্তানকে কলেজে পাঠাই ফলাফল ভাল বলে,সুনাম আরো বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি দ্রুত নতুন ভবন করে কলেজ বাচান এবং এ কলেজ ডিগ্রি পর্যন্ত পাঠদান চালুর দাবি করছি।
প্রভাষক দেওয়ান সাইদুল ইসলাম বলেন, অবহেলিত জনগোষ্ঠী নিরক্ষর মুক্ত সমাজ গঠন ও উচ্চ শিক্ষায় এলাকা আলোকিত করতে বর্তমান সরকারের আমলেই মডেল শিক্ষা কমপ্লেক্স দেখতে চাই।
অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুল ইসলাম বলেন, এ কলেজ পরিদর্শন করেও কেউই মনে রাখে না, সাজানো গোছানো পরিপাটি ও সুন্দর পরিবেশ অথচ পাঠদানে হোচট খেতে হচ্ছে অবকাঠামো সহ নানা সমস্যায়। এক সময়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ সরকারের এমপিও ভুক্তি মহাবিদ্যালয়। উল্লেখিত সকল সমস্যা সমাধানসহ কলেজটি ডিগ্রি (পাস) খোলার প্রয়োজন বলে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অতি, আঃ ছালাম বলেন, আমি রেহাই পুকুরিয়া কলেজটি পরিদর্শন করে দেখেছি অবকাঠামো সংকটসহ নানা রকম সমস্যা, শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আগ্রহ আছে রেজাল্টও ভাল, পরিবেশ বান্ধব কলেজ, আধুনিক শিক্ষা কমপ্লেক্স নির্মাণে আমার সু নজর থাকবে।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এইচ এম খোদাদাদ হোসেন বলেন, কলেজটির নাম শুনেছি নির্বাচন শেষ যে কোন মুহুর্তে কলেজটি পরিদর্শন করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।