সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

শিরোনাম :
শিরোনাম :
অভয়নগরে বারবার অভিযোগ, তবুও নিরব প্রশাসন, হামিদ মেমোরিয়াল (প্রা.) হাসপাতালে আর কত মৃত্যু? এমপি হিসেবে নয়, জনগনের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই- নবনির্বাচিত এমপি লাভলু চাঁদাবাজ ধরিয়ে দিলেই পুরস্কার: কক্সবাজারে নবনির্বাচিত এমপি লুৎফুর রহমান কাজলের ঘোষণা অভয়নগরে প্রশাসনের চোখের সামনেই মাদকের রমরমা বাণিজ্য পাবনা-৩ আসনে পুনরায় ভোট গণনার দাবি, ডিসি অফিস ঘেরাও করে বিএনপির বিক্ষোভ আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করবোনা , কাহাকেও প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে দিবনা- ব্যারিষ্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির আটঘরিয়ায় বিএনপির অফিস ও বাড়িতে হামলা ভাংচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন টাঙ্গাইল-৬(নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে জামানত হারালেন ৫ প্রার্থী

অভয়নগরে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

মোঃ কামাল হোসেন, অভয়নগর প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০২২, ৫:০৫ অপরাহ্ণ

যশোরের অভয়নগর উপজেলার রাজঘাট থেকে প্রেমবাগ পর্যন্ত এলাকাজুড়ে বালু এবং কয়লার বিষাক্ত গ্যাস ও ধুলা বালুতে  স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ। সবসময়ই বাতাসের সঙ্গে ধুলাবালি ও ধোঁয়া ছড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। শিশু, বয়স্কসহ সব বয়সের মানুষ ফুঁসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। মহাসড়ক, নদীর পাড় ও রেলপথের পাশে বালু ও কয়লার ড্যাম্প (বালুর স্তূপ) গড়ে তোলা হয়েছে। এসব বালুর ধুলা ও কয়লার বিষাক্ত গ্যাসে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন স্থানীয়রা।
এছাড়া বসতবাড়ি ঘিরে ও কৃষি জমিতেও বালু ও কয়লা ড্যাম্প করে রাখা হয়েছে। এসব বালুর ধুলা ও কয়লার বিষাক্ত ধোঁয়া ও গ্যাসে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। বিশেষ করে যশোর-খুলনা মহাসড়কে নওয়াপাড়া বেঙ্গলগেট থেকে প্রেমবাগ পযন্ত মানুষের চলাচল দায় হয়ে পড়েছে। এবিষয়ে ফারুক হোসেন নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী জানান, চেঙ্গুটিয়া থেকে মেইন রোডে আসতে গিয়ে আমার সারা শরীরে ধুলাবালু ও কয়লার গ্যাসে দমবন্ধ হওয়ার অবস্থা, এর প্রতিকার কি আমাদের হবেনা? হাতে গোনা দু’একজনের ব্যবসার জন্য হাজার হাজার মানুষের বেঁচে থাকা কষ্টের হয়ে পড়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা জানান, জনবসতির দেড় কিলোমিটারের মধ্যে কয়লার ডিপো করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া কয়লার স্তূপে উঁচু দেওয়াল দিয়ে ঘিরে রাখার বিধানও রয়েছে। ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিনিয়িত ঘরের দরজা-জানালা, আসবাবপত্র, পোশাক-পরিচ্ছদে কয়লার ও বালুর ধুলা পড়ছে। এমনকি ধুলা পড়া খাবারও খেতে হচ্ছে তাদের। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন,  কয়লা-বালুর ডিপো সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন সময় স্মারকলিপি, মানববন্ধনসহ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হলেও কোনো কর্তৃপক্ষই ব্যবস্থা নিচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার আলীপুর এলাকার এক বাসিন্দা জানান, রাসায়নিক এই কয়লা ও বালুর বিষাক্ত ধুলা ও ধোঁয়ায় তার পরিবারের প্রায় সবাই শ্বাস-প্রশ্বাস কষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া তার পরিবারের সদস্যদের প্রতিনিয়ত মাস্ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। নওয়াপাড়া বাজারের কয়লা ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, আফিল ট্রেড, উত্তরা ট্রেডার্স, নওয়াপাড়া ট্রেডার্স, শেখ ব্রাদার্স, মাহাবুব অ্যান্ড ব্রাদার্স, জয়েন্ট ট্রেডিং, সাহারা এন্টারপ্রাইজ, মোশারফ অ্যান্ড ব্রাদার্স, সরকার ট্রেডার্সসহ প্রায় ১৮টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ কয়লা নওয়াপাড়া বাজারে আমদানি করে তা অন্যত্র বিক্রি করে থাকে।আমদানি করা কয়লা প্রথমে জাহাজ থেকে নামিয়ে ভৈরব নদের পাশে রাখা হয়। পরবর্তীতে মহাসড়ক, রেলপথ ও আবাসিক এলাকায় খোলা আকাশের নিচে ড্যাম্প করে রাখা হয়। তারপর পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কয়লা কিনে তা ট্রাকে লোড করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যান। এছাড়াও মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন বালুর স্তুপের ড্যাম্পিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের অবস্থা নাজেহাল হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, খোলা আকাশের নিচে রাসায়নিক এই কয়লা ড্যাম্প করায় মহাসড়ক, নদীপথ ও রেলওয়ের দুই পাশে থাকা গাছগুলো মারা যাচ্ছে। কয়লার কারণে সবসময়ই বাতাসের ধুলা ও ধোঁয়া ছড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। শিশু, বয়স্কসহ সব বয়সের মানুষ ফুঁসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এছাড়া কয়লার পোঁড়া দুর্গন্ধে নওয়াপাড়ার বাতাস বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। মাঝে-মধ্যে কয়লার স্তূপে আগুনের কালো ধোঁয়া নির্গত হতে দেখা যায়। প্রভাবশালীরা এই ব্যবসায় জড়িত থাকার কারণে তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেও এর কোনো পরিত্রাণ পাওয়া যাচ্ছে না। বালু ও কয়লার গ্যাসে স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, বালু ও কয়লার গ্যাস ও ধোঁয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। যত্রতত্র কয়লা রাখার জন্য শ্বাসকষ্ট, ফুঁসফুসজনিত সমস্যা নিয়ে এলাকার অনেক রোগী প্রতিদিন হাসপাতালে আসছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়লার বালুর ড্যাম্পের কারণ গত ৮ নভেম্বর সারাদিন চেঙ্গুটিয়া থেকে বেঙ্গলগেট পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
এবিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর উপপরিচালক ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর