সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

শিরোনাম :
শিরোনাম :
অভয়নগরে বারবার অভিযোগ, তবুও নিরব প্রশাসন, হামিদ মেমোরিয়াল (প্রা.) হাসপাতালে আর কত মৃত্যু? এমপি হিসেবে নয়, জনগনের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই- নবনির্বাচিত এমপি লাভলু চাঁদাবাজ ধরিয়ে দিলেই পুরস্কার: কক্সবাজারে নবনির্বাচিত এমপি লুৎফুর রহমান কাজলের ঘোষণা অভয়নগরে প্রশাসনের চোখের সামনেই মাদকের রমরমা বাণিজ্য পাবনা-৩ আসনে পুনরায় ভোট গণনার দাবি, ডিসি অফিস ঘেরাও করে বিএনপির বিক্ষোভ আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করবোনা , কাহাকেও প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে দিবনা- ব্যারিষ্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির আটঘরিয়ায় বিএনপির অফিস ও বাড়িতে হামলা ভাংচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন টাঙ্গাইল-৬(নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে জামানত হারালেন ৫ প্রার্থী

পীরগঞ্জে শীতের আগমনে খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

মাহবুবুর রহমান বুলু, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ
আপডেট সময়: বুধবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২২, ৬:০৫ অপরাহ্ণ

ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে এক সময় খেজুর গাছে ভরপুর ছিল। শীত এলেই ব্যস্ত হয়ে পড়তেন গাছিরা। বিকেল হলেই গাছে হাঁড়ি বসাতেন আবার সকাল হলে রস সংগ্রহ করে বাড়ি নিয়ে আসতেন। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলতো গুড় আর পাটালি তৈরির কাজ। খেজুরের গুড় আর পাটালির মৌ মৌ গন্ধ বাতাসে ভেসে বেড়াতো। কেউ কেউ রস বিক্রি করতেন আবার কেউ স্বজনদের বাড়িতেও পাঠাতেন। কালের বিবর্তনে এসব এখন ইতিহাসের পাতায় জড়ো হচ্ছে। হারিয়ে যেতে বসেছে খেজুর গাছ।
তবে গত কয়েক বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা দুটি খেজুর বাগান বদলে দিয়েছে পীরগঞ্জ উপজেলার চিত্র। এসব এলাকায় প্রতি বছর শীতে তৈরি হয় খেজুরের গুড়। রস ও গুড় কিনতে বাগানে ভিড় করেন বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ।
একই সঙ্গে খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা গ্রামে। সেখানে বেশ কয়জনের উদ্যোগে গড়ে ওঠেছে রাস্তার ধারে খেজুরের বাগান। দু’বছর ধরে তারা বাণিজ্যিকভাবে খেজুরের রস থেকে গুড় উৎপাদন শুরু করেছেন। প্রত্যন্ত গ্রামটিতে গড়ে ওঠা বাগানটি এখন সেই এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাণ্ডারি বলে জানান এলাকাবাসী। তাদের অনুসরণ করে উপজেলার অনেকেই আগ্রহী হয়ে খেজুরের বাগান করতে চাইছে।
উদ্যোক্তারা প্রতিনিয়তই বিভিন্ন পরামর্শ নিতে আসছেন বলে জানান বাগান মালিক সোহেল রানা। তিনি বলেন, ২০ দিন হয়েছে কাজ শুরু করেছি। গাছের ময়লা ও অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ছেঁটে ফেলা হয়েছে। ধারালো দা (গাছিদা) দিয়ে খেজুর গাছের সোনালী অংশ বের করে (যাকে বলে চাঁচ দেওয়া) নোলন স্থাপনের কাজও শেষ করে গাছে লাগানো হয়েছে মাটির পাতিল।  শুরু হয়েছে সুস্বাদু খেজুর রস সংগ্রহের কাজ। পরে তা দিয়ে তৈরি হবে গুড় ও পাটালি।
সোহেল রানা আরও বলেন, গাছ একবার ছাঁটলে তিন-চার দিন রস সংগ্রহ করা যায় এবং পরবর্তীতে তিন দিন শুকাতে হয়। এভাবে কাটলে গাছের রস সুমিষ্ট হয়। রস সাধারণত নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সংগ্রহ করা যায়। রস সংগ্রহের পর হাড়ি পরিষ্কার করে রোদে শুকাতে হয় অথবা আগুনে ছেকে নিতে হয়। এতে সংগৃহীত রসে গাঁজন বন্ধ হয়। ঝুঁকি নিয়েই কোমরে রশি (দড়ি) বেঁধে গাছে ঝুলে রস সংগ্রহের কাজ করেন গাছিরা। প্রতিদিন বিকেলে ছোট-বড় মাটির হাঁড়ি গাছে বাঁধা হয়, আর সকালে রস সংগ্রহ করা হয়। কেউ কেউ কাঁচা রস এলাকার বিভিন্ন স্থানে ও হাটে-বাজারে খাওয়ার জন্য বিক্রি করেন। আবার কেউ কেউ সকালেই এই রস জ্বালিয়ে গুড় তৈরি করবেন।
এ বিষয়ে বৈরচুনার গাছি তালেব বলেন, বর্তমানে যে হারে খেজুর গাছ হারিয়ে যেতে বসেছে, তাতে এক সময় হয়তো আমাদের দেশে খেজুর গাছ থাকবে না। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে চাইলে আমাদের সবার উচিত তালগাছের মতো বেশি বেশি খেজুর গাছ লাগানো এবং তা যত্ন সহকারে বড় করা।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজেন্দ্র নাথ রায় বলেন,নতুন করে খেজুর গাছ বীজ লাগলে আমরা দিবো। সেই সাথে রোপণ থেকে শুরু করে সকল কাজে আমরা সহযোগিতা করবো।
নতুন করে কেউ খেজুরের বাগান করতে চাইলে বা খেজুরের গাছ রোপণে যে কোনো সহযোগিতায় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু হোসেন তিনি বলেন এ জেলায় খেজুরের গাছ রোপণের ক্ষেত্রে তেমন একটা আগ্রহ দেখা যায় না সবাই আম, কাঁঠাল আর লিচু নিয়েই ব্যস্ত। সব গাছেরই প্রয়োজন আছে। তিনি খেজুর বাগান উদ্যোক্তাদের স্বাগত জানান। প্রয়োজনে তারা যোগাযোগ করতে পারবেন বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর