নওগাঁর আত্রাইয়ে ট্রাক্টরে বালু বহনে নিয়ম নীতি মানছে না চালকরা। তারা বালু বোঝাই ট্রাক্টরগুলো বেপরোয়াভবে রাস্তায় দাপিয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। ফলে ওই বালুগুলো সামান্য বাতাসে উড়ে এসে পথচারীদের চোখে পড়ে চোক্ষুরোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকে।
জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারে বিপুল পরিমাণ বালুর প্রয়োজন হচ্ছে। এ ছাড়াও নির্মাণাধীন ঘর বাড়ি ও বিল্ডিংয়ের জন্য প্রতিনিয়ত ট্রাক্টর দিয়ে বালু বহন করা হচ্ছে। আত্রাই নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে একাধিক স্থানে স্তুপ করা হয়। বিশেষ করে আত্রাই-নওগাঁ পাকা সড়কের সদুপুর, বারুনিতলা ও উপজেলার বেওলা নামক স্থানে বালুর স্তুপগুলোতে নাজেহাল এলাকাবাসী। আর সেখান থেকে ইচ্ছে মাফিক মূল্যে এসব বালু উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এদিকে পাকা রাস্তা সংলগ্ন একাধিক স্থানে বালুর স্তুপ তৈরি করাতে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব স্তুপ থেকে দিনরাত অবিরাম ট্রাক্টর দিয়ে বালু বহন করা হচ্ছে। বালু বহনকালে বালুর উপর ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখার বিধান থাকলেও চালকরা এর কোনে তোয়াক্কাই করছে না। অনেক সময় তারা প্রভাবশালী ঠিকাদারের প্রভাব দেখিয়ে এসব ট্রাক্টর দাবড়িয়ে নিয়ে চলে। সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার সংস্কার কাজ চলায় বালু ভর্তি ট্রাক্টর চলাচল অনেক বেড়ে গেছে। সরকারী নিয়ম নীতিকে উপেক্ষা করে বেপরোয়াভাবে ট্রাক্টর চলাচলে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের আব্দুল মতিন মামুন বলেন, আমাদের ইউনিয়নে কাশিয়াবাড়ি থেকে ভোঁপাড়া রাস্তাটি পুন:নির্মাণ হচ্ছে। এ রাস্তার সমস্ত বালু আত্রাই-পতিসর সড়ক দিয়ে বহন করা হয়। ট্রাক্টরে উন্মুক্ত বালু বহনে পথচারীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। কাশিয়াবাড়ি নূর-উল- কোরআন মাদ্রাসার মাওলানা শাহ আলম বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি রাস্তা সংলগ্ন। প্রতিষ্ঠানে অর্ধশতাধিক শিশু শিক্ষার্থী অবস্থান করে। এ রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলে আমরা সবসময় আতঙ্কিত থাকি। আত্রাই থানার ওসি তারেকুর রহমান বলেন, বালুভর্তি ট্রাক্টর ত্রিপল দিয়ে আবৃত করে বালু বহনের নির্দেশনা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই চালকরা এ নির্দেশনা মানে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকতেখারুল ইসলাম বলেন, এটা সম্পূর্ণরুপে সরকারী নীতিমালা পরিপন্থি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।