শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

পলাশবাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আশরাফুজ্জামান সরকার, গাইবান্ধাঃ
আপডেট সময়: শনিবার, ১৬ জুলাই, ২০২২, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ

গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের উপর সেনা সদস্য কর্তৃক অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ১৫ জুলাই বিকেলে পলাশবাড়ী প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধার কন্যা শ্যামলী আক্তার তার বক্তব্যে বলেন, আমি আমার বৃদ্ধ মাতা, ভাই-বোনদের নিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করিয়া আসিতেছি। আমার প্রতিপক্ষ জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে দীর্ঘদিন থেকে আমি এবং আমার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জীবন নাশের হুমকি-ধামকি এবং মিথ্যা মামলা মোকদ্দমায় জড়ানোর চেষ্টা করে আসছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় মৃত আবতাব হোসেন খোকার পুত্র মোকলেছুর রহমান তুফান ও তৌফিকুর রহমান রিফাত গং ১৩ জুলাই সকালে আমাদের ভোগ দখলীয় জমিতে থাকা মেহগনি গাছ জোরপূর্বক ডালপালা কাটিয়া অনুমান ৪ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। আমি, আমার বৃদ্ধা মাতা ও ছোট ভাই প্রতিপক্ষদের বাঁধা নিষেধ করিলে তারা আমাকে সহ আমার বৃদ্ধ মাতা ও ছোট ভাইকে মারডাং করে গুরুত্বর জখম করে। এ ব্যাপারে আমার ছোট ভাই আনারুল ইসলাম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করিলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রতিপক্ষদের বাঁধা নিষেধ করিলে এ সময় থানা পুলিশের উপস্থিতিতেই উপরোক্ত প্রতিপক্ষগণ আমার তল পেটে লাথি মেরে মাটিতে ফেলিয়া দিয়ে উপর্যুপুরি কিল ঘুষি মারডাং করে।

পরবর্তী সময় ১.৪৫ ঘটিকার সময় আমি চিকিৎসা নেওয়ার জন্য পলাশবাড়ী থানাধীন একই মৌজাস্থ প্রেসক্লাব রোডে আঃ রাজ্জাকের বেগম রোকেয়া ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের কাছে উপস্থিত হলে সকল প্রতিপক্ষগণ পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে লাঠি-সোডা, লোহার রড, লোহার পাইপ, ছোরা সহ বিভিন্ন প্রকার দেশীয় অস্ত্রে-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাকে চারপাশ থেকে ঘিরিয়া ধরিলে তাদের হাতে থাকা লোহার রড দ্বারা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাথারীভাবে মারডাং করিয়া থেতলানো ফুলা ও বেদনাদায়ক জখম করে। আমার ছোট ভাই আনারুল ইসলাম-কে স্বজোরে চোট মারিয়া গুরুত্বর হাড়কাটা রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় আমার ১ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ও কানে থাকা ৪ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের কানের দুল জোর পূর্বকভাবে ছিরিয়া নেয়। আমার ছেলে লিয়ন শেখকে লোহার রড দ্বারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথারীভাবে মারডাং করিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেলা ফুলা বেদনাদায়ক ও কালশিরা জখম করে। আমার বৃদ্ধ মাতা সুফিয়া বেগমকে এলোপাথারীভাবে মারডাং করিয়া মাটিতে ফেলিয়া দিয়া দুই হাত দিয়া গলা চাপিয়া ধরিয়া হত্যার চেষ্টা করে। প্রতিপক্ষগণ তাদের হাতে থাকা লাঠি দ্বারা আকাশ মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাথারী মারডাং করিয়া ছেলাফুলা জখম করে। একটি লোহার পাইপ কারিয়া নিয়া আমার নিচ পেটে স্বজোরে পরপর কয়েকটি আঘাত করিলে আমি অচেতন হইয়া মাটিতে পড়িয়া যাই। লোকজন আমাদেরকে উদ্ধার করিয়া অটোভ্যান যোগে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান।

উক্ত ঘটনায় ১৪ জুলাই পলাশবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করি, যার মামলা নং- ১৩, মামলা দায়েরের পর হতে মামলার আসামীগণ প্রকাশ্য ঘোড়াফেরা করলেও অজ্ঞাত কারণে থানা পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার না করায় আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যরা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভূগিতেছি। তাই আমি আপনাদের মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর