বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

নাগরপুরে জমে উঠেছে তাল কুশ বিক্রি “গরমে মুখরোচক জনপ্রিয় তালকুশ”

আমজাদ হোসেন রতন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
আপডেট সময়: সোমবার, ৩০ মে, ২০২২, ৫:০১ অপরাহ্ণ

শুরু হয়েছে মধুমাস। চলতি সময়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে হরেক রকমের সুস্বাদু ফল। ফলের তালিকায় রয়েছে, আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ছাড়াও অন্যতম আরেকটি ভিন্নধর্মী রসালো ফল তালের শাঁস(তালের আঁটি)। নরম অংশটি খুবই সুস্বাদু। গ্রাম্য ভাষায় এটি ‘তালকুশ’ বা তালের আঁটি নামে বেশ পরিচিত। প্রচুর গরমে তালের এই শাঁসটি শহর ও গ্রামের মানুষের কাছে খুবই প্রিয়।

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে প্রতিটি এলাকায় তালগাছগুলোতে কচি তালে ভরে গেছে। মধুমাসের এ ফলকে কেউ বলে তালের শাঁস, কেউ বলে তালকুশ, আবার কেউ বলে তালের আঁটি।

বর্তমানে শহর থেকে শুরু করে গ্রামের বিভিন্ন অলিতে গলিতে এই মৌসুমি ফল তালের শাঁস বিক্রি বেড়ে গেছে।

তৈলাক্ত খাবারের চেয়ে তালের শাঁস অনেক উপকারী। এর রয়েছে অনেক গুণাগুণ।

উপজেলার কৃষকদের গাছের তালের শাঁস যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। শিশুসহ সব বয়সী লোকের মধ্যে এই তালের শাঁসের কদর দিন দিন বেড়েই চলেছে। উপজেলার প্রতিটি গ্রামেই কম বেশি তাল গাছ রয়েছে।

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, সদর বটতলা, কলেজ রোড ও তালতলা ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে এর চাহিদা অনেক বেড়েছে। বিক্রেতা শাঁস কেটে সারতে পারছে না, ক্রেতারা দাঁড়িয়ে রয়েছে শাঁস নিতে। তালের শাঁস বিক্রি করে অনেক হতদরিদ্র মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন।

শাঁস বিক্রেতা মো. শাহীন মিয়া, মো. জোসন ফকিরসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী  জানান, প্রতি বছরই এসময়ে তালের শাঁস বিক্রি করে সংসার চালান। গ্রাম অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে তাল কিনে গাছ থেকে পেরে এনে শাঁস বিক্রি করেন।

তবে গাছে ওঠে, বাঁধা ধরে পাড়া সবচেয়ে কষ্টকর, এ ব্যবসার সাথে তারা জড়িত প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর চলছে। বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি থেকে জৈষ্ঠ্য মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত এ এক মাস চলবে তালের শাঁস বিক্রির কাজ। প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ শাঁস বিক্রি করা যায়। একটি শাঁস ৫ /১০ টাকা দরে বিক্রি করছি(আকার, আকৃতি অনুযায়ী)। এতে তার প্রায় ৫০০-৮০০ টাকা লাভ হয়।

শাঁসের পুষ্টি গুনাগুণ সম্পর্কে সিসিক কর্মকর্তা ডা: জাহিদুল ইসলাম সুমন বলেন, তালের শাঁস শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটি ফল। গরমের দিনে তালের শাঁসে থাকা জলীয় অংশ পানি শূন্যতা দুর করে। এছাড়া ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, এ, বি কমপ্লেক্সসহ নানা ধরনের ভিটামিন। তালে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। কচি তালের শাঁস রক্তশূন্যতা দুর করে। চোখের দৃষ্টি শক্তি ও মুখের রুচি বাড়াতে সাহায্য করে।

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ্বাস বলেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় ৭০০ তালগাছ রয়েছে। তিনি আরও জানান, উপজেলার বিভিন্ন সড়কে বজ্রপাত প্রতিরোধে কাবিখা প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০০০ তালের বীজ ইতিপূর্বে রোপণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে মাঠ সহকারীগণ কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর