টাঙ্গাইলের বাসাইলে তৃষা মণি (৮) নামের এক শিশু শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতনের পর সিলিংফ্যানের সঙ্গে ঝুঁলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (২৯ মে) শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরআগে বৃহস্পতিবার (২৬ মে) বিকেলে বাসাইল উপজেলার ভাটপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (২৮ মে) বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
মৃত তৃষা মণি ওই এলাকার আবু ভূইয়ার মেয়ে। তৃষা বাসাইল পৌর শহরের শহীদ ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত ২৬ মে বিকেলে তৃষার মা স্বম্পা বেগম তার ছেলেকে স্কুল থেকে আনতে বাড়ি থেকে বের হন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি বাড়িতে ফিরে দেখেন তৃষা সিলিংফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেছানো অবস্থায় ঝুঁলে আছে। পরে তৃষাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখান থেকে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেফার্ড করেন। পরে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
তৃষার মা স্বম্পা বেগম বলেন, ‘আমি ছেলেকে স্কুল থেকে আনতে বাইরে গিয়েছিলাম। বাড়িতে এসেই দেখি আমার মেয়ে সিলিংফ্যানের সঙ্গে ঝুঁলে আছে। আমার মেয়েকে নির্যাতনের পর সিলিংফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে বেঁধে ঝুঁলিয়ে রাখা হয়। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে দুইদিন পর আমার মেয়ে মারা যায়। আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় ফ্যান থেকে নামানোর সময় কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুত এগিয়ে আসে। তারাই আমার মেয়েকে নির্যাতনের পর হত্যার উদ্দেশ্যে ফ্যানের সঙ্গে ঝুঁঝিয়ে রাখে। চিকিৎসকরাও বলেছেন- তৃষাকে নির্যাতন করা হয়েছে।’
তৃষার বাবা আবু ভূইয়া বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। আমার মেয়ে অনেক ছোট। সে আত্মহত্যা কী? এটাই তো বুঝে না। আমার ঘরের ফ্যান অনেক উচুতে সে এটা নাগাল পাবে না। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কেউ নির্যাতনের পর ঝুঁলিয়ে রেখেছে। আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। এঘটনায় মামলা করা হবে।’
বাসাইল থানার এসআই হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মৃতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এদিকে, শিশুটির মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাকে নির্যাতনের পর কেউ হত্যার উদ্দেশ্যে সিলিংফ্যানের সঙ্গে ঝুঁলিয়ে রেখেছে, নাকি সে নিজেই আত্মহত্যা করেছে! এই বিষয়টি নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।
#CBALO/আপন ইসলাম