বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

তাড়াশ উপজেলায় চালের দাম রাতারাতি বৃদ্ধি নিম্ম শ্রেণির মানুষের হাহাকার

মোঃ মুন্না হুসাইন, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: শুক্রবার, ২৭ মে, ২০২২, ৬:১৪ অপরাহ্ণ

বোরো ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর পর গোলায় উঠতে শুরু করেছে নতুন ধান। আসছে বাজারেও। এখনো ধান কাটা পুরোপুরি শেষ হয়নি। বোরোর এ ভরা মৌসুমে বেড়েছে চালের দাম।
ব্যবসায়ীরা জানান, বড় মিলার ও শিল্প গ্রুপগুলো অস্বাভাবিকভাবে চাল মজুত করায় এক সপ্তাহে চালের দাম বস্তাপ্রতি ৩-৪শ টাকা বেড়েছে।
চালের পাইকারি মোকাম ও বড় শিল্প গ্রুপগুলোর কোনো চাল মিল নেই। অথচ প্যাকেটজাত করে বেশি দামে চাল বিক্রি করে। এসব কোম্পানিগুলো সারা বছরের চাল মজুত করে ফেলে। এতে বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়। চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়’।
এদিকে, কয়েক মাস ধরে দেশে ভোগ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, এই চাপে মানুষের জীবনযাত্রায় নাভিশ্বাস ওঠেছে। এখন নতুন করে চাপ বেড়েছে চালের দাম। টান পড়েছে ভোক্তার পকেটে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের কষ্ট আরেক দফা বেড়েছে।
উপজেলার বড় বড় চাল ব‍্যবসিক বলেন, ‘সয়াবিন তেলের মতো চাল মজুত করে সংকট সৃষ্টি করা হয়। এখন মোকামে চাল নেই বলেই জবাব দেয়। বাড়তি দামেও চাল দিতে চায় না। চাল আমদানি উন্মুক্ত করা হলে মজুতদারিদের লাগাম টেনে ধরা যাবে’।
তিনি বলেন, ‘বড় মোকাম ও কোম্পানির গুদামে অভিযান পরিচালনা করলেই সয়াবিন তেলের মতো লুকিয়ে রাখা চাল বেরিয়ে আসবে।’
মিলার ও আড়তদাররা জানান, সরকার ধান-চাল সংকট কর্মসূচি শুরু করার পর চালের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের কাছে ধান-চাল বিক্রি করতে হচ্ছে মিলারদের। সরকার ধান-চালের দর ঘোষণার পর পরই বেড়ে গেছে চালের দাম।
চালের পাইকারি মোকাম ঘুরে দেখা যায়, পাইকারিতে জিরাশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৩০শ টাকা দরে। ঈদের পরবর্তী সপ্তাহে তা বিক্রি হয়েছিল ২৭-২৮শ টাকা দরে। নূরজাহান সিদ্ধ চাল বিক্রি হচ্ছে ২২-২২৫০ টাকা দরে। তা বিক্রি হয়েছিল ২০০০ থেকে ২০৫০ টাকা দরে। মিনিকেট আতপ বিক্রি হচ্ছে ২৮শ টাকা দরে। তা বিক্রি হয়েছিল ২৪ শ টাকা দরে। মিনিকেট সিদ্ধ বিক্রি হচ্ছে ২৫৫০ টাকা দরে। তা বিক্রি হয়েছিল ২২৫০ টাকা দরে। মোটা আতপ বিক্রি হচ্ছে ২২৫০-২১০০টাকা দরে। আগে বিক্রি হয়েছে ১৮শ টাকা দরে। গুঁটিসিদ্ধ বিক্রি হচ্ছে ২২৫০-২০০০ টাকায়। তা বিক্রি হয়েছিল ১৮শ টাকা দরে। মোটা সিদ্ধ বিক্রি হচ্ছে ১৮শ টাকায়। তা বিক্রি হয়েছিল ১৬শ টাকা দরে।
আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের দাবি, বড় মিলার ও শিল্প গ্রুপ ধান-চাল মজুতের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। প্রতি মৌসুমে বাজার অস্থির করে তুলে এসব মিলার-শিল্প গ্রুপ। পরবর্তীতে বাজার অস্থির করে ইচ্ছেমতো চালের দাম বাড়িয়ে দেয়। কৃষকের লাভ লুটেপুটে খাচ্ছেন এসব শিল্প মালিকেরা। সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বাজার দখল করে নিয়েছেন শিল্পপতিরা। আর পকেট কাটা পড়ছে ভোক্তাদের।
উপজেলার চালে বড় বড় মালিকরা বলেন শিল্প গ্রুপ ও মিলাররা প্রচুর পরিমাণে চাল মজুত করে চালের দাম বাড়িয়েছে। অথচ এখন চালের ভরা মৌসুম। দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। 

 

#CBALO/আপন ইসলাম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর