বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

বানের পানিতে কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ

সাইফুল ইসলাম, বাসাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ২৬ মে, ২০২২, ৮:১৫ অপরাহ্ণ

এই তো আর কয়েক দিন পরই সোনালি ধানের নতুন স্বপ্ন ধরা দিত কৃষকের কাছে। কিন্তু সবই কেড়ে নিয়েছে বানের পানি; সেই সঙ্গে ডুবেছে কৃষকের স্বপনও।
টাঙ্গাইলের বাসাইল  উপজেলায় একদিনের রেকর্ড টানা বৃষ্টিতে প্রায় ১০ হাজার কৃষক নিঃস্ব হয়েছেন। অসময়ে পানি হওয়ার  ফসল হারিয়ে কৃষক দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, উপজেলায় বন্যায় ক্ষতি হয়েছে প্রায় পাঁচ শত হেক্টর ধানের ফসলি জমির।
আগামী দিনে কীভাবে চলবে সংসার, কীভাবে উঠবে ধান চাষের খরচ, সেই দুশ্চিন্তা তাড়া করছে কৃষকদের।
উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়া গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম  (৪২) বলেন, তিন বিঘা জমিত ধান গারচুনং সউগ শ্যাষ। এবার মোর ঘরত এক ছটাক ধানো উঠবে না। কি যে খামো সেই চিন্তায় মোর মাথা ঘোরেছে।
উপজেলার ৫ ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ বিরাণভূমি। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই বন্যার জমে থাকা পানিতে ফসলের ক্ষেত পচে গেছে। পানি একটু একটু করে বেড়ে  যাচ্ছে আর কৃষকের মন ঠিক ততটাই কষ্টের সাগরে ডুবিয়ে যাচ্ছে। শুধু ইরিধান  ক্ষেত নয় বেগুন, পটোল, করলা, সিম, মূলাসহ বিভিন্ন ধরনের বর্ষাকালীন সবজি  ক্ষেত।
কাঞ্চনপুর ইউপি সাবেক  চেয়ারম্যান মামুন -অর-রশিদ  জানান, হাঠাৎ অতিরিক্ত বৃষ্টি ও উজানের পানি  নামার কারণে ইরি ধান ও সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ শারজাহান আলী বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও অসময়ে উজান থেকে পানি নেমে আসায় এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে, এর পর  থেকেই আমাদের ইউনিয়নের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করছেন। তবে এখনও পুরোপুরি তালিকা করা শেষ হয়নি। আসলে এমন সময় বন্যাটি হয়েছে, এই সময়ে ইরি ধানের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া কৃষকদের পক্ষে সম্ভব নয়।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত চলমান রয়েছে, তাদের সরকারিভাবে প্রণোদনা দেয়া হবে। 

 

#CBALO/আপন ইসলাম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর