মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৫৬ অপরাহ্ন

ই-পেপার

নববধূ শারমিন হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে ঘোড়াঘাটে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত 

আশরাফুজ্জামান সরকার, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ৩১ মার্চ, ২০২২, ২:০২ অপরাহ্ণ

গত ১৬ মার্চ রাতে দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাটের খোদাদাতপুর গ্রামের ভোতরা দিঘিপাড়া এলাকায় স্বামী ইউসুফ আলীর বসতবাড়ীতে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে নববধূ শারমিন আক্তারের হত্যাকারী স্বামী, শ্বশুর, শ্বাশুড়ী ও ননদকে দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার বিকালে ঘোড়াঘাট পৌর শহরের শহীদ মিনারের সামনে স্থানীয় সচেতন মহল ও শারমিন আক্তারের আত্মীয় স্বজনের অংশগ্রহনে এ মানববন্ধনে শারমিনের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবী জানিয়ে বক্তব্য রাখেন নিহত শারমিনের বাবা মাহবুব মিয়া, মা শিউলী বেগম,বড় ভাই সাগর ও ছোট শাওন,খালা তানজিলা বেগম প্রমুখ।
শারমিনের বাবা মাহাবুব মিয়া কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার মেয়েকে হত্যা করে ফাঁসীতে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানোর পায়তারা করছে হত্যাকারীরা ৷ রাত ১০টার দিকে মেয়ে ফোন করে আমাকে জানালো বাবা আমার স্বামী আমাকে মারপিট করতেছে এ সময় হত্যাকারী জামাই আমার মেয়ের হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে বলে আপনার মেয়ের সাথে আর কথা বলা যাবে না ৷ পরেরদিন সকাল ১০টায় মেয়ের ননদ ফোন দিয়ে জানালো যে আপনার মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে ৷ অথচ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পায়নি ৷ এ বিষয়ে থানা পুলিশের ভুমিকা রহস্যজনক বলে দাবী করছেন নিহতের পরিবার ৷
শারমিনের মা বলেন, থানা পুলিশ বিষয়টি নিয়ে বারংবার আপোষ মিমাংসা করার জন্য তাগিদ দিচ্ছেন ৷ কি এমন স্বার্থ জড়িত থানা পুলিশের যে আমরা অশিক্ষিত মানুষ বলে আমাদেরকে বাদী করে হত্যা মামলা না নিয়ে প্রথমে ইউডি মামলা দায়ের করলেন ৷ আর এখন হত্যাকারীদের কোন জিজ্ঞাসাবাদ না করেই তারা নিশ্চিত করে বলছেন যে এটা আত্মহত্যা ছাড়া কিছুই নয় ৷ পক্ষান্তরে আমাদেরকে মিমাংসা করার জন্য প্রস্তাব করেই যাচ্ছেন ৷
শারমিনের ভাই শাওন বলেন, এখন আমাদেরকে বিভিন্ন মারফত জানানো হচ্ছে যে পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট নাকি তারা টাকা দিয়ে পরিবর্তন করে নিয়েছে ৷ তাই এ বিষয়ে আর কখনো প্রমাণ করা সম্ভব নয় যে এটি হত্যা ৷ অথচ নিহতের গায়ে অসংখ্য নির্যাতনের দাগ ছিল ৷ যা ভিডিও সহ ছবি তুলে সংরক্ষন করা আছে ৷
এ সময় বক্তারা আরো বলেন যে, যেহুতু ময়না তদন্তের রিপোর্ট পরিবর্তন করার জন্য হত্যাকারীরা পায়তারা করছে তাই শারীরিক আঘাতের চিহ্ন অনুযায়ী যদি রিপোর্টের সঠিকতা না থাকে তবে লাশটি পুনঃ ময়না তদন্তের জন্যও তারা জোর দাবী জানিয়েছেন ৷ অবশেষে বক্তারা  দ্রুত নববধূ শারমিনের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান ৷
উল্লেখ্য, নিহত নববধূ শারমিন আক্তার পলাশবাড়ী উপজেলার হরিণমারী গ্রামের মাহবুব মিয়ার কন্যা। গত ১৪ ফেব্রুয়ারী বিয়ে হওয়ার ১ মাস ১ দিনের মাথায় গত ১৭ মার্চ সকালে স্বামীর বসতঘর হতে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

 

#চলনবিলের আলো / আপন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর