টাঙ্গাইলের নাগরপুরে স্ট্রবেরি চাষে লোকসান হলেও হাল ছাড়েনি ময়নাল। উপজেলার ভাড়রা ইউনিয়নের চৌবারিয়া গ্রামের মনোয়ার হোসেন ময়নাল(৫৫), গত ২০২১ সালে ৩৫ শতাংশ জমিতে রাজশাহী হতে ৫০০০ স্ট্রবেরির চারা ক্রয় করে এনে রোপণ করেন, লিজ নেওয়া জমিতে। এক বিঘা জমিতে মোট প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ করেন তিনি বছরে ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা লাভের আশায়। ময়নাল একজন ফল ব্যবসায়ী, তিনি শখের বশে সৌখিনতার জন্য লাভজনক স্ট্রবেরি চাষে উৎসাহী হন। আবহাওয়া অনুকূল পরিবেশ না থাকায় এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে তিনি এই চাষে লোকসান গুনেও হাল ছাড়েননি বলে জানান প্রতিবেদককে।
তথ্য অনুযায়ী স্ট্রবেরির একটি রসালো ফল, গন্ধ, বর্ণ ও স্বাদে আকর্ষণীয়। স্ট্রবেরি ফলের রস, জ্যাম, আইসক্রিম, মিল্ক শেকসহ শিল্পায়িত খাদ্য তৈরিতে স্ট্রবেরির সুগন্ধ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
১৭৪০ সালে ফ্রান্সে প্রথম স্ট্রবেরির চাষ শুরু হয়। পরবর্তীতে চিলি, আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে স্ট্রবেরি চাষ। শীতপ্রধান দেশে ফল স্ট্রবেরি হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের যেসব এলাকায় শীত বেশি সেসব এলাকায় বিভিন্ন জাতের স্ট্রবেরি চাষ হচ্ছে। অনেকে শখে বাড়ির টবে বা ছাদ কৃষিতে চাষ করছেন।
স্ট্রবেরির প্রচুর চাহিদা রয়েছে দেশ এবং দেশের বাইরে। ঢাকায় এই ফলের মূল্য ১২ থেকে ১৪ শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।
সরেজমিন, চৌবরিয়ার ময়নাল, ৩৫ শতাংশ ভূমিতে স্ট্রবেরি চাষ করে এ পর্যন্ত সাত বার ফল উত্তোলন করেছেন। ফলের মান ভালো না হওয়ায় স্থানীয় বাজার ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে এ ফল বিক্রি করে প্রায় ২০ হাজার টাকার। বাগানে সেচসহ মোট খরচ হয় ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। প্রতিটি চারার দাম ১৫ টাকা করে ক্রয় করেন। তিনি আরো জানান , কীটনাশক, ভিটামিন সহ পর্যাপ্ত ঔষধ অপ্রতুল। কৃষি অফিসের সহযোগিতা তেমন পায়নি, তারা সকলেই স্ট্রবেরি চাষের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এবং বিজ্ঞ না থাকায় সহযোগিতা না দিলেও দেখাশোনা করেছেন বলেও জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, কৃষিবিদ আব্দুল মতিন বিশ্বাস জানান, ইতিমধ্যে ময়নালের স্ট্রবেরি বাগান পরিদর্শন করেছি এবং বিশেষ পরামর্শ দিয়েছি। নাগরপুরে স্ট্রবেরি চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা আরো জোরালো কর্মসূচি নিচ্ছি যেনো আরো উত্তম ভাবে অধিক ফলনে পুরো উপজেলায় এই স্ট্রবেরি চাষ ছড়িয়ে যায়।
উল্লেখ্য, স্ট্রবেরি চাষকে জনপ্রিয় করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মীরা প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছেন।