সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১০ অপরাহ্ন

ই-পেপার

শিরোনাম :
শিরোনাম :
নাগরপুর–দেলদুয়ার উপজেলার শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ডা. আব্দুল হামিদের মানবিক পরিকল্পনা জামায়াত জান্নাতের মালিক নয়, জামায়াতে ইসলাম প্রকৃত ইসলাম নয়: আব্দুস সালাম পিন্টু তাড়াশে ধানের শীষের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত  আটঘরিয়ায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী পাবনা জেলার নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ  অনুষ্ঠিত  নান্দাইলে ফুলকপি মার্কার নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত চাটমোহরে বিশিষ্ঠ তিন রাজনীতিবিদ রাজা, হীরা ও রুমার মায়ের ইন্তেকাল বেনাপোলে আমদানি পণ্যর ভারতীয় গাড়ি থেকে বিপুল পরিমান চেতনানাশক ট্যাবলেট উদ্ধার গোপালপুরে গণভোট প্রচারণায় আনিকা নার্গিসের হ্যাঁ পক্ষে অব্যাহত তৎপরতা

লামায় যথাযোগ্য মর্যাদায় অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

মোঃ নাজমুল হুদা, লামা প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: সোমবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ৯:৪১ অপরাহ্ণ

লামায় নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে উপজেলাসহ তৃণমূলে সোমবার  অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।
 নবনির্মিত উপজেলা পরিষদ চত্বরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসা মানুষ বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা দেয়ার পাশাপাশি সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের দাবী জানায়। মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন উপলক্ষে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একুশের প্রথম প্রহরেই শত শত মানুষ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসেন। ফুলে ফুলে ভরে উঠে বাঙালির শোক আর অহংকারের এই মিনার। তবে করোনা ভাইরাসের কারনে এই বছর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু বিধি নিশেষ থাকা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মানুষের উপস্থিত কিছুটা কম ছিল।
রাত ১২টা ০১টি মিনিটে লামা উপজেলা চেয়ারম্যান, নির্বাহী অফিসার ও পৌর মেয়র কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বিভিন্ন সরকারি -বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় প্রতাকা উত্তোলন,ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা, চিত্রাংকন,আলোচনা সভা ও শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
প্রথমে লামা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তফা জামাল ও নির্বাহী অফিসার  মোঃ মোস্তফা জাবেদ কায়সার পরিষদ ও প্রশাসনের পক্ষে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বাজানো হয়। তারা কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর আওয়ামী লীগ পক্ষে দলের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান বাথোয়াইচিং মার্মা, সি.সহ সভাপতি মোঃ মোস্তফা জামাল ও সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র  মোঃ জহিরুল ইসলাম শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলির সদস্য প্রশন্ন ভট্টাচার্য, বিজয় আইচ,সাংগঠনিক প্রদীপ কান্তি দাশ, মোঃ আলমগীরসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীর শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পক্ষে  আমির হোসেন আমু,আবদু রব, রুহুল আমিন,মোঃ শাহীন, আরিফ চৌধুরীসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীগণ অনেকেই ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লামা,কাজী আতিকুর রহমান, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মাহবুবুর রহমান,ফাতেমা পারুল,থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও  পঃ পঃ কর্মকর্তা মঈনুদ্দিন মোরশেদ, শিক্ষা অফিসর তপন কুমার চৌধুরী, পিআইও মোঃ মজনুর রহমান, মৎস্য অফিসার মকসুদ আহমদ, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জোবাইরা বেগম, তথ্য অফিসার খন্দকার তৌহিদ, সমবায় অফিসার আয়মন চৌধুরী, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা গোপাল কৃষ্ণ চক্রবর্তী, লামা সাংবাদিক ইউনিটির সভাপতি মোঃ নাজমুল হুদাসহ দপ্তর প্রধানগণ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দও একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এর আগে মধ্য রাতে ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার আগেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় উপস্থিত হন।
এসময় হাজার হাজার মানুষ খালি পায়ে বুকে শোকের প্রতীক কালো ব্যাজ ধারণ করে হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি’- গানে কণ্ঠ মিলিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে এগিয়ে যান। একই সাথে তারা সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনের এবং অন্যান্য জাতিসত্তার ভাষা ও বর্ণমালা সংরক্ষণের দাবি জানান।
 মহান ভাষা শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ। রাষ্ট্রভাষা বাংভাষার দাবী পুরণের ৭০ বছর পূর্ণ হচ্ছে এই দিনে।১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার দাবীতে রাস্তায় নেমে আসে মানুষ। জারি করা হয় ১৪৪ ধারা, ভেঙে ফেলা হয় শোষকের শৃঙ্খল। রক্তে ভেসে যায় রাজপথ। গুলিতে বিদীর্ণ হয় বুক। শহীদ হন রফিক, শফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ নাম না জানা আরো অনেকে। ভাষার জন্য প্রাণ দিয়ে ইতিহাস গড়েন তারা। বাংলা পায় রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে একাত্তরে জন্ম নেয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।
মাতৃভাষার জন্য প্রাণ উৎসর্গের এই দিনটিকে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দেয় ১৯৯৯ সালেট ১৭ নভেম্বর । অমর একুশে এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের চেতনার প্রতীক ‘শহীদ মিনার’ এখন এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ সব কটি মহাদেশের বহুভাষিক চেতনার স্মারক।
এদিকে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভাষা শহীদদের রূহের মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনা করে  কুরআনখানি, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে লামা তথ্য অফিসের উদ্যোগ সড়ক প্রচার ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
পরিষদের হলরুমে আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন পরিষদের সিএটু কামরুল হাসান পলাশ। 

 

#চলনবিলের আলো / আপন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর