সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

শিরোনাম :
শিরোনাম :
নাগরপুর–দেলদুয়ার উপজেলার শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ডা. আব্দুল হামিদের মানবিক পরিকল্পনা জামায়াত জান্নাতের মালিক নয়, জামায়াতে ইসলাম প্রকৃত ইসলাম নয়: আব্দুস সালাম পিন্টু তাড়াশে ধানের শীষের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত  আটঘরিয়ায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী পাবনা জেলার নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ  অনুষ্ঠিত  নান্দাইলে ফুলকপি মার্কার নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত চাটমোহরে বিশিষ্ঠ তিন রাজনীতিবিদ রাজা, হীরা ও রুমার মায়ের ইন্তেকাল বেনাপোলে আমদানি পণ্যর ভারতীয় গাড়ি থেকে বিপুল পরিমান চেতনানাশক ট্যাবলেট উদ্ধার গোপালপুরে গণভোট প্রচারণায় আনিকা নার্গিসের হ্যাঁ পক্ষে অব্যাহত তৎপরতা

২০ বছর পর স্বামী সন্তান নিয়ে হারানো বাবা-মা’কে পেল বেবী

রুবিনা আজাদ, আঞ্চলিক প্রতিনিধি বরিশাল:
আপডেট সময়: শুক্রবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ৫:০১ অপরাহ্ণ

মাত্র ৯ বছর বয়সে হারিয়ে যাওয়ার বেবী আক্তার ২০ বছর পর মা-বাবা ও স্বজনদের কাছে ফিরেছে বেবী আক্তার। রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের মেয়ে বেবী। পরিনত বয়সে বিয়ে-সংসার-সন্তানের মা হয়েছে। তবে বাবা-মা পরিবার হারানোর কষ্ট বুকে চেপে বছরের পর বছর পার করছিলেন মধ্যবয়সী এই নারী বেবী আক্তার।
বেবী জানায়, ২০০২ সালে আর্থিক অচ্ছলতার জন্য ঢাকার মিরপুরের এক বাসায় কাজের জন্য মেয়ে বেবীকে তার বাবা মা কাজে দেন। বেবী ওই পরিবারে দশ মাস কাজ করলেও নির্যাতনের কারনে সেখান থেকে পালিয়ে যায় বেবী। পরে মিরপুরের একটি রাস্তার পাশে কান্নার করে জীবিকা নির্বাহ করছিল।
বেবীর কান্না দেখে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম সরদারের মা শাহানুর বেগম তাকে নিয়ে বাড়ি আসেন। ওই সময় বেবী তার নাম ও উপজেলার নাম বলতে পারলেও বাবা মায়ের ঠিকানা বলতে জানাতে পারে নি।
বেবীর বাবা রফিজ মন্ডল জানান, আমরা গরীব পরিবারের লোক। দিন আনি দিন খাই। তিন মেয়ে এক ছেলে নিয়ে আমাদের পাঁচ জনের পরিবার। আর্থিক অচ্ছলতার জন্য আমার বড় মেয়ে বেবী আক্তারকে আমাদের দুর্গাপুর গ্রামের কামাল হোসেন সোহেল এর ঢাকার মিরপুরে বাসায় কাজের জন্য দেই। কামালের পরিবারের নির্যাতন করলেও মেয়ের সাথে কোন যোগাযোগ করতে দিত না তারা। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বেবী সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এক আত্মীয়র মাধ্যমে জানতে পারি বেবী নিখোজ রয়েছে। আমরা বেবী নিখোঁজের ঘটনায় দুর্গাপুর থানায় কামাল হোসেন সোহেলের নামে অভিযোগ দায়ের করি। পুলিশ ও আমরা একাধিক স্থানে আমার মেয়ে বেবীকে খুঁজেও তার সন্ধান পাইনি।
মেয়েকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত মা সুফিয়া বেগম জানান, ২০ বছর ধরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েকে পাওয়া যায়নি। ২০ বছর পর মেয়েকে ফিরে পাবেন, আশা ছিল না। তিনি আরও জানান, ২০ বছর পর মেয়েকে খুঁজে পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত।
জানা গেছে, বর্তমানে এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্বামী নিয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলার নগরবাড়ি গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে বেবীর সংসার। হারিয়ে যাবার পর আগৈলঝাড়া উপজেলার কালুপাড়া গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলী সরদার ও শাহানুর বেগমের বাড়িতে নিজের মেয়ের মত বড় হয়েছেন বেবী। ২০১৪ সালে বেবীকে বিয়ে দিয়েছেন তারা।
আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম সরদার বলেন, আমার মা শাহানুর বেগম ঢাকার এক আত্মীয়র বাসায় বিয়ে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। তখন রাস্তার পাশে কান্না করতে দেখে আমার মা বেবীর কাছে এগিয়ে গেলে তাকে জড়িয়ে ধরে বেবী তাকে তার সাথে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে। আমার মা বেবীর কাছে ঠিকানা জানতে চাইলে সে শুধু তার নাম এবং এলাকার কথা বলতে পারলেও আর কিছু বলতে পারেনি। মা বেবীকে আমাদের গ্রামের বাড়ি আগৈলঝাড়ার কালুপাড়া গ্রামে নিয়ে আসে। সেই থেকে বেবী আমাদের পরিবারের সন্তান হিসেবে বড় হয়। এমনকি বেবীর জাতীয় পরিচয়পত্রেও আমার বাবা মার নাম দেয়া হয়। আমরা আপন চার ভাই, দুই বোন এবং পরে বেবী আমাদের ছোট বোন হিসেবে তিন বোনের মর্যাদা পায়। আমার বড় দুই বোনকে বিয়ে দেয়ার সময় কোন অনুষ্ঠান করতে না পারলেও ছোট বোন বেবীকে অনেক বড় অনুষ্ঠান করে উপজেলার নগরবাড়ি গ্রামের ব্যবসায়ী সোহেল ফকিরের সাথে বিয়ে দেই। সোহেল ও বেবীর সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
বেবী আক্তার বলেন, কোনো দিন ভাবতেও পারিনি, বাবা-মাকে আবার ফিরে পাবো। আমার একটাই চাওয়া ছিল জীবনে মা-বাবাকে যেন একবার হলেও দেখতে পারি।
বেবী আক্তার আরও জানান, আমার বাসার ছেলে মেয়ের গৃহ শিক্ষক নগরবাড়ি গ্রামের শাহাদাৎ খলিফার স্ত্রী পারভীন বেগম তার কলেজ জীবনের এক সহপাঠি রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলামকে আমার হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা খুলে বললে আমিনুল দুর্গাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান লতিফ হোসেনের ভাই শহিদুল ইসলামের মাধ্যমে তার বাবা মাকে খুঁজে বের করে। বেবীর সাথে তার বাবা মায়ের ফোনে কথা হলে তারা নিশ্চিত হয় হারিয়ে যাওয়া মেয়েই তাদের বেবী।

 

 

#চলনবিলের আলো / আপন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর