সারা দেশের ন্যায় টাংগাইলের নাগরপুরেও শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। শীতের দেখা পেয়ে খুশিই হয়েছিলেন নাগরপুরের ভ্রাম্যমান পুরাতন গরম কাপড় ব্যবসায়ীরা। তাদের আমদানি করা বিভিন্ন রকমের শীতের গরম কাপড়গুলো বেশির ভাগই বিক্রি হয় জেঁকে আসা শীত অথবা ঘন কুয়াশার দিনগুলোতে। এখন শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও ঘন কুয়াশার কারণে দুপুরের পর থেকেই বেশ শীত অনুভব করছে এই অঞ্চলের মানুষ।
এ সময় কনকনে শীত নামে, আর শীতে গরম কাপড়ের ব্যবসাটাও হয় জমজমাট। কিন্তু নাগরপুরে এবার শীতের আমেজ শুরু হলেও গরম কাপড় বিক্রিতে উল্টো ভাব। ব্যবসায়ীরা এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন করোনা মহামারির প্রভাব। তাই শীত আসলেও পুরাতন পোশাক ব্যসায়ীদের মনে খুশির আমেজ নেই কারন বিক্রি নেই বললেই চলে।
সোমবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নাগরপুর সরকারি কলেজের পুকুর পাড়,নাগরপুর মধ্য বাজার সহ ব্যস্ততম সড়ক গুলোর পাশে বসা পুরাতন শীতের পোশাকের ভ্রাম্যমান দোকানগুলোতে নেই তেমন জমজমাট ভাব।
নাগরপুরের পুরাতন শীতের পোশাকের ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুল শহীদ(৫০) এর সঙ্গে কথা হয় তিনি জানান, প্রায় ২০ বছর যাবৎ এই ব্যবসা করে আসছেন। তার গ্রামের বাড়ি ঘিওরকোল নাগরপুর উপজেলায়। করোনার কারণে তাদের ব্যবসায় একবারেই অচলাবস্থা। শতভাগের মধ্যে প্রায় ৫০%-এ নেমে এসেছে আমাদের ব্যবসা।তবুও বেশী লাভের আশায় নিয়মিত নাগরপুরের বিভিন্ন স্পটে ভ্রাম্যমাণ দোকান দিযে বসে আসেন।
তিনি আরও বলেন গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিটা কাপড়ের মূল্যে বেশি দিয়েই পাইকারী ভাবে ক্রয় করতে হচ্ছে। তাই আমরাও ক্রেতাদের কাছে একটু বেশী মূল্যে বিক্রি করতে হয়। কিন্তু দোকান গুলোতে ক্রেতার সংখা খুবই কম তাই আমাদের বিক্রির অবস্থাও খারাপ। আমরা গত শীতে অনেক টাকা ইনকাম করতে পেয়েছি।পুরাতন পোশাক ভেদে ১০০০,৫০০,২০০,১০০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত প্রতিটি পোশাক দাম চাওয়া হচ্ছে।
গয়হাটা বাজারের পুরাতন কাপড় বিক্রেতা মো.গোলাপ সরকার জানান-বিক্রি খুবই কম তারপরেও যারা ক্রয় করার জন্য আসে দাম একটু চড়া হওয়ায় দাম দর করে চলে যায়।দাম বেশী হওয়ার কারন জানতে চাইলে তিনি জানান মোকামে দাম বেশী হওয়ায় শীতবস্ত্র বেশী দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
বিক্রি এই অবস্থায় আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি আরো জানান, ধীরে ধীরে শীত বাড়ছে ,কিন্তু করোনার কারণে মানুষের ইনকাম কমে গেছে। শীত নিবারনের জন্য কাপড় ক্রয় করতে বাজারে আসলেও দাম একটু বেশি চাওয়ায় ওনারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।বেশ কয়েকটি এলাকার ফুটপাতের ওপর বসা দোকান ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
এদিকে কাপড় কিনতে আসা কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বড় বড় মার্কেটের দোকান গুলো এবং শোরুম থেকে আমরা কাপড় কিনতে যাচ্ছি না কারণ ভ্রাম্যমান ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে কাপড় সহজেই কেনা যায়। এখানে কম দাম হলেও ভালো মানের কাপড় পাওয়া যায়। তাই নিম্মবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের প্রায় অনেক লোকই চলে আসে। এখানে আমাদের সাধ্যের মধ্যে ২০০-৩০০ টাকার মধ্যে ভালো মানের শীতের পোশাক কিনতে পারি।গতবারের চেয়ে এবার পুারতন শীতের পোশাকের দাম তুলনামূলকভাবে একটু বেশী মনে হচ্ছে।
#চলনবিলের আলো / আপন