আজ ২৬ এপ্রিল। ১৯৮৯ সালের এই দিনে এক ভয়াবহ টর্নেডোর আঘাতে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার মানচিত্র ধ্বংস লীলায় পরিণত হয়েছিল। যার আঘাতে বিলিন হয়ে যায় সাটুরিয়া উপজেলার অধিকাংশ গ্রাম। অন্তত সহস্রাধিক মানুষ মারা যায়, আহত হয় ১২ হাজার মানুষ এবং প্রায় ১ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন। এছাড়া উপজেলার ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার ঘরবাড়ি, ফসলী জমি, সাটুরিয়া, হরগজ ও তিল্লী বাজারের প্রায় ৬ শতাধিক দোকানপাট, উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদাম, বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার গাছপালা উপড়ে লন্ডভন্ড হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। সাটুরিয়া টর্নেডোর আজ ৩২ বছর । এত বছর পেরিয়ে গেলেও সাটুরিয়ার মানুষ আজও কাঁদে দিনটির কথা মনে করে। এ দিনটি সাটুরিয়ার মানুষের জন্য অত্যন্ত শোকাহতের দিন ছিল। প্রতিবছর ক্যালেন্ডারের পাতায় আজকের এই তারিখটি সামনে এলেই ১৯৮৯ সালের ভয়াবহ সেই টর্নেডোর কথা নতুন করে মনে পড়ে যায় স্বজন হারা ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের। যার ফলে শোকাহতের মধ্য দিয়ে এই দিনটিকে টর্নেডো দিবস হিসেবে পালন করে থাকেন সাটুরিয়ার মানুষ। হরগজ বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব ডাঃ মোঃ আব্বাস উদ্দীন জানান, ওইদিন সকাল থেকেই প্রচন্ড গরম ছিল এবং বাতাস ছিল না বললেই চলে।বৃষ্টি হচ্ছিল না অনেক দিন, তাই বৃষ্টির জন্য আমরা হরগজ ঈদের মাঠে নামাজ আদায় করি।হঠাৎ বিকেল ৫টার দিকে আকাশটা কালো মেঘের ছায়ায় ঢেকে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই কয়েক সেকেন্ডের এক ভয়াবহ টর্নেডোর আঘাতে মুহুর্তের মধ্যেই আমার দোকান ঘরের চালা উড়ে যায়। সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে যায়।এখনো আকাশে কালো মেঘের ছায়া দেখলেই সেই দিনের কথা মনে হয়ে এখনো আঁতকে উঠি। বিভিন্ন অনলাইন তথ্য সূত্র মোতাবেক ১৯৮৯ সালের ২৬ এপ্রিলের সাটুরিয়ার টর্নেডোকেই এ যাবৎ কালের বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ টর্নেডো হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিহত হয় প্রায় কয়েক হাজার মানুষ । প্রায় ১২ হাজার লোক আহত হয় ও প্রায় এক লাখ লোক গৃহহীন হন। এছাড়া উপজেলার ২০টি গ্রাম লণ্ড ভণ্ড হয়ে রীতিমত মাটির সঙ্গে মিশে যায়। অল্প সময়ের মধ্যে টর্নেডোতে এ ধরণের ভয়াবহ ধ্বংস লীলার কারনে ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ টর্নেডো হিসেবে সাটুরিয়ার টর্নেডোকেই বিবেচনা করা হয়ে থাকে। ঘটনা বহুল সেই ২৬ এপ্রিল ছিল বুধবার। রোজার দিনে ইফতার করতে প্রস্তুতি নিচ্ছিল ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা। সন্ধ্যার আগ মূহুর্তে ইফতারের আগে হঠাৎ করেই প্রচন্ড বেগে সাটুরিয়া উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যায় ভয়াল এক টর্নেডো যার আঘাতে লন্ড-ভন্ড হয়ে যায় সাটুরিয়া উপজেলার প্রায় ১২ টি গ্রাম। মাত্র ১ মিনিটেরও কম সময়ে কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই ধ্বংশ-যজ্ঞে পরিনত হয় সাটুরিয়া । খবর ছড়িয়ে পড়ে দেশ হতে দেশান্তরে । সরকারসহ বিশ্ব বিবেক নাড়া দিয়ে উঠে। আমাদের মাননীয় বর্তমান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব জাহিদ মালেকের পিতা দেশ বরেন্য রাজণীতিকবিদ ঢাকার সাবেক মেয়র ও বস্ত্র মন্ত্রী আলহাজ্ব কর্নেল আব্দুল মালেক সাহেবে ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সেই রাত থেকে শুরু হয় উদ্ধার কাজ। হতভাগ হয়ে পড়ে উদ্ধার কারীরা চতুদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা লাশের সারি দেখে। সাটুরিয়া উপজেলার সদর, হরগজ, তিল্লীসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ স্বজন হারানোর বেদনায় কাতর হয়ে উঠে। সাটুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড আব্দুল মজিদ ফটো বলেন এই টর্নেডোতে আমিও আহত হয়েছিলাম।আল্লাহর রহমতে বেঁচেছি সেই দিন, তখন ছিল রমজান মাস,আমি মোটরসাইকেল নিয়ে সাটুরিয়ায় একটি ইফতার মাহফিলে যাচ্ছিলাম,পথিমধ্যেই এই টর্নেডোর কবলে পরি। মোটরসাইকেলসহ আমাকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। প্রতি বছর মিলাদ মাহফিলে ও দোয়ার মাধ্যমে এই দিবসটি পালন করা হয়। করোনাভাইরাসের মধ্যেও স্বাস্থ্য বিধি মেনে নিহতের আত্মার শান্তির জন্য মসজিদে মসজিদে দোয়া করা হবে বলেও জানান তিনি।
#CBALO/আপন ইসলাম