উদ্ধার মোটরসাইকেল ও ল্যাপটপ চাঁদা দাবির ঘটনায় ডিবির অভিযানে দুইজন আটক।
যশোরের অভয়নগরে চাঁদা দাবির মামলায় বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ও কথিত গোফরান বাহিনীর প্রধান মো. নাসির শেখ ওরফে গোফরান (৪০) এবং তার সহযোগী সোহেল রানা (২৮)কে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে মামলার আলামত হিসেবে একটি মোটরসাইকেল ও একটি ল্যাপটপসহ আরও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ মার্চ ২০২৬ রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে অভয়নগর উপজেলার শুভরাড়া ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামে সোহেল শিকদারের বাড়িতে সশস্ত্র হয়ে প্রবেশ করে নাসির শেখ ও তার সহযোগীরা। তারা ধারালো চাকু, চাপাতি, হাসুয়া ও লোহার রডসহ ১০–১২ জনের একটি দল নিয়ে বাড়িতে ঢুকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ভুক্তভোগী সোহেল শিকদার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তার শয়নকক্ষের ড্রয়ার থেকে ২০ হাজার টাকা, একটি ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ মোটরসাইকেল (মূল্য আনুমানিক ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা), একটি এইচপি ল্যাপটপ (মূল্য প্রায় ৮৫ হাজার টাকা) এবং একটি ভিভো ভি২৯ মডেলের মোবাইল ফোন (মূল্য প্রায় ৫৬ হাজার টাকা) নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় অভয়নগর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্ত করেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জুয়েল হোসেন। ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় যশোরের পুলিশ সুপার মামলাটির ছায়া তদন্তের দায়িত্ব দেন জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মো. কামরুজ্জামানকে। ডিবি পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৬ মার্চ ভোরে খুলনার রূপসা উপজেলার জাবুসা গ্রামের গ্লোরিপ্লাস লিমিটেডের সামনে পাকা রাস্তা থেকে নাসির শেখ ও সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত নাসির শেখের কাছ থেকে একটি ইয়ামাহা আর১৫ মোটরসাইকেল ও একটি এইচপি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে সোহেল রানার কাছ থেকে একটি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নাসির শেখ ওরফে গোফরান বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা এবং কথিত গোফরান বাহিনীর প্রধান। তিনি যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুরসহ খুলনার ফুলতলা, ডুমুরিয়া, রূপসা, তেরখাদা এবং নড়াইলের কালিয়া এলাকায় চরমপন্থি পরিচয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও বিস্ফোরক আইনে ২০টির বেশি মামলা রয়েছে এবং ১১টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বিচারাধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানায়। অপর আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় সাতটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে ১৬ মার্চ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।