রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

শিরোনাম :
শিরোনাম :
ভাঙ্গুড়া বাজারে মোবাইল কোর্ট, ৪ দোকানিকে জরিমানা সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা: নান্দাইলে বন্ধ হাজী ফিলিং স্টেশন, ভোগান্তিতে চালকরা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মরণফাঁদ! ৪ দিন লিফটের নিচে পড়ে ছিল মরদেহ, টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের চৌহালীতে রেহাইপুকুরিয়া  উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি দেওয়ান আব্দুল লতিফের দাফন সম্পন্ন  চাটমোহরের হান্ডিয়ালে পুকুর খননের সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার সবুর-মোখলেছুরের হাত ধরে নর্থ বেঙ্গল স্টুডেন্ট’স অ্যাসোসিয়েশনের নতুন পথচলা চাটমোহর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আলোচনায় কামরুজ্জামান নয়ন নাগরপুরে বেকড়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মরণফাঁদ! ৪ দিন লিফটের নিচে পড়ে ছিল মরদেহ, টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের

জিয়াউল হক জিয়া, কক্সবাজার প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার: মেয়ের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে নিজেই লাশ হয়ে ফিরলেন এক প্রবাসী জননী। কক্সবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে নিখোঁজের চারদিন পর উদ্ধার করা হয়েছে উখিয়ার গৃহবধূ কহিনূর আক্তারের (৩২) রক্তাক্ত ও অর্ধগলিত মরদেহ। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরের এই ঘটনায় পুরো হাসপাতাল এলাকায় চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিখোঁজ রহস্যের অবসান বনাম অব্যবস্থাপনার প্রশ্ন
গত বুধবার (৩ মার্চ) উখিয়ার রাজাপালং থেকে ৭ বছরের মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন কাতার প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী কহিনূর। সেদিন দুপুর ১টার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। পরিবার থানায় জিডি করলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে রটেছিল নানা কুৎসা। অথচ সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য— চারতলায় লিফটের দরজা কোনোভাবে হাতে টেনে খুলে ভেতরে পা বাড়িয়েছিলেন তিনি, কিন্তু সেখানে লিফট ছিল না। অন্ধকার গহ্বরে পড়ে গিয়েই ঘটে তার সলিল সমাধি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও গাফিলতির অভিযোগ
দীর্ঘ চারদিন ধরে একটি মরদেহ লিফটের নিচে পড়ে থাকলেও কেন কেউ টের পেল না, তা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন সচেতন মহল। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শান্তনু ঘোষ জানান:
“সকালে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আমরা নিশ্চিত হই তিনি লিফটের দরজা জোর করে খুলে ভেতরে ঢুকেছিলেন। ভোররাতে দুর্গন্ধ ছড়ালে কর্মচারীরা লিফটের নিচে তল্লাশি চালিয়ে মরদেহটি পায়।”
জনমনে প্রশ্ন: কার দায়?
লিফটের সেন্সর নষ্ট থাকা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়াকেই এই মৃত্যুর কারণ হিসেবে দেখছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, লিফটের দরজা খুললেও সেখানে বগি থাকে না— এমন মরণফাঁদ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেন আগে ব্যবস্থা নেয়নি?
নিহত: কহিনূর আক্তার (৩২), স্বামী- প্রবাসী নুরুল ইসলাম।
নিখোঁজ: ৩ মার্চ (বুধবার) দুপুর ১টা থেকে।
উদ্ধার: ৭ মার্চ (শনিবার), লিফটের নিচ থেকে।
বর্তমান অবস্থা: ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশি তদন্ত চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর