রংপুর সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের জগদীশপুর গ্রাম—এ যেন শীতের সকালে রসপ্রেমীদের এক মিলনমেলা। কুয়াশা মোড়ানো নিঝুম ভোরে পুকুরপাড়ের দুই পাশে সারি সারি খেজুর গাছে ঝুলে থাকা হাঁড়িগুলো নামাতে ব্যস্ত গাছিরা। ভোর ৫টা বাজতেই টুপটাপ রস পড়ার শব্দে মুখরিত হয় চারদিক, আর সেই সুগন্ধি খেজুর রসের টানে গ্রামে ছুটে আসেন নানা বয়সের মানুষ।
জগদীশপুর গ্রামজুড়ে এখন যেন উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রতিদিন ৮৫টি খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয়। রস নামানোর মুহূর্তটি উপভোগ করতে ভোরের কাঁপন ধরানো শীত উপেক্ষা করেই হাজির হন স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সকল শ্রেণিপেশার রসপ্রেমীরা। হাঁড়ি নামার সঙ্গে সঙ্গেই কাপ হাতে দাঁড়িয়ে থাকেন ক্রেতারা। টাটকা খেজুর রস শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভিড় থাকে অব্যাহত।
গাছিরা জানান, শীতের শুরুতে লিটারপ্রতি রসের দাম ছিল ৮০ টাকা। কিন্তু ক্রমাগত ভিড় আর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে লিটার ১০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তবুও কমেনি মানুষের আগ্রহ—বরং প্রতিদিন নতুন নতুন ভিজিটর যুক্ত হচ্ছেন রসের স্বাদ নিতে।
রস খেতে আসা একাধিক রসপ্রেমী বলেন, “জগদীশপুরের রসের স্বাদ আলাদা। ভোরে এসে হাঁড়ি থেকে নামানো রস খাওয়ার মজা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।”
গাছিরাও জানান, “শীত ভালো থাকলে আরও কিছুদিন রস চলবে। রসের চাহিদা দেখে আমরা উৎসাহিত।”
জগদীশপুরের খেজুর রস এখন শুধু একটি খাবার নয়—এটি শীতের সকালকে উষ্ণতা দেওয়া এক বিশেষ উৎসব, যেখানে মানুষ মিলিত হয় ঐতিহ্য, স্বাদ আর আনন্দে।