যশোরের অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দালালের দখলে চলে গেছে বলে অভিযোগের শেষ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরব ভূমিকা। যে কারণে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে কমিশনের আসায় এসব দালালদের লালন পালন করছেন খোদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একশ্রেণির ডাক্তার ও তার আশে পাশের লোকজন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ও সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ব্যাঙের ছাতার মতো বেশ কিছু ডায়গনস্টিক সেন্টার ও কয়েকটি প্রাইভেট হাসপাতাল। এসব প্রতিষ্ঠানের রোগীর যোগান দেওয়ার জন্যই বেপরোয়া দালাল চক্র। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে অভয়নগয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ডায়গরস্টিক সেন্টারের একাধিক দালাল হাসপাতালের জরুরী বিভাগ, বহির বিভাগের সামনে ঘোরা ফেরা করছে, সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সটকে পড়ে অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদের জরুরী বিভাগের সামনে কর্তব্যরত ডাক্তারের সাথে কথা বলতে দেখা যায়। সাংবাদিক ছবি তুলছে এমন খবর কানে যেতেই তারা দ্রুত হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যায়। জরুরী বিভাগের সামনে ডাক্তার দেখানোর অপেক্ষায় থাকা শ্রীধরপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের সাগরিকা আক্তার জানান, ডাক্তার দেখাতে এসেছি একজন অপরিচিত লোক সেখানে থাকা রোগীদের কাছে কে কি সমস্যা নিয়ে ডাক্তার দেখাবো তা জানতে চাইছেন। আমি ভেবেছিলাম তিনি হাসপাতালের লোক। কিন্তু পরে বুঝতে পারলাম তিনি হাসপাতালের কেউ না। সে আমাকে বলেন ডাক্তার পরীক্ষা দিলে তার এই প্রতিষ্ঠান নওয়াপাড়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে করালে কম সময়ে ভালো রিপোর্ট পাওয়া যায়। তুলনা মূলক অন্যদের থেকে টাকা কিছু কম করাতে পারবে বলেও সে বলেছে। আরও এক রোগী উপজেলার রানাগাতী থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আসমা খাতুন (৩৫) সাথে কথা হলে তিনি অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসক তার ব্যবস্থাপত্র লিখে তার পাশে থাকা একজনের কাছে দিয়ে বলেন এর সাথে যান । সেখানে যাওয়ার পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ ২ হাজার ৬০০ টাকার একটি বিল সেখান থেকে তার হাতে ধরিয়ে দেয়। এখন ওষুধ কেনার মতো টাকা আমার কাছে নেই। উপজেলার ধোপাদী গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে জুলেখা বেগম (৪৩) বলেন, আমি জরুরী বিভাগে ডাক্তার কে দেখানোর পরে কিছু টেস্ট দিয়ে লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক থেকে টেষ্ট করাতে বলেন। কিন্তু আমি আমার পরিচিত অন্য একটা ডায়াগনস্টিক থেকে টেস্ট করিয়ে তাকে দেখালে তিনি আমার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এদিন হসপাতাল চত্বরে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি, প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টারের দালালরা রোগীদের ব্যবস্থাপত্র কেড়ে নিতে দেখা যায়। ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিকে মোবাইলে রোগীর ব্যাবস্থা পত্রের ছবি তুলতে দেখা যায়। আর দালাল যে ডাক্তারের সাথে সম্পৃক্ত তার প্রমান পাওয়া যায়। দেখা যায়, ডাক্তারের কাছে কৌশলে নিয়ে যাওয়া এবং ইচ্ছেমতো অপ্রয়োজনীয় টেস্ট লিখে নেওয়ার কৌশল করছে দালাল। রোগীকে কমপ্লেক্স থেকে বের করে নিয়ে দালালের পছন্দমতো প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা সেবা নিতে বাধ্য করার ঘটনা হরহামেশায় প্রতিদিন ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে প্রসুতি সেবা নিতে আসা নারীদের কৌশলে নরমাল ডেলিভারির কথা বলে অন্য স্থানে চিকিৎসা সেবা নিতে বাধ্য করছে কিছু মহিলা দালাল। এব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আলিমুর রাজিব বলেন, দালালদের সম্পুর্ন নির্মুলে আমি পদক্ষেপ নিয়েছি, সকল ডাক্তারদের সাথে মিটিং করে একমাত্র ডাক্তারদের সহযোগী ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত এমন কেউ হাসপাতালে ঘুরতে পারবেনা নির্দেশনা দিয়েছি। যদি এমন অভিযোগ পায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। রোগীদের জন্য দেওয়া অতিরিক্ত পরীক্ষা, অনিবন্ধিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার, অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালদের দৌরাত্মের। বিষয়ে যশোর সিভিল সার্জন ডা: মাসুদ রানা বলেন, অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমন চিত্র আমার জানা নেই। আমি জানলাম, খুব দ্রুত আমি পদক্ষেপ নেবো।