যশোরের অভয়নগরে হিজবুল্লাহ দাখিল মাদ্রাসায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে ভুয়া সনদে চাকরি পাওয়া আলোচিত মোঃ সাদ্দাম হোসেন রয়েছে বহালতবিয়তে। আলোচিত ওই ভূয়া সনদে চাকরি পাওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিকবার প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে।এবং এবিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও অজানা কারণে সে তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি। ফলে এ ঘটনা এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে আলোচনা- সমালোচনার ঝড় দীর্ঘদিন ধরে চলছে। জানাগেছে,পরিছন্নতা কর্মী পদে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগতযোগ্যতা না থাকলেও উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডে হিজবুল্লাহ দাখিল মাদ্রাসার এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিরুদ্ধে ভুয়া সনদ দিয়ে চাকরি করে আসছে। চাকরির আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় শিক্ষাগতযোগ্যতা ছিল না। কিন্তু মোঃ সাদ্দাম হোসেন ভূয়া সনদ জমা করার পর বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নজরে আসলে তৎকালীন যশোর ৪ আসনের সাবেক এমপি রনজিত কুমার রায়ের একক ক্ষমতাবলে তার মৌখিক আদেশে ভূয়া সনদধারি মোঃ সাদ্দাম হোসেন নিয়োগ পেয়ে যায় বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সেই থেকে বিষয়টি আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে। এমনকি এবিষয়ে একাধিকবার বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইনে নিউজ প্রকাশিত হয়। যা পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি গঠন পযন্ত সীমাবদ্ধ থেকে গেছে। আর আলোচিত মোঃ সাদ্দাম হোসেন থেকে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। উল্লেখ ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারিতে হিজবুল্লাহ দাখিল মাদ্রাসায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে যোগদান করেন মোঃ সাদ্দাম হোসেন। তার বাড়ি মাদ্রাসার পাশের গ্রামে গোয়াখোলা ৫ নং ওয়ার্ডে। চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি ২৯/১/২৩ শে ৮ম শ্রেণির একটি ভূয়া সনদ জমা দেন। সেই ভূয়া সনদে তার নিয়োগ হয়। এবং নিয়মানুযায়ী প্রতিমাসে ৮হাজার ২ শ ৫০ টাকা করে বেতন তুলে যাচ্ছেন। সনদ জালিয়াতির বিষয়ে সাদ্দামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ দেখেই কর্তৃপক্ষ তাকে ওই পদে নিয়োগ দিয়েছে। এবিষয়ে সিরাজকাটি দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রেমাশিষ মন্ডল ভূয়া সনদ ইসু করারর কথা স্বীকার করে জানান, সাদ্দাম হোসেন ট্রেড লাইসেন্স ও মোটর ম্যাকানিকের কথা বলে সনদ আমার থেকে নিয়েছিলো, সাদ্দাম হোসেন আমার স্কুলে কোনদিন পড়া লেখা করেনি। পরবর্তীতে জানলাম আমার দেওয়া সনদে সে সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে। এ বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা সাদ্দামের নিয়োগ পরিক্রীয়া চলাকালীন আমাকে সনদের বিষয়ে জিগ্যেস করেছিলো আমি যা সত্যি তাই বলেছিলাম। সাদ্দাম কোনদিন আমার স্কুলে ভর্তি বা পড়ালেখা করেনি। আর সনদ যখন দিয়েছি স্কুলটি এমপি ভুক্ত ছিলোনা যে কারনে আমি এতোটা বুঝতে পারিনি। এবিষয়ে নওয়াপাড়া হিজবুল্লা দাখিল মাদ্রাসার সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, পুরাতন কমিটি ভেঙে দেওয়ায় সাদ্দামের বিষয়ে তদন্ত করা বন্ধ রয়েছে। নতুন কমিটি হলে তাই নতুন করে কার্যক্রম চালু হবে এর আগে কিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না। এবিষয়ে অভয়নগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, তার নিয়োগের সময় সনদ যাচাই করা হয়নি এবিষয়ে তদন্তের জন্য কোন আদেশ আসেনি। এব্যাপারে কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।