যশোরের অভয়নগরে সিদ্দিপাশা ইউনিয়নের আমতলা ভূমি অফিসের সাবেক (অবঃ) নায়েব প্রশান্ত কুমার ও অফিস সহকারী মাসুদের ঘুষ বানিজ্যের মাধ্যমে লাখ-লাখ টাকা আদায় করে লোপাট করে রয়েছে বহালতবিয়তে। জনসাধারণের প্রশ্ন ওই অবৈধ ঘুষ গ্রহনকারী ২ জনের খুঁটির জোর কোথায়। সাধারণ মানুষের মাঝে চলছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। অন্যদিকে ওই ২ জন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না করায় তারা রয়েছে বহালতবিয়তে। উল্লেখ উপজেলা ভূমি অফিসের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রফিকুল ইসলাম সরকারি জমি অবৈধ দখলে থাকা আমতলা বাজার থেকে উদ্ধার করা করেন। যে জমিতে অবৈধ দখল করে বিভিন্ন মার্কেট বহুতল ভবন নির্মান করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ব্যবসা করে আসছিলো। ওই জমিতে সরকারি জমি উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টানানো হয়। ফলে ওই এলাকার প্রভাবশালী মহল ওই জমি সরকারি ভাবে বন্ধবস্ত পেতে দৌড় ঝাপ শুরু করে। যে কারনে সুযোগ সন্ধানী স্থানীয় আমতলা ভূমি অফিসের তৎকালীন নায়েব প্রশান্ত কুমার ও অফিস সহকারী মাসুদ শুরু করেন ঘুষ বানিজ্য। যে কারনে সরকারি ওই জমি বন্ধবস্ত করে দেওয়ার অজুহাতে ১৮/ ২০ জনের কাছ থেকে ২০/২৫ হাজার টাকা করে আনুঃ ৫ লাখ টাকা আদায় করে লোপাট করে। এসংক্রান্ত ঘুষের টাকা গ্রহনের কথা ওই ভুমি অফিসে কর্মরত মাসুদ স্বীকার করে জানান, টাকা নেওয়া হয়েছিলো কিন্তু ওই টাকা সব নায়েব নিয়েছিলো আমি সামান্য কর্মচারি আমার কোন দোষ নেই। এব্যাপারে ওই ভূমি অফিসে তৎকালীন কর্মরত সাবেক (অবঃ) নায়েব প্রশান্ত কুমার ঘুষ গ্রহনের কথা অস্বীকার করে জানান, অনেক আগের ঘটনা ওই সময় আমাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার আদেশে আমি শুধু প্রতিবেদন দিয়েছিলাম কোন টাকা গ্রহন করা হয়নি। এব্যাপারে আমতলা বাজার কমিটির সভাপতি সিরাজ মোল্লা জানান, দোকান ঘরের জমি বন্ধবস্ত দেওয়ার কথা বলে সকলের কাছ থেকে যে টাকা নিয়েছিলো, সেই টাকা জমি বন্ধবস্ত পেতে লেগেছে বলে ভূমি অফিসের অফিস সহকারী মাসুদ আমাদের জানিয়েছে। টাকা নিয়ে জমি বন্ধবস্ত না হওয়ায় আমরা অনেকবার আমতলা ভূমি অফিসে সালিশ দেনদরবার করেছি অবশেষে বন্ধবস্ত পাওয়ার একটা ব্যবস্থা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। উল্লেখ গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকায় ওই ২জন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঘুষ কান্ডের নিউজ প্রকাশিত হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ধরনের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে সুশীল সমাজসহ সচেতন মহলের প্রশ্ন অপরাধীরা কি অপরাধ করে এমন ভাবেই পার পেয়ে যায়। সচেতন মহলের দাবি অনতিবিলম্বে উপজেলার আমতলা ভূমি অফিসের সাবেক (অবঃ) নায়েব প্রশান্ত ও ওই অফিসে বর্তমান কর্মরত সহকারী মাসুদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এবিষয়ে অভয়নগর সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, কেউ এব্যাপারে অভিযোগ করেনি অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।