যশোরের অভয়নগর উপজেলায় গত ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ পযন্ত স্কুল- মাদ্রাসায় নিয়োগের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। এব্যাপারে জাতীয় আঞ্চলিকসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় বার বার নিয়োগ বানিজ্যের সংবাদ প্রচারিত হলেও সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নেওয়া হয়নি কোন কার্যকরী পদক্ষেপ। ফলে নিয়োগ বানিজ্যের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওহাব ও তিনবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য রনজিত কুমার রায়ের একছত্র অধিপত্যের কারণে অভয়নগর উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো দুর্নীতির আখড়াই পরিনত হয়ে পড়ে। যে কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে সংসদ সদস্যর মনোনীত ব্যক্তিকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করা হয়। সেই সকল ব্যক্তিরা অদক্ষ ব্যক্তিদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যে কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। অন্যদিকে সাবেক সংসদ সদস্যর মনোনীত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকদের যোগসাজশে ঢালাওভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোই নিয়োগের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাট করার একাধিক অভিযোগ থাকা স্বত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে কোনও কর্ণপাত করা হয়নি। ফলে একক ছত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে বানানো হয়েছিলো অনিয়ম দুর্নীতির আখড়া। বিগত বছরগুলোতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য রনজিত কুমার রায়ের একছত্র অধিপত্যে বিস্তারের কারণে অভয়নগরের মুক্তিকামী সাধারণ মানুষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে নিয়োগ বানিজ্যের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাট হলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেনি। বরং কেউ প্রতিবাদ করলে তার উপর জুলুম অত্যাচারের কোন শেষ ছিলোনা। ফলে দীর্ঘ ১৫ বছরে উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে নিয়োগের নামে প্রহসনের শেষ ছিলোনা। সূত্রে আরো জানা গেছে, অভয়নগর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সহযোগিতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ প্রধান শিক্ষকগণ স্থানীয় সংসদ সদস্যর মন রক্ষার্থে ব্যাপক ভাবে সকলের যোগসাজশে নিয়োগের নামে করা হয়েছে কোটি কোটি টাকা লোপাট। তথ্য সূত্রে আরো জানা গেছে নিয়োগ বানিজ্যের কোটি কোটি টাকা লোপাটের স্থানীয় সংসদ সদস্যর আদেশে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার মিলে কিছু ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে বাকি কোটি কোটি টাকা সংসদ সদস্য রনজিত কুমার রায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জনসাধারণের বর্তমান একটাই দাবি ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পযন্ত অভয়নগর উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যতোগুলো নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের নিয়োগ বাতিলসহ নিয়োগ বানিজ্যের সাথে যারা জড়িত তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সূত্রে আরো জানা গেছে অভয়নগর উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠাএকক ক্ষমতার বিস্তারে অনিয়ম দুর্নীতির শেষ ছিলোনা। সংসদ সদস্য রনজিত কুমার রায়ের মনযুগিয়ে চলা কিছু আ.লীগের কতিপয় নেতাদের মাধ্যমে চালিয়ে যাওয়া হয় নিয়োগ বানিজ্যের কোটি-কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে তথ্য অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সূত্রে আরো জানা গেছে, সকল নিয়োগের অজুহাত হিসাবে স্কুল গুলোর প্রধান শিক্ষকগণ জানান, সকল নিয়োগে টাকা নেওয়ার একটাই উদ্দেশ্য ছিলো স্কুল উন্নয়ন। কিন্তু কোটি-কোটি টাকা নিয়োগ বানিজ্য করা হয়েছে। যার সমুদয় টাকা ক্ষমতার দাপটে লোপাট করা হয়েছে। উপজেলার কোন বিদ্যালয়ে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
অন্যদিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলামের কাছে নিয়োগ বানিজ্যের বিষয়ে একাধিক বার প্রশ্ন করা হলেও তিনি সবসময় নিয়োগ বানিজ্যের কথা অস্বীকার করে গেছে। অথচ উপজেলা সকল নিয়োগ বানিজ্যের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের না জানার কোন সুযোগ নেই। এব্যাপরে যশোর ৪ সংসদ আসনের সাবেক সাংসদ সদস্য রণজিৎ কুমার রায়ের কাছে অভয়নগর উপজেলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বানিজ্যের কথা জানার জন্য ০১৭১১৯৩৪৭৩২ নং মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। যে কারনে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এবিষয়ে অভয়নগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম নিয়োগ বানিজ্যের বিষয়ে কিছু জানা নেই বলে তিনি জানান।